বাংলাদেশ, , শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২

এই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয় : সাবের হোসেন

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-০৯-২২ ০৯:২৮:০২  

আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স:
untitled-2_27394নশ্বর পৃথিবীর মায়া ছেড়ে অবিনশ্বর জগতে চলে গেছেন সাবেক আইসিসি সভাপতি ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি জগমোহন ডালমিয়া। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ওডিআই ও টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জনের পেছনে তার অসামান্য অবদানের প্রত্যক্ষ সাক্ষী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তৎকালীন সভাপতি ও বর্তমানে আন্তর্জাতিক পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেছেন প্রয়াত ডালমিয়ার প্রতি। ডালমিয়া সম্পর্কে সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তার কাকরাইলের কার্যালয়ে বসে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি গভীরভাবে শোকাহত। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা সংগঠকদের যে তালিকা, সেই তালিকার প্রথম সারিতেই জগমোহন ডালমিয়ার নাম থাকবে। ক্রিকেটের বিশ্বায়ন বলতে যে কথাটি আমরা শুনি, তা জগমোহন ডালমিয়ার চিন্তার ফসল। টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্রিকেটের ব্যাপক প্রসার ও প্রচারের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার উদ্যোগও ডালমিয়ার। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে তিনি অকৃত্রিমভাবে ভালোবাসতেন। বাংলাদেশকেও ভালোবাসতেন এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিশ্বাঙ্গনে একদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ যে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এ কথা তিনি সব সময় বলতেন। এবং আমার বিশ্বাস, গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ যে পারফরমেন্স করেছে তাতে তিনি অত্যন্ত খুশি ছিলেন। বাংলাদেশকে তিনি ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেও ভেবেছেন।’সাবের আরও বলেন, ‘উপমহাদেশের ক্রিকেটকে কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায় এবং এই উপমহাদেশের ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোকে কিভাবে একই সুতোয় গেঁথে ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখা যায়, এটাও ছিল ডালমিয়ার ধ্যান-জ্ঞান। আমার বলতে দ্বিধা নেই, আজ ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্ক কোথায়? অথচ ডালমিয়া নিজ উদ্যেগে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে অত্যন্ত সুন্দর ও স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পেরেছিলেন। তার শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি যে ভিত গড়ে দিয়েছেন, তা বর্তমান নেতৃত্ব অব্যাহত রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আমি শঙ্কিত? ‘বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাসের জন্য ডালমিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল উল্লেখ করে সাবের চৌধুরী বলেন, ‘তিনি বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার অন্যতম রূপকার। তিনি প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত করে দিয়েছেন ১৯৮৮ সালে ‘উইলস ইন্টারন্যাশনাল কাপ’ বা মিনি বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশকে নির্বাচিত করে। ওই বছর ঢাকায় বন্যা হয়েছিল এবং ভারত উদগ্রীব হয়ে এ টুর্নামেন্টটি তাদের দেশে করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু জগমোহন ডালমিয়া ঢাকায় এসে সব আশঙ্কা দূর করে মুহূর্তের সিদ্ধান্তে ঢাকাকে এই টুর্নামেন্টের ভেন্যুর কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি শুধু জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তোমরা পারবে?’আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আধুনিকায়নের জন্য ডালমিয়ার নানমুখী ভূমিকা ছিল মনে করেন সাবের। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের যে আধুনিক ব্যবস্থাপনা তাও জগমোহন ডালমিয়ার চিন্তার ফসল। ডালমিয়া থাকলে আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন মোড়লের আবির্ভাব হতো না। এটি ক্রিকেটের বিশ্বায়নের যে প্রক্রিয়া তার প্রতিবন্ধক। তিনি সব সদস্যকে সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। আইসিসিরি সভাপতি হিসেবে আজ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে দলের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, অথচ অন্য সব খেলায় শীর্ষ পর্যায়ে দলের সংখ্যা বাড়লেও ক্রিকেটে শীর্ষ পর্যায়ে দলের সংখ্যা বাড়ছে না।’টেস্ট স্ট্যাটাসের জন্য সরকার জগমোহন ডালমিয়ার অবদানের যথার্থ স্বীকৃতি দেবেন মনে করেন সাবের হোসেন। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর যদি আমরা জাতীয় অর্জনের দিকে তাকাই, তাহলে আমি বলব ২০০০ সালে অর্জিত টেস্ট স্ট্যাটাস অন্যতম জাতীয় অর্জন। সারাদেশের মানুষকে একই মঞ্চে দাঁড় করিয়েছে এই টেস্ট স্ট্যাটাস। ক্রিকেটে সাফল্য, ব্যর্থতা সারাদেশের মানুষ ভাগাভাগি করে নিয়েছে। এর অন্যতম রূপকার জগমোহন ডালমিয়া।আমি আশা করব বাংলাদেশ সরকার তার এই অবদানের যথার্থ স্বীকৃতি দেবে।’ বাংলাদেশের ক্রিকেটের সম্ভাবনাকে জগমোহন ডালমিয়া সব সময় সমর্থন দিয়েছেন। তার বিশ্বাস বৃথা যায়নি বলেই মনে করে এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ। তার সমর্থনেই বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জিত হয় আর তার উদ্যেগেই স্বল্প সময়ে ভারত ঢাকায় টেস্ট খেলতে আসে। শুরু হয় বাংলাদেশের টেস্ট অভিযাত্রা। জগমোহন ডালমিয়াকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তার আত্মার চির শান্তি কামনা করছি। ওয়েবসাইট।

পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা