বাংলাদেশ, , বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২

মরদেহ দাফনে ‘চাঁদা’ দিতে হয় কক্সবাজারের যে গ্রামে

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-০৯-২২ ১৬:১৫:৩৫  

মহেশখালী প্রতিনিধি॥
মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কালাগাজী পাড়া কবরস্থানে মরদেহ দাফনেও দিতে হচ্ছে মোটা অংকের চাঁদা। এ নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় এক প্রতিবন্ধী যুবকের মৃতদেহ দাফনে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী নিয়ে ক্ষুব্দ এলাকাবাসি সোমবার প্রতিবাদ সভা ও মিছিল করেছে।
পূর্ব কালাগাজী পাড়ার মৃত মৌলভী জালাল আহমদের ছেলে মৌলভী ফয়জুল্লাহ স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় গোরস্থানে মৃতদেহ দাফনে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে । চঁদা না দিলে কালাগাজী পাড়া কবরস্থানে মরদেহ দাফন করতে দেয়া হয় না বলে জানান স্থানীয়রা।
প্রাপ্ত তথ্য ও স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে, ২০ সেপ্টেম্বর কালাগাজী পাড়াস্থ পদ্মপুকুরপাড় এলাকার মৃত ছৈয়দ মিয়ার ছেলে প্রতিবন্ধী টিপু মিয়া (২৩) এর মৃত্যু হয়। ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯ টায় নামাজে জানাজা শেষে দাফনের সময় নির্ধারণ করা হয়। ভোরে কালাগাজী পাড়া কবরস্থানে কবর খনন করতে গেলে ২০ হাজার টাকা চাঁদার দাবীতে কবর খননে বাধা দেয় মৌলভী ফয়জুল্লাহ। পরে মৃত টিপু মিয়ার ৩ ভাই ১০ হাজার টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে ষ্ট্যাম্প দিয়ে সোমবার বেলা ১১ টায় নামাজে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়। জানাজা নামাজের পূর্বে ক্ষুব্দ স্থানীয়রা প্রতিবাদ মিছিল সহকারে জানাজা মাঠে এসে বিক্ষোভ করে।
মৃত টিপু মিয়ার বড় ভাই মোহাম্মদ রফিক জানান, “আমার প্রতিবন্ধী ভাই টিপু মিয়া অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বরন করে। তার মৃতদেহ দাফন করতে স্থানীয় কালাগাজী পাড়া কবরস্থানে কবর খনন করতে গেলে প্রভাবশালী ব্যক্তি মৌলভী ফয়জুল্লাহ ২০ হাজার টাকা দাবী করে।
তিনি বলেন, আমাদের দরিদ্রতার কথা জানানো হলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। সোমবার সকাল ৯ টায় জানাজার সময় নির্ধারন করা থাকলেও কবর খনন করতে দেয়া হয়নি। এতে স্থানীয়দের সহযোগীতায় ১০ হাজার টাকায় দফারফা হয়। নগদ টাকা দিতে না পারায় কবরস্থ করতে রাজী হননি মৌলভী ফয়জুল্লাহ। ক্ষুব্দ স্থানীয়রা মৌলভী ফয়জুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল সহকারে বিক্ষোভ করে। পরে আমার ৩ ভাই শফিকুর রহমান, শাহাবুদ্দিন ও মো: রশিদের কাছ থেকে ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে ১০ হাজার টাকা পরিশোধে সমঝোতা হয়। বেলা ১১ টায় জানাজা শেষে টিপু মিয়ার মরদেহ দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালী ব্যক্তি মৌলভী ফয়জুল্লাহর অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। কবরস্থান পরিচালনা কমিটি ও সমাজ কমিটির নেতারাও তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস করেন না। তবে প্রতিবন্ধী টিপু মিয়ার মৃতদেহ দাফন নিয়ে এই প্রথম স্থানীয় যুবকরা প্রতিবাদ শুরু করেছে।
মৌলভী ফয়জুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন কথা বলতে রাজী হনন।

পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা