বুধবার, ২৪ Jul ২০২৪, ০৬:০৯ অপরাহ্ন

উখিয়ার অর্ধশতাধিক স্পটে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব

উখিয়ার অর্ধশতাধিক স্পটে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব

অনলাইন বিজ্ঞাপন

উখিয়া প্রতিনিধি
উখিয়ার বিভিন্ন জায়গায় পাল্লা দিয়ে চলছে পাহাড়া কাটার মহোৎসব। দেশে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আইন থাকলে ও বন বিভাগ রহস্যজনক কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কতিপয় বন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়মিত মাশোহারা দিয়ে পাহাড় খেকোরা দিন দুপুরে উপজেলার সর্বত্রে সরকারী পাহাড় কেটে ডাম্পার যোগে মাটি বিক্রি করলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। এভাবে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক স্পট থেকে সরকারী-বেসরকারী, ব্যক্তি মালিকানাধীন দালান নির্মাণে মাটি ভরাটের কাজে এবং ইট ভাটায় পাহাড়ের মাটি বিক্রয় করছে।
জানা গেছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সদস্যরা উখিয়া রেঞ্জ ও ইনানী রেঞ্জের অধীনে সরকারী বনভূমির পাহাড় থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ফুট মাটি কেটে ট্রাক ও ডাম্পার যোগে স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিক্রয় করে দিচ্ছে। আর বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব দেখেও না দেখার ভান করে বসে আছে। উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে মাটি ভর্তি ট্রাক আটক করলেও পুলিশ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গভীর রাতে আবার ছেড়ে দে । আর এতে মূল হোতারা পার পেয়ে যাচ্ছে। যার ফলে উখিয়ার অর্ধশতাধিক স্পটে অনায়েসে চলছে প্রতিযোগীতা মূলক ভাবে পাহাড় কাটার মহোৎসব।
খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, এ উপজেলার তুতুরবিল, হরিণমারা নালকোয়া ঘোনা এলাকার মৃত মোঃ ইসলামের পুত্র ছৈয়দ ও পুতিয়া রাজাপালং বিট কর্মকর্তা মোঃ আবছারকে ম্যানেজ করে ১১১ নং ডাম্পার গাড়ী যোগে মাটি বিক্রি করে আসছে। এছাড়াও বালুখালীর ইয়াবা বখতার ও ইনানী মোঃ শফিরবিল এলাকার ছৈয়দ আহম্মদের ছেলে মোঃ বেলাল উদ্দিন। পাইন্যাশিয়া, ফলিয়াপাড়া, ইনানী, পাটুয়ারটেক, নিদানিয়া, সোনারপাড়া, চোয়াংখালী, মোঃ শফিরবিল, মনখালী, থাইংখালী বাঘঘোনা, পালংখালী, মুহুরী পাড়া, ভালুকিয়া, হলদিয়া পাতাবাড়ী, হাতিরঘোনা, লম্বাশিয়া, লম্বাঘোনা, কুতুপালং টিভি কেন্দ্রের পশ্চিম পার্শ্বে, মধুরছাড়া, মাছকারিয়া ইনানী এলাকার মোঃ শফির বিল সহ উপজেলার অর্ধশতাধিক স্পটে প্রতিদিন হাজার হাজার ফুট পাহাড়ের মাটি কেটে ইট ভাটা ও স্থাপনা নির্মাণ কাজে ব্যবহার করলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দেশে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আইন থাকলেও আইন প্রয়োগ যথাযথ না হওয়ায় সরকারী বনভূমির পাহাড় কেটে মাটি বিক্রয় থামছে না। এ ভাবে যদি পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকে আগামীতে বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে প্রাণহানীর আশংকা করা হচ্ছে। কারণ যেখান থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ওইসব পাহাড়েও বসত বাড়ী রয়েছে।
হলদিয়া পাতাবাড়ী এলাকার আলী আহমদ জানান, স্থানীয় বিট কর্মকর্তা মোশরাফ হোসেন ও হেডম্যান লাবুকে ম্যানেজ করে পূর্ব হলদিয়া পাতাবাড়ী এলাকা থেকে প্রতিদিন সরকারী বনভূমির পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে একটি মহল। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। একই কায়দায় বালুখালী বিট কর্মকর্তা মোবারক আলী, ইনানী বিট কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন, দৌছড়ী বিট কর্মকর্তা মোঃ আমির হোসেন গজনবী,রাজাপালং বিট কর্মকর্তা আবছার। সচেতন মহলের অভিযোগ পাহাড় কাটার উৎকোচ স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তা ছাড়াও বিভাগীয় বন কর্মকর্তাও পেয়ে থাকে। যার কারনে পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না। ওই সব পাহাড় কাটার মাটি ইট ভাটা ও স্থাপনা নির্মান কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য হারাচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী উপ Ñ পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম জানান, পরিবেশ ধ্বংসকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উখিয়ার সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ সরওয়ার আলম বলেন, তদন্ত পূর্বক পাহাড় কেখোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এতে কোন বনকর্মী বা কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তাদেরকে ও ছাড় দেওয়া হবেনা।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM