শনিবার, ১৩ Jul ২০২৪, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন

শিবির ক্যাডার এখন নাট্যকর্মী !

শিবির ক্যাডার এখন নাট্যকর্মী !

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥

কক্সবাজারের শিবির ক্যাডার এখন নাট্যকর্মী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি রায় বস্তবায়নের সাথে সাথে শিবির ক্যাডার নিজের পরিচয় পাল্টিানোর এ অচেষ্টা বলে মনে করেন সচেতন মহল। তারা রাজনৈতিক অঙ্গন ছেড়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও পা রাখছেন বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে কক্সবাজারের ১০/১৫ মামলার আসমীরা এখন ঢাকায় বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করছেন বলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

তবে এবারে তারা প্রগতির কথা বলে এ অঙ্গনে যাচেছন বলে জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মীরা। তাছাড়া কক্সাবাজার জেলার চিহৃত অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও কোন আইনগত ভূমিকা রাখছেনা পুলিশ। তবে পুলিশ বলছেন, তাদের পাওয়া যাচ্ছে না।

কক্সবাজারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সাংস্কৃতিক ব্যাক্তি জানিয়েছেন, নিজদের আসল পরিচয় গোপন করতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ঢুকে সাংস্কৃতিক জগতকে কুলষিত করতে চাই তারা। আর এতে মদদ দিচ্ছেন চিহ্নিত কয়েকজন সাংস্কৃতিক কর্মী।

Untitled-1 copyজানা যায়, একদিকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে তাদের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি আর দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রীত হারিয়ে বেসামাল হয়ে পড়েছে শিবির। যার ফলে তারা রাজনৈতিক আশ্রয় হারিয়ে এখন সাংস্কৃতিক অঙ্গন দখল করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তাই তারা মুক্তিযোদ্ধের চেতনাধারী লোকজনের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে। তাদের পেছনে প্রয়োজনে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ খরতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত। এমনটি দাবি করেছেন শিবিরের দায়িত্বশীল একটি সূত্র।

তারা আওয়ামীলীগ সর্মথীত পরিচিত লোকজনদের নিকট আত্মীয় পরিচয়ে প্রগতিশীল বিভিন্ন দলে ঢুকে পড়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরিচিত স্থানে তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক বলে প্রচার করে বেড়াচেছ। অনেকে আবার ঢাকায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সাথে ভাব জমানোর অপচেষ্টাও করছে। তাদের টার্গেট হচ্ছে যেকোন কিছুর বিনিময়ে তারা সরকার সমর্থীত যেকোন দলে স্থান পাওয়া।

শিবিরের একটি দায়িত্বশীল সূত্রটি আরো দাবি করেছে, বর্তমানে শিবিরের কঠিন সময় যাচ্ছে। এসময় তাদের টিকে থাক কঠিন হয়ে পড়ছে বিধায় কৌশলগত কারণে তারা বিভিন্ন ছদ্দবেশে সময় কাটাচেছ। সময় হলে তারা খোলস বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেছেন সূত্রটি।

খবর নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি কক্সবাজার সরকারি কলেজ ও চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ শিবিরের হাতছাড়া হওয়ার পর বেকায়দায় পড়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের শিবিরের চিহ্নিত ক্যাডারগুলো। তাদের অবস্থান টের পেলে পুলিশ হানা দিচ্ছে। এমনকি তাদের থাকা খাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে। যার ফলে অনেকে নিজ নিজ গ্রামে কিংবা জামায়াতের বিভিন্ন প্রতিষ্টানে তারা আশ্রয়ে রয়েছে। অনেকে আবার সরকারি দপ্তরে চাকুরি নিতে উঠেপড়ে লেগেছেন। তবে বেকায়দায় রয়েছে অস্ত্রধারী শিবির ক্যাডার। তাই তারা শিবির নিয়ন্ত্রীত সাংস্কৃতিক সংগঠনে ব্যানারে নাটকের দৃশ্যে অভিনয় করে যাচ্ছেন।

পুলিশ তালিকাভূক্ত এসব আসামিদের খুঁজে বেড়াচ্ছে। অথচ তারা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এসব ক্যাডারদের বিরুদ্ধে ৫/৬ টি মামলা থাকলেও কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হচেছ না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান রুবেল জানান, শিবির একটি সন্ত্রাসী জঙ্গি গোষ্ঠি মদদদানকারী সংগঠনের নাম। তারা ইসলামের নাম দিয়ে অপকর্ম করে যাচ্ছে। তাদের অপকর্ম কোনভাবে সহ্য করা হবে না।

এসব সন্ত্রাসীরা শহরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না বলে দাবি করেছেন তিনি।

সম্প্রতি কক্সবাজার সরকারি কলেজ শিবির ক্যাডার পুলিশের উপর সশস্ত্র হামলাকারী ১০/১১ টি মামলার আসামী জাহেদুল গণি তার নিজস্ব পেইজবুক পেইজে নাটকের বিভিন্ন দৃশ্যের ছবি আপলোড করেছেন। সেখানে তিনি কাফি আব্দুল্লাহ পরিচালিত রসুলপুরের গল্প নামে একটি শ্যুটিং এর দৃশ্য তুলে ধরেছেন।

অপরদিকে কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক সভাপতি বিভিন্ন মামলার পালাতক আসামী আতিক সুজন চট্টগ্রামের বাশখালীতে হিজড়া সেজে নাটকে অভিনয় করছেন বলে ছবি আপলোড করেছেন।

কক্সবাজার জেলা খেলাঘর আসর‘র সদস্য সচিব রিদুয়ান আলী জানান, শিবির সাংস্কৃতিক অঙ্গন কুলষিত করতে এ অঙ্গনে আসার ষড়যন্ত্র করছে। আমরা আশা করি পুলিশ দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেবে। অপরাধীদের ধরতে আমরা পুলিশ প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে চাই।

তবে পুলিশ বলছে শিবির কর্মীদের খুঁজে পাওয়া যাচেছ না। অথচ তারা সক্রিয় রয়েছেন সমগ্র দেশে।

সম্প্রতি কক্সবাজার শহরের তারাবনিয়ার ছড়া এলাকায় চিহ্নিত শিবির ক্যাডার জাহেদুল করিম, খোরশেদ আলম বুলেট, সাদ্দাম হোসেন, রিদুয়ান মাহমুদ, আক্তার হোসেনসহ চট্টগ্রাম কলেজ থেকে পালিয়ে আসা চিহিৃত শিবির ক্যাডারদের দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে জামায়াতের পক্ষ থেকে এসব অপরাধীদের না ধরতে প্রতি সপ্তাহে লক্ষ টাকা মাসুহারা দিতে হয়।

goni3edit3কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইশতিয়াখ আহমদ জয় জানান, জামায়াত শিবির যতই খোলস পাল্টিয়ে থাকুক না কেন মুক্তিযোদ্ধের সকল শক্তি এক হয়ে দেশ থেকে তাদের বিতারিড়ত করা হবে।

ছাত্র ইউনিয়ন কক্সবাজার জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক অন্তিক চক্রবর্তি জানান, জামায়াত-শিবির যখন জানতে পেরেছে মুক্তিযোদ্ধের বিরোধীতাকারী দল হিসেবে যেকোন সময় তাদের দল এদেশে নিষিদ্ধ হতে পারে। তাই তারা প্রগতির মুখোশ পরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ঢুকে পড়ছে। মুক্তিযোদ্ধের দাবিদার সকল সাংস্কৃতিক কর্মীদের বিষয়টি ভাবতে হবে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার শ্যমল কুমার নাথ বলেন, আাপনারা তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেন। আমরা তাদের ধরতে চেষ্টা করবো।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM