বাংলাদেশ, , শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩

হজের মহান স্লোগান

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-০৯-২৩ ১৭:৩২:৪৫  

আলী হাসান তৈয়ব

হজের গুরুত্বপূর্ণ আমল তালবিয়া পাঠ করা। তালবিয়া হলো, (উচ্চারণ) লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক। অর্থাৎ ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ, আমি হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয় সব প্রশংসা ও নিয়ামত তোমার এবং রাজত্বও, তোমার কোনো শরিক নেই।’ (বোখারি : ৫৪৬০)।
তালবিয়াটি ইবনে ওমর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এ শব্দমালায় আর কিছু যোগ করতেন না।’ (বোখারি : ৫৯১৫)। হাদিসের অন্য কিছু বর্ণনায় ঈষৎ শব্দ পরিবর্তনসহও এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) এর বর্ণনা মতে, তালবিয়ায় রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, লাব্বাইকা ইলাহাল হককি লাব্বাইক। ‘আমি হাজির, সত্য ইলাহ! আমি হাজির’। (ইবনে মাজাহ : ২৯২০)। বিদায় হজে কোনো কোনো সাহাবি উপর্যুক্ত তালবিয়ার পরে (লাব্বাইকা জাল মাআরিজ) বলেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তা শুনে কিছু বলেননি। (মুসনাদে আহমাদ : ১৪৪৪০)। আবার ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলতেন, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা ওয়া সা’দাইক, ওয়াল খইরু বিইয়াদাইক, লাব্বাইকা ওয়ার রগবাউ ইলাইকা ওয়াল আমল।’ অর্থাৎ ‘আমি হাজির হে আল্লাহ আমি হাজির। আমি হাজির একমাত্র তোমারই সন্তুষ্টিকল্পে। কল্যাণ তোমার হাতে, আমল ও প্রেরণা তোমারই কাছে সমর্পিত।’ (মুসলিম : ১১৮৪)। উপরোক্ত তালবিয়াগুলো পাঠ করতে কোনো সমস্যা নেই। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবিদের ব্যবহৃত শব্দমালার বাইরে যাওয়া যাবে না।
তালবিয়া পড়ার নিয়ম  
পুরুষরা ইহরাম বাঁধার সময় ও পরে উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠ করবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার কাছে জিবরাঈল (আ.) এসে আদেশ দিলেন। আমি যেন আমার সাথীদের তালবিয়া দ্বারা তাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করতে নির্দেশ দেই।’ (আবু দাউদ : ১৮১৪)।
পুরুষ-মহিলা সবার ক্ষেত্রেই তালবিয়া পাঠ ও অন্য জিকিরগুলোর গুরুত্ব সমান। পার্থক্য এতটুকু, মহিলারা পুরুষের মতো উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠ করবে না। নিজে শুনতে পারে এতটুকু আওয়াজে মহিলারা তালবিয়া পাঠ ও অন্য জিকিরগুলো করবে।
ইবনে আবদুল বার বলেন, আলেমরা এ ব্যাপারে একমত যে, মহিলাদের ক্ষেত্রে কণ্ঠস্বর উঁচু না করাই সুন্নত। মহিলারা এমনভাবে তালবিয়া পাঠ করবেন যেন তারাই শুধু শুনতে পান। তাদের আওয়াজে ফেতনার আশঙ্কা আছে বিধায় তাদের স্বর উঁচু করাকে অপছন্দ করা হয়েছে। এ কারণে তাদের জন্য আজান ও একামত সুন্নত নয়। নামাজে ভুল শুধরে দেয়ার ক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য সুন্নত হলো তাসফিক তথা মৃদু তালি দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা। (বোখারি : ৬৮৪)। অথচ পুরুষদের ক্ষেত্রে তা হচ্ছে, তাসবিহ বা সুবহানাল্লাহ বলে ইমামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, মহিলারা স্বর উচ্চ করে তালবিয়া পাঠ করবে না।
ওমরাকারী ব্যক্তি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ শুরু করার আগ মুহূর্তে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করবে। আর হজ পালনকারী ব্যক্তি কোরবানির দিন জামরাতুল ‘আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপের আগ মুহূর্তে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করবে। ফজল ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) জামরাতুল ‘আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ না করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতেন।’ (বোখারি : ১৫৪৪; মুসলিম : ১২৮১)।
তালবিয়া পাঠের ফজিলত 
তালবিয়া পাঠ হজ-ওমরার স্লোগান। কেননা তালবিয়া পাঠের মধ্য দিয়ে হজ ও ওমরায় প্রবেশের ঘোষণা দেয়া হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তালবিয়াতে স্বর উঁচু করার জন্য জিবরাঈল আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ এটি হজের বিশেষ স্লোগান।’ (ইবনে খুজাইমাহ : ২৬৩০)।
জায়েদ ইবনে খালিদ জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘জিবরাঈল (আ.) আমার কাছে এলেন অতঃপর বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন, যেন আপনি আপনার সাথীদের নির্দেশ প্রদান করেন যে, তারা যেন তালবিয়া দ্বারা স্বর উঁচু করে। কারণ এটি হজের নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।’ (তাবরানি : ৫১৭২)।
তালবিয়া পাঠ হজ-ওমরার শোভা 
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘অমুকের ওপর আল্লাহর অভিশাপ! তারা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনের ইচ্ছা করে তার শোভা মিটিয়ে দিল। আর নিশ্চয় হজের শোভা হলো তালবিয়া।’ (মুসনাদ আহমদ : ১/২১৭)।
৩. যে হজে উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া করা হয় সেটি সর্বোত্তম হজ। আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত নবী করিম (সা.) কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন হজটি সবচেয়ে উত্তম? অন্য বর্ণনায় এসেছে, জিজ্ঞেস করা হলো, ‘হজের মধ্যে কোন আমলটি সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন, উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠ করা এবং পশুর রক্ত প্রবাহিত করা।’ (তিরমিজি : ২৯২৪)।
৪. তালবিয়া পাঠকারীর সঙ্গে পৃথিবীর জড় বস্তুগুলোও তালবিয়া পড়তে থাকে। সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক মোমিন ব্যক্তি যে তালবিয়া পড়ে তার সঙ্গে তার ডান-বামের গাছ-পাথর থেকে শুরু করে সবকিছুই তালবিয়া পড়তে থাকে। যতক্ষণ না ভূপৃষ্ঠ এদিক থেকে ওদিক থেকে অর্থাৎ ডান থেকে এবং বাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’ (তিরমিজি : ১৬৫৬)।

পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা