বাংলাদেশ, , শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩

মেয়রের নিকট হইতে হতাশা প্রত্যাশিত নহে

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-০৯-২২ ১০:৩১:৫০  

আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স:
ঢাকা শহরের বর্তমান অবস্থাকে হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ারে (আইসিইউ) থাকা রোগীর সহিত তুলনা করিয়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলিয়াছেন যে, রোগী মরিয়া যাইতেছে আর আমরা কেবল গবেষণা করিয়া যাইতেছি। বিচলিত হইবার মতো মন্তব্যই বটে। সেইটি এই কারণে নয় যে এমন কথা আমরা এইবারই প্রথম শুনিলাম। প্রায় দেড় কোটি জনসংখ্যার এই মহানগরের ক্রম-অবনতিশীল পরিবেশ-পরিস্থিতি বিষয়ে দেশিবিদেশি বিশেষজ্ঞরা নানাভাবে তাহাদের হতাশা ব্যক্ত করিয়া আসিতেছেন দীর্ঘদিন যাবত্। বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য মহানগরের তালিকার শীর্ষে উপর্যুপরি ঢাকার অবস্থানও কোনো নূতন বিষয় নহে। বস্তুত উদ্বেগের মূল কারণটি হইল, এই মেয়রই মাত্র কয়েকমাস আগে ঢাকাবাসীকে অনেক আশার বাণী শুনাইয়া মেয়র নির্বাচিত হইয়াছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রত্যয়ের সাথে বলিয়াছিলেন যে, ঢাকার সমস্যাগুলি জানা। তাই তাহার নির্বাচনী প্রচারণার মূল শ্লোগান ছিল ‘সমাধান যাত্রা’। স্বেচ্ছায় সমাধানের গুরুদায়িত্ব যিনি নিজের কাঁধে তুলিয়া লইয়াছেন, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তাহার মুখে এমন হতাশার কথা শুনিলে উদ্বিগ্ন না হইয়া উপায় কী।

 

অবশ্য মেয়রের হতাশার যৌক্তিক কারণও নিশ্চয় আছে। তিনি তাহার কিছুটা আভাসও দিয়াছেন বৈকি। তাঁহার অন্যতম একটি নির্বাচনী ওয়াদা ছিল ফুটপাতগুলিকে দখলমুক্ত করা। কিন্তু সেই কাজটি করিতে গিয়া তিনি যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হইয়াছেন—তাহা মোটেও সুখকর নহে। মেয়র আনিসুল হকের ভাষায়, সবাই বলেন ফুটপাত হইতে হকার তুলিয়া দেন। রাস্তা দখলমুক্ত করেন। কিন্তু কাজটি অত সহজ নহে। হকাররা টাকা দিয়া বসিয়াছেন। শক্ত শক্ত হাত রহিয়াছে তাহাদের পিছনে। অস্বীকার করিবার উপায় নাই যে দিনে দিনে বহুমাত্রিক সমস্যার যে জঞ্জাল জমিয়া উঠিয়াছে—ইহা বিশাল সেই ডুবো পাহাড়ের চূড়া মাত্র। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে চিরাচরিত সমন্বয়হীনতা তো আছেই। আছে চরম বিশৃঙ্খলা ও যথেচ্ছাচারিতা। ফলে বিস্তর কাঠখড় পোড়াইয়া এ-যাবত্কালে যত পরিকল্পনা গৃহীত হইয়াছে সবই চাপা পড়িয়া গিয়াছে সেই অনিয়ম আর বিশৃঙ্খলার জঞ্জালের নীচে। বলা বাহুল্য, যথেচ্ছাচারিতা কেবল তাহারাই করিতে পারেন যাহাদের অঢেল ক্ষমতা আছে। অতএব, মেয়র অবৈধ দখলদারদের পিছনে যে ‘শক্ত শক্ত হাতের’ প্ররোচনার কথা বলিয়াছেন, সেই হাতের দাপট খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে সর্বত্রই।

 

কিন্তু হাল ছাড়িয়া দিলে চলিবে কেন? সমস্যা ছিল, সমস্যা আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকিবে। সমস্যা আছে বলিয়াই তো নগরবাসী একজন যোগ্য ব্যক্তিকে মেয়র নির্বাচিত করিয়াছেন। বিপুল অর্থ ব্যয় করিতেছেন দুই-দুইটি সিটি কর্পোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি দফতরের পিছনে। সর্বোপরি, ভুলিয়া গেলে চলিবে না যে চার শতাধিক বত্সর আগে বুড়িগঙ্গার তীরে অতি ক্ষুদ্র যে-নগরটির পত্তন হইয়াছিল, সেই ঢাকাই এখন কেবল দেড় কোটি নাগরিকের গুরুভারই নহে, বলিতে গেলে গোটা বাংলাদেশের ভারই বহন করিতেছে। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কয়েক দশকের আগের ঢাকা আর বর্তমান ঢাকা যে এক নহে— তাহাই-বা আমরা অস্বীকার করিব কিভাবে? সমস্যার পাহাড় ঠেলিয়াই ঢাকা এতদূর আসিয়াছে। অতএব, সমস্যার বিশালতা দেখিয়া বিচলিত হইলে চলিবে কেন? বিশেষ করিয়া স্ব-ইচ্ছায় মেয়রের মতো গুরুদায়িত্ব যাহারা কাঁধে নিয়াছেন—তাহাদের নিকট হইতে এই প্রকার নৈরাশ্যব্যঞ্জক বক্তব্য প্রত্যাশিত নহে। বরং সকল বাধার পাহাড় ঠেলিয়া ঢাকাকে তাহারা আরও আগাইয়া লইয়া যাইবেন— নাগরিকরা এমনটিই আশা করেন।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা