বাংলাদেশ, , বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২

কোরবানি : আত্মশুদ্ধির বহতা নদী

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-০৯-২৩ ১৭:৩৫:১৭  

মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম
দুয়ারে ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহা মোমিনের ঈমানের পরীক্ষা। ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণ। ঈদের দিনে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে নিজের পশুত্বকে বিলোপ করে মনুষ্যত্ববোধকে জাগিয়ে তোলা। আর হৃদয়ে ঈমানের কালি দিয়ে এঁকে দেয়া- ‘কোরবানি আত্মত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির এক বহতা নদী।’ এটাই ঈদুল আজহা উদযাপন ও কোরবানি করার ঈমানি দাবি। কোরআন-হাদিসের শিক্ষা। ধর্মের আবেদন। সামাজিক স্ট্যাটাস রক্ষার্থে কিংবা লৌকিকতার ঘোরে আটকে পড়ে পশু জবেহ করা কোরবানির উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহর তুষ্টি অর্জন এবং আত্মশুদ্ধি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর কাছে পৌঁছে না তাদের (কোরবানির পশুগুলোর) গোশত এবং রক্ত, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া (নিয়ত, আল্লাহভীতি)।’ (সূরা হজ : ৩৭)।
ইবরাহিম (আ.) কোরবানি করে আল্লাহর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর তিনি (ইসমাঈল আ.) যখন তার বাবার সঙ্গে কাজ করার মতো বয়সে উপনীত হলেন তখন ইবরাহিম (আ.) বললেন, বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে আমি জবেহ করছি (নবীদের স্বপ্ন অবশ্য পালনীয় বার্তা ‘ওহি’)। এখন তোমার অভিমত কী? বলো।’ তিনি বললেন, ‘হে আমার বাবা! আপনি যে ব্যাপারে আদিষ্ট হয়েছেন তা বাস্তবায়ন করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় শিগগিরই আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন।’ যখন তারা উভয়ে আনুগত্য (বাবা কোরবানি করতে ও ছেলে কোরবানি হতে) প্রকাশ করলেন এবং ইবরাহিম (আ.) তার ছেলেকে কাত করে শায়িত করলেন, তখন আমি (আল্লাহ) তাকে আহ্বান করে বললাম, ‘হে ইবরাহিম! তুমি তো স্বপ্নাদেশ সত্যই পালন করলে! এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি। নিশ্চয়ই এটি ছিল একটি স্পষ্ট ও বড় পরীক্ষা। আমি তাকে (ইসমাঈলকে) মুক্ত করলাম এক কোরবানির (বেহেশত থেকে প্রেরিত একটি দুম্বা) বিনিময়ে। আমি এটি পরবর্তীদের স্মরণে রেখেছি।’ (সূরা সাফফাত : ১০২-১০৮)।
একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশেই কোরবানি করতে নবী (সা.) আদিষ্ট হয়েছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।’ (সূরা কাউসার : ২)। তাফসিরে ইবনে কাছিরে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘তুমি তোমার ফরজ-নফল সব নামাজ এবং কোরবানি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশে আন্তরিকতার সঙ্গে বিশুদ্ধভাবে পেশ করো। এবং ইবাদত করো এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টার, যার কোনো শরিক নেই।’ (তাফসিরে ইবনে কাছির : ৪/৫৯৪)। শুধু নামাজ-রোজা-কোরবানি নয়, বান্দার গোটা জীবনই আল্লাহর দাসত্বে নিবেদিত। জীবন-মরণ, ত্যাগ-সাধনা সবকিছুই তাকে ঘিরে। আল্লাহ তায়ালা নবী (সা.) থেকে এ কথার স্বীকারোক্তিও নিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘বলো, আমার নামাজ, আমার ইবাদত (কোরবানি ও হজ), আমার জীবন ও আমার মরণ জগৎগুলোর প্রতিপালক আল্লাহরই উদ্দেশে। তার কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই (কোরবানির) জন্য আদিষ্ট হয়েছি। আমিই প্রথম মুসলিম।’ (সূরা আনআম : ১৬২)।
রাসুল (সা.) একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশে কোরবানি করতে আদিষ্ট হয়ে তা বাস্তবে রূপায়িত করেছেন নিজ জীবনে। তার উম্মতও যেন কোরবানির উদ্দেশ্য বিস্মৃত না হয় সে জন্য উদ্দেশ্য-স্মরণকারী একটি দোয়া পাঠ করে তিনি কোরবানির পশু জবেহ করতেন।
মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম
খতিব, জামিয়া ইসলামিয়া ইসলামবাগ চকবাজার, ঢাকা।

পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা