বাংলাদেশ, , শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২

হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-০৯-২২ ০৯:০৮:৩২  

আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স:
পবিত্র মক্কা নগরী এখন ভরে আছে গোটা দুনিয়ার ৩০ লাখের বেশি হজব্রতীর পদভারে এক অপার্থিব মুখরতায়। আল্লাহর মেহমানরা “লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক/ইন্নাল হামদা, ওয়ান্নি’মাতা, লাকা ওয়াল মুলক/লা শারিকা লাক…ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মন্দ্রিত করে তুলছেন। আল্লাহর সর্ব শ্রেষ্ঠত্ব, অসীম মাহাত্ম্য আর প্রশংসা অনুক্ষণ ঘোষিত হচ্ছে বেশুমার কণ্ঠে।
ইসলামের মূল পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম এই পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা আজ মঙ্গলবার মক্কা থেকে মিনার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে। গতকাল সোমবারও অনেকে মিনার উদ্দেশে রওনা হন। মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় নয় কিলোমিটার দূরে মিনা। মিনায় কেউ যাচ্ছেন গাড়িতে, কেউবা হেঁটে। হজের অংশ হিসেবে তারা মিনা, আরাফাতের ময়দান, মুজদালিফায় অবস্থান করবেন। ৮ জিলহজ মিনায় সারা দিন এবং ৯ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে গিয়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। এরপর আরাফাত থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় রাত যাপন ও পাথর সংগ্রহ করবেন তারা। ১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরবেন তারা। মিনায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, কোরবানি ও মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে মক্কায় পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ, সাঈ করবেন। তাওয়াফ শেষে মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান ও প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন।
ইতিমধ্যে হজের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। হজে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তায় সৌদি আরবে নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি প্রায় এক লাখ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মেজর জেনারেল মনসুর আল-তুর্কি আরব নিউজকে বলেন, হজের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রচুরসংখ্যক মানুষ সৌদি আরবে অবস্থান করেন। চলতি বছর হজ করতে সারাবিশ্বের প্রায় ৩০ লাখ মানুষ সৌদি আরবে এসেছেন। তাদের নিরাপত্তায় সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ইউনিট, ট্রাফিক পুলিশ এবং জরুরি সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তাবাহিনীর এসব সদস্যের পাশাপাশি সেনাবাহিনী এবং ন্যাশনাল গার্ডের অতিরিক্ত এক লাখ সদস্য হাজিদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন। আরব নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবে সম্প্রতি দায়েশ গ্রুপের (একটি জঙ্গি সংগঠন) আক্রমণের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। তাদের আক্রমণে চলতি বছর কয়েকজন হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
এবারের হজের আগে মক্কায় মসজিদে হারামে নির্মাণকাজে ব্যবহূত ক্রেন ভেঙে শতাধিক লোক নিহত হয়েছেন। এরপর থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। মসজিদে হারামসহ হাজিদের গমনাগমন স্থানসমূহে বিশেষ নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে তা মনিটরিং করছে সৌদি রাজ পরিবার।
সৌদি আরবের হজ কার্যালয় থেকে জানা গেছে, এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৩০ লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব এসেছেন। এদের মধ্যে লক্ষাধিক বাংলাদেশি রয়েছেন।

 

বাংলাদেশের হাজিরা গতকাল সোমবার মাগরিবের নামাজ  পড়ে মিনার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন

পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা