বাংলাদেশ, , শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২

ইসলামে দোয়ার গুরুত্ব

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-০৯-২৩ ১৭:০৭:১৪  

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী
‘দোয়া’ আরবি শব্দ; এর অর্থ আহ্বান করা, প্রার্থনা করা, আবেদন করা বা চাওয়া। মানুষকে নানা প্রয়োজনে বিভিন্নজনের কাছে আবেদন করতে হয় এবং তারা তা করেও থাকে। যিনি আবেদন গ্রহণ করেন এবং প্রার্থিত বস্তু প্রদান করেন অথবা আবেদন ছাড়াই যে কোনো কিছু দান করেন তিনি হলেন দাতা। সব কিছুর স্রষ্টা ও প্রকৃত মালিক যেহেতু আল্লাহ, তাই আল্লাহ হলেন সব দাতার মহাদাতা। সুতরাং আমরা সবকিছু আল্লাহর কাছেই চাইব এটাই হলো ইসলামের শিক্ষা। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) স্বীয় চাচা হজরত আব্বাস (রা.) কে বলেছেন, ‘যখন কিছু চাইবেন, তখন আল্লাহর কাছেই চাইবেন; যদি সাহায্য প্রার্থনা করবেন, তবে আল্লাহর কাছেই করবেন।’ (তিরমিজি)। কারণ আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনের সূচনাতে সূরা ফাতেহার মাধ্যমে মানুষকে ‘দোয়া’ বা প্রার্থনা শিখিয়েছেন, ‘আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন।’ (সূরা ফাতেহা : ৫)। যার কারণে সূরা ফাতেহার ২৭টি নামের মধ্যে একটি নাম হলো ‘সূরাতুদ দোয়া’ বা প্রার্থনার সূরা। এছাড়া আল্লাহ তায়ালা মহাগ্রন্থ আল কোরআনে দোয়া করার জন্য নির্দেশ প্রদানও করেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সূরা মোমিন : ৬০)।
দুআ বা প্রার্থনা না করলে ক্ষতি কী? এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে না, আল্লাহ তার প্রতি নারাজ হন।’ (বোখারি)। সর্বোপরি ইসলামে দোয়া অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কেননা নবী করিম (সা.) বলেছেন ‘দুআ ইবাদতের মূল।’ (মুসলিম)।
দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ বিশেষ সময়, স্থান ও উপলক্ষ রয়েছে। যেমন- (সময় হিসেবে) আরাফার দিন, আশুরার দিন, শবেকদর, শবেবরাত বা নিসফ শাবান, ঈদের রাত্রিদ্বয়, উভয় ঈদের দিন, রমজান মাস, শুক্রবার, বাদ আসর, তাহাজ্জুদের সময়, নামাজের পর ও কাবা ঘরের প্রতি নজর করার সময় ইত্যাদ। (স্থান হিসেবে) কাবা শরিফ, মসজিদুন নবী, মসজিদুল আকসা, মসজিদে খাইফ, মাশআরুল হারাম, কুবা মসজিদ, কিবলাতাঈন মসজিদ, হাতিমে কাবা, হাজরে আসওয়াদ, মুলতাজাম, বাবে কাবা, মুস্তাজার, মিজাবে রহমত, মাকামে ইবরাহিম, মাতাফ, জমজম, সাফা, মারওয়া, মাসআ, জান্নাতুল মুয়াল্লা, জান্নাতুল বাকি, জাবালে রহমত, আরাফাহ, মিনা, মুজদালেফা, জামারাত ইত্যাদি।
(ব্যক্তি ও অবস্থা হিসেবে) পিতামাতা, সন্তানসন্তুতি, বন্ধুবান্ধব, মুসাফির, মজলুম (নিপীড়িত-নির্যাতিত), নেককার, হাজী, গাজী, মুত্তাকী ইত্যাদি। এসব বিষয়ে হাদিসে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে।
মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী
সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম

পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা