বাংলাদেশ, , শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩

চকরিয়ায় খেলার মাঠ দখলে নিয়ে অবৈধ স্থাপনা

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-০৯-২৩ ০৮:২৫:২৯  

চকরিয়া অফিস ঃ
চকরিয়ার স্বনামধন্য চকরিয়া গ্রামার স্কুলের মালিকানাধীন খেলার মাঠটি জবর-দখলে নিয়ে অবৈধভাবে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্কুলের একমাত্র খেলার মাঠটি জবর-দখলে নিয়ে স্থাপনা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। যে কোন মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে একমাত্র খেলার মাঠ জবর-দখলের ঘটনায়। রাতারাতি এই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকাজ বন্ধ না হলে খেলার মাঠ রক্ষায় স্কুলের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচী নিয়ে মাঠে নামতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই জায়গা এবং খেলার মাঠটি ইতিপূর্বেও জবর-দখল চেষ্টার ঘটনায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে স্কুলের হাজারো শিক্ষার্থী মানববন্ধন কর্মসূচী ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপিও প্রদান করে। এর পর জায়গাটি নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নামে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগে জানা গেছে, চকরিয়া পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের হালকাকারা গ্রামের কাকারা মৌজার বিএস ১০০০ ও ৬৯৯ খতিয়ানের (যাহার নামজারী ও জমাভাগ খতিয়ান-১৭৫৭) বিএস ১৯৮,১৯৯ ও ২০০ দাগের আন্দর ২০ শতক জায়গার মালিক চকরিয়া গ্রামার স্কুল। এই জায়গাটি বর্তমানে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু ইতিপূর্বে হালকাকারা জনতা মার্কেটপাড়ার জনৈক কামাল উদ্দিনের ৫ পুত্র তথা গিয়াস উদ্দিন গং ও হালকাকারা গ্রামের মৃত নমিউদ্দিনের ছেলে ওবাইদুল হাকিম স্কুলের এই খেলার মাঠটি জবর-দখলে নিয়ে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালালে আইনি লড়াইয়ে নামেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে  স্কুলের প্রধান মো. রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট’র আদালতের শরণাপন্ন হন এবং এম.আর ৭৮/২০১২ ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৪৪ ধারামতে আবেদন করেন। এই মামলায় আদালতের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিরোধীয় জায়গার তৎকালীন অবস্থা পর্যালোচনা এবং সরজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদন মোতাবেক স্কুলের খেলার মাঠ জবর-দখল চেষ্টা রোধ করতে এবং সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় তপশীলের জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি এবং ওই জায়গায় রিসিভার (ক্রোকাবদ্ধ) নিয়োগ করেন চকরিয়া থানার ওসিকে। বিগত ১২/০৯/২০১২ ইং তারিখে রিসিভার নিয়োগের আদেশ পেয়ে চকরিয়া থানার ওসি তপশীলের জমিতে অনধিকার প্রবেশসহ স্থাপনা নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে থানার ওসি বিবাদীপক্ষকে নোটিশ দেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট’র আদেশ এবং থানার ওসিকে রিসিভার নিয়োগ করা সংক্রান্ত আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে বিবাদীগণ মাননীয় যুগ্ন জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতে একটি ফৌজদারী রিভিশন ১৫৪/২০১৩ দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত দায়েরকৃত রিভিশন মামলা বিগত ০২/০৪/২০১৩ ইংরেজি চুড়ান্ত শুনানী শেষে ২য় পক্ষ বিবাদীগণের মামলা দোতর্ফাসূত্রে নামঞ্জুর করিয়া খারিজ করে দেন এবং নিন্ম আদালতের আদেশ এবং থানার ওসিকে রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশটি বলবৎ রাখেন। এর পর আবারো রিসিভারের দায়িত্ব গ্রহনের জন্য থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত।
চকরিয়া গ্রামার স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, স্কুলের একমাত্র খেলার মাঠটি উম্মুক্ত রাখার জন্য আমরা দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়েছি। আইনি লড়াইয়ে কক্সবাজারস্থ মাননীয় যুগ্ন জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক নিন্ম আদালতের আদেশ বহালও রেখেছেন। কিন্তু বিবাদীগণ এখন আদালতের সেই আদেশ অমান্য করে রাতারাতি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকাজ শুরু করে দিয়েছে। এতে স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তাই স্কুলের খেলার মাঠটি জবর-দখল মুক্ত করে উম্মুক্তভাবে যাতে শিক্ষার্থীরা খেলাচর্চার সুযোগ পায় সেজন্য থানার ওসিসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিক সহায়তা কামনা করছি।
সরজমিন দেখা গেছে, আদালতের আদেশ অমান্য করে বিবাদীগণ বর্তমানে স্কুলের খেলার মাঠে অবৈধভাবে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে পাইলিংয়ের কাজ শুরু করেছে। গত কয়েকদিন ধরে বিরামহীনভাবে এই কাজ চলমান থাকায় শিক্ষার্থীরা কোথায় খেলাধুলা করবে তা নিয়ে সর্বমহলে দুশ্চিন্তা ভর করছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, আদালতের আদেশটি এখনো হাতে পাইনি। আদেশ পাওয়ার পর এ ব্যাপারে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা