বাংলাদেশ, , শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অচলাবস্থার নিরসন প্রয়োজন

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-০৯-২২ ১০:৩০:০০  

আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স:
প্রাথমিক শিক্ষা হইল একটি জাতির শিক্ষাক্রমের প্রধান ও বুনিয়াদি ভিত। দেশের অগণন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সেই ভিত তৈরি হইতেছে দায়সারা ভাবে। প্রায়শই পত্রিকান্তরে এমন সংবাদ প্রকাশ হইতে দেখা যায় যে, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলিতেছে একজন মাত্র শিক্ষক দিয়া। কোথাও কোথাও সেই শিক্ষক একাই সবকয়টি ক্লাস, স্কুল প্রশাসন, এমন কী পিয়নের কাজও চালাইতেছেন। বিধান অনুযায়ী, সরকারি প্রতিটি স্কুলে কমপক্ষে চারজন করিয়া শিক্ষক থাকিবার কথা। বস্তুত দেশের অধিকাংশ স্কুলেই শিক্ষক-ঘাটতি খুব সাধারণ বিষয়। একটি স্কুলে প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাসের সময় আড়াই ঘণ্টা। আর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে চারটি ক্লাস এবং তৃতীয় হইতে পঞ্চম শ্রেণি অবধি ৪৫ মিনিটের ছয়টি ক্লাস হইবার কথা। শিক্ষক-ঘাটতিতে যে এইসকল ক্লাস কার্যক্রম ব্যাহত হইতেছে—তাহা বলিবার অপেক্ষা রাখে না। ঘাটতি মিটাইতে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সেই চলমান প্রক্রিয়ায় এমনিতেই বিবিধ প্রতিবন্ধকতা আসিয়া শিক্ষক-শূন্যতায় পূর্ণতা আসে না কখনই, তাহার সহিত সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে যুক্ত হইয়াছে নূতন সমস্যা। প্যানেলভুক্ত প্রার্থী ও পুলভুক্ত শিক্ষকদের মামলার চাপে অচলাবস্থা দেখা দিয়াছে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায়।

 

জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষক পুল নীতিমালা, ২০১৪ অনুযায়ী উপজেলা-থানা পর্যায়ে পুল গঠন করা হয়। নিয়োগবিধিতে নির্ধারিত যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে ন্যাশনাল সার্ভিসের সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয় এই পুলে। তবে বলা হয় যে, পুলে অন্তর্ভুক্ত শিক্ষকের সংখ্যা সারা দেশে সর্বোচ্চ ২০ হাজারের মধ্যে থাকিতে হইবে। এই পুল অন্তর্ভুক্তিতে পাঁচটি শর্ত রহিয়াছে, যাহার একটি হইল— এই নিয়োগ নিয়মিত হইবে না এবং ইহা স্থায়ী হইবারও নিশ্চয়তা প্রদান করিবে না। এমতাবস্থায় গত বছরের ডিসেম্বরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হইলে পুলের শিক্ষকেরা আইনের আশ্রয় গ্রহণ করিয়া নূতন নিয়োগের পূর্বে তাহাদের নিয়োগের দাবি জানান। অতঃপর হাইকোর্ট শিক্ষক নিয়োগের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন, যাহা এখনো বহাল রহিয়াছে।

 

পুলভুক্ত শিক্ষকদের মামলায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত এক বত্সর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকিলেও ১৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের জন্য ১০ মাস আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হইয়াছিল। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই পুলভুক্ত শিক্ষকদের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। অথচ এসব পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য প্রায় ১০ লাখ প্রার্থী আবেদন করিয়াছেন। আরও মুশকিলের বিষয় হইল, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া এসব পদ যেমন শূন্য থাকিতেছে, তেমনি নতুন প্রায় পাঁচ হাজার পদ শূন্য হইয়া পড়িয়াছে গত এক বত্সরে। জানা যায়, ২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৭ হাজার। ওই বছর জানুয়ারিতে আরও ২৬ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হইলে সর্বসাকুল্যে বর্তমানে সরকারি বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৩ হাজারের অধিক। এসব স্কুলে কমপক্ষে ৩০ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদ খালি রহিয়াছে। সার্বিকভাবে ব্যাহত হইতেছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম।

 

প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের অবকাঠামোর সব কিছু থাকিলেও যদি পাঠদানের উপযুক্ত ন্যূনতম শিক্ষক না থাকে, তবে কোমলমতি সিংহভাগ শিশুর শিক্ষার ভিত নড়বড়ে থাকিয়া যাইবে। তাহা হইবে অপূরণীয় ক্ষতি। সুতরাং প্রায় তিন-চার বত্সর ধরিয়া এই দুই ধরনের শিক্ষক নিয়া সৃষ্ট জটিলতা ও আইনি যুদ্ধের সত্বর অবসান প্রয়োজন।

পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা