শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ০৮:০৪ অপরাহ্ন

বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন দায়ী।

বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন দায়ী।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

জামাল জাহেদ কক্সবাজারঃ

পল্লী বন্ধুর ৬৮হাজার গ্রাম নয়,ডিজিটাল নামে নানা শ্লোগানে পরিবর্তন হবে তেমন কোন দেশের কথা নয়।বর্তমান সময়ের ৯০হাজারের অধিক গ্রামে শিকড় গজিয়ে মাথা উচু করে ঢের দাড়িয়ে যাচ্ছে যে সমস্যাটা সেটা হলো,বাল্য বিবাহ আর যৌতুকপ্রথা।যদিও সমাজের প্রভাবশালী আর বিত্তবানেরা নব কৌশলে যৌতুককে উপহার হিসাবে হরদম হজম করে যাচ্ছে।তাদের সাথে হাত মিলিয়ে তাদের আবদারে সাড়া দিচ্ছে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের শহর ও গ্রামের জনপ্রতিনিধি আর স্থানীয় প্রশাসন।প্রয়োজনে পদায়িত জনপ্রতিনিধিরা সাদাকে কালো আর কালোকে সাদা হিসাবে তৈরি করে দিচ্ছে কাগজপত্র।নারীর মতামত আর আগ্রহকে গলাটিপে নতুন যুদ্ধে নামিয়ে,অল্প বয়সে বিবাহ বিচ্চেদ আর নারীদের মাতৃত্বের স্বাদে হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুপথ দেখাচ্ছে আজকের সমাজ ও সমাজপতিরা।সৃষ্টি হচ্ছে সুন্দর সবুজ মানচিত্রে, বাংলার করুন গ্রাম্য ইতিহাসের অপর একটি নাম বাল্যবিবাহ আর যৌতুকপ্রথা।বিয়ের বয়স কম বা বেশি করে কি সমাজ পরিবর্তন হবে ! সমাজ পরিবর্তন করে সমাজের মানুষ আর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আর প্রশাসন।সরকার প্রদত্ত আইন যদি মাঠপর্যায়ে কার্যকর করে প্রশাসন,জনগন যদি তাদের নাগরিক সুযোগ সুবিধা পায় তবেই তো সমাজ পরিবর্তন হবে তাইনা?বয়স ১৬/১৮/২১বছর বিষয় না, কারন আমরা এখনো দেখি দুনিয়ায় সব অদ্ভুদ কাজ জম্ম নেওয়ার সাথে সাথে বিয়ে,শিশুদের সাথে শিশুদের,মেয়েদের সাথে কুকুরের,মানুষের সাথে প্রানীর অনেকে বৃদ্ধ বয়োঃসন্ধিকালে ৭০বছরের বুড়ার সাথে ১৮বছরের যুবতীর বিয়ে।অন্যদিকে গত ২২শে অক্টোবর ২০১৫তারিখে হিউম্যান রাইটসওয়াচ-এর তথ্যমতে বাংলাদেশে ২৯% মেয়ের বিয়ে হয় ১৫বছর বয়সে।আর ১৮বছরের মধ্যে বিয়ে হয় ৬৫শতাংশের। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় ১১বছর বয়সে বিয়ে হয় ২% মেয়ের।আর ২০১১সালের ইউনিসেফের  তথ্যমতে রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৮বছর বয়সের আগেই ৬৬% মেয়ের বিয়ে হয়ে যায় এবং এক তৃতীয়াংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায় ১৫বছর বয়সের আগেই।বাংলাদেশের বেশির ভাগ আইনেই সেকালে,সরকার প্রচলিত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন   ১৯২৯ বদলে নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বাল্য বিবাহ নিরোধ নামে যার খসড়া আইন মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে মতামতের জন্য।সরকার মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করার জন্য।পরে মানবাধিকার কর্মী ও আন্তর্জাতিক দাতাদের প্রতিবাদের মুখে বয়স কমাবেনা মর্মে অবহিত করে।যদিও জাতীয় দৈনিকের বাল্যবিবাহ প্রশ্নে পেছনে হাটছে বাংলাদেশ থেকে জানা যায়কিছু ক্ষেত্রে সরকার মেয়েদের
বিয়ের বয়স কমানোর লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।এ বিষয়ে ১৮ই অক্টোবর ২০১৫ তারিখে পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট আয়োজিত সভায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন,”আইনে কোন শর্ত রাখব,না নীতিতে থাকবে তা চিন্তা করছি’।অনেকে মনে করেন যদি মেয়েদের বয়স ১৮ থেকে ১৬ হয় তাহলে সমাজে অপব্যবহার বেশি হবে যা সবার বুঝতে কষ্ট হবার কথা নয়।বাংলাদেশের অসচেতন মা বাবা যেখানে অহরহ বাল্যবিবাহের আয়োজন করে, সেখানে ১৬বছর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া মানে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ পড়ানো মা বাবা,সমাজ,জনপ্রতিনিধি,ও কাজী সাহেবদের হাতে একটি মোক্ষম অস্ত্র তুলে দেওয়া।অন্যদিকে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে আদালত ও আইন পেশার সাথে জড়িত এ্যাডভোকেট,পাবলিক প্রসিকিউটর,নারী সহায়ক অফিসার সকলে যে নারীদের বিষয়ে সচেতন তা নয়।১৮বছর বাদ রেখে আদালতকে ১৬বছরে বিয়ের অনুমতি মানে আইনের ব্যত্যয় ঘটাতে অনুপ্রানিত করা।কোন মামলায় আদালতে বিয়ের অনুমতি নিতে হলে একটি মামলা করতে হবে কিন্তু প্রশ্ন হলো কে করবে মামলা বা বাদী।কারন ১৮বছরের বয়স না হলে যে প্রচলিত আইনে বাদী হতে পারেনা,সাবালক হতে হবে।তারমানে মেয়েরা পারতেছেনা বাদি হতে পরে মেয়ের অভিভাবকেরাই বাদী হওয়া মানে ঘুরেফিরে একই বাল্যবিবাহ আয়োজনকারীদের হাতেই রয়ে যাচ্ছে ক্ষমতা,যদিও সরকার চায় নারী স্বনির্ভরতা অর্জন করুক।আরেকটি গুরুতর সমস্যা দেখতেছি মামলার বিবাদী হবে কে?সেই বিষয়টি ও স্পষ্ট নয়।কারন জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ,দেশের শিশুনীতি,শিশু আইন সহ অনেক আইনে ১৮বছরের কম বয়স্ক প্রত্যেককে শিশু হিসাবে বলা হয়েছে।সাবালক অর্জনের জন্য নূন্যতম বয়স ১৮বছর করার প্রধান কারন হলো তার আগে কোনো ব্যক্তির সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহনের পূৃর্ণ সক্ষমতা ও পরিপক্বতা আসেনা।কোন চুক্তি করতে পারেনা,করলেও অগ্রাহ্য।সবকিছু মিলে বুঝা যাচ্ছে যে,মেয়েদের গুরুত্বপুর্ন সময় বিয়ের বিষয়ে মেয়েদের কোন অধিকার থাকতেছেনা।নানা কুসঃস্কার ও প্রথা যেখানে বিলুপ্ত করা জরুরী সেখানে আদিম আইন পিছু হাটবে নাতো?পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কি আবারো মেয়েদের অধিকার খর্ব হচ্ছেনা।এ প্রসংঙ্গে আইন ও শালিশ কেন্দ্র(আসক) এর নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন,আমরা সরকারের কাছে বিনীতভাবে আবেদন করছি,আইনগত সুরক্ষা দিয়ে বিপদগ্রস্ত হওয়া থেকে যাতে আমাদের রক্ষা করে’।যে কোন আইন সমাজের জন্য,জনগনের জন্য,সমাজ পরিবর্তনের জন্য আইন সমাজে মানদন্ড তৈরি করে পার্থক্য নয়।তথ্যমতে বাংলাদেশে ১০০বছরে ধরে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮বছর।যদিও উপকুলীয় অঞ্চল বা গ্রামে প্রতিনিয়ত ১৩/১৪বছর হলেই মনে করে বিয়ের উপযোগী।কোন আইন মানতেছেনা,কারন স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সাহায্য আর প্রশাসনের দুর্বলতার কারনে।আমার এক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক কষ্ট বুকে বলেন,কাঙ্গে কলসী তুলতে পারলেই হলো তার পরের বছর বিয়ে।যার ফলে জনসংখ্যা দিন দিন জনসমুদ্র বা বিস্ফোরক হয়ে উঠতেছে তার কোন খেয়াল করেনা।কমে যাচ্ছে কৃষিজমি বাড়ছে বসতবাড়ি,দেখা যাচ্ছে খাদ্য ঘাটতি ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশচুম্বী।সুতরাং মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যুর হার কমানো,মেয়ের প্রজনন স্বাস্থ্যের উন্নতি,জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, নারী শিক্ষাকে উৎসাহ প্রদান,নারীর ক্ষমতায়ন,সামাজিক ন্যায় বিচার,নারীর সম অধিকার সবদিক বিবেচনা করে আইনকে যুগোপযোগী এগিয়ে নেওয়া উচিত।পরিশেষে কক্সবাজারের ছেলে হওয়াতে কক্সবাজারের বিষয়ে বলতে গেলে বাস্তব কিছু তথ্যউপাত্ত ও আপন নয়নে যা দেখতেছি,বর্তমান সময়ে বাল্যবিবাহটা প্রকট আকার ধারন করেছে আমাদের সমাজে।সকলে নিজেদের স্বার্থে বিরাট একটি বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে প্রতিনিয়ত সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছি আমরা।ফলে সমাজে শিকড় গজিয়ে ফেলছে বাল্যবিবাহ,যৌতুকপ্রথা।আর এসব নিঘৃহীত একটি অবৈধ কাজকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন সমাজ প্রতিনিধিরা ও স্থানীয় প্রশাসন।সবকটি পৌরসভা,ইউনিয়ন পরিষদে রক্ষিত তাদের হাতে থাকা জম্মনিবন্ধন ভলিয়াম ও জাতীয়তা সনদ কাগজকে ব্যবহার করছে বাল্যবিবাহের প্রধান হাতিয়ার হিসাবে।যেহেতু সরকারের নির্ধারিত নিয়মের বাহিরে চড়াদামে এমনকি ৪/৫হাজার টাকায় জম্মনিবন্ধন সদন দিচ্ছে এসব উপকুলীয় ইউপি চেয়ারম্যানেরা।সরেজমিনে সরকারী তথ্যসেবা সুত্রে জানা যায়,কৌশলী বিয়ে রেজিস্টার ও নিকাহ্ নামা কাজী ও কৌশলী চেয়ারম্যান ও মেয়রদের সরকারী সার্ভারে না পাঠানো জম্মনিবন্ধন ভরিয়ামেই সম্পুর্ণ দায়ি।বলতে গেলে এসব কাজে জড়িত ও দুর্বলতার দিকটি হলো-কক্সবাজার জেলার ৮টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান,৪টি পৌরসভার মেয়র,ইউনিয়ন পরিষদের ৭১জন চেয়ারম্যান,সাহায্যকারী ইউপি সচিব ৭১জন,পৌরসভার কাউন্সিলর ৬০জন।অন্যদিকে বিমান বালার হাসি দিয়ে কক্সবাজারে ৭৬টি কার্যকর এনজিও কাজ করার নামে কি করে তা কারো বোধগম্য নয়।কোন সুফল পাচ্ছেনা জনগন তাদের সেবায় কারন বেশির ভাগ এনজিও ক্ষুদ্রঋণ ও ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত।কক্সবাজার জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর,সেইভ দ্যা চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল,ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার  ভার্ক কক্সবাজার,প্রেব মানবাধিকার,সচেতন বাংলাদেশ নামে সব কটি সঃস্থা,যৌতুক ও বাল্যবিবাহ বন্ধে,শিক্ষা সচেতনতা সৃষ্টির নামে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে কাজ করলেও অশুভ বার্তা ছাড়া কোন কিছু পাচ্ছেনা সরকার ও জনগন। সুতরাং সরকারের সঠিক কর্মপদক্ষেপ ও জনগনের সহযোগিতাই পারে সমাজ বদলাতে বয়স বদলে নয়।
সাংবাদিক ও লেখক
কক্সবাজার।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM