বৃহস্পতিবার, ২৫ Jul ২০২৪, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন

পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে দেড় সহস্রাধিক রোহিঙ্গা পরিবার

পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে দেড় সহস্রাধিক রোহিঙ্গা পরিবার

অনলাইন বিজ্ঞাপন

ফাইল ছবি।

ওয়াহিদুর রহমান রুবেল।।

প্রচন্ড গরমের পরে সবেমাত্র শুরু হয়েছে বর্ষাকাল। আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ বুধবার মধ্যরাত থেকে হঠাৎ শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টিতে কক্সবাজারের অনেক নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এরই মধ্যে পাহাড় ধ্বসে নয় রোহিঙ্গাসহ দশজনের মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাহাড়ের ঝুঁকিতে বসবাস করা রোহিঙ্গাদের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে। টানা বর্ষা শুরু হলে বড় ধরনের দূর্ঘটনা হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা। আবহাওয়া অফিস বলছে আরও কয়েকদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। আর শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন অফিস বলছে ঝুঁকিতে বসবাস করা রোহিঙ্গাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে কাজ করছে তারা।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো: আব্দুল হান্নান বলেন, বুধবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টিপাত দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আরও কয়েকদিন বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানান তিনি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. শামসু দ্দৌজা নয়ন বলেন, বুধবার ভোর আনুমানিক সাড়ে তিনটা থেকে পৌনে ভোর ছয়টার মধ্যে বিভিন্ন ক্যাম্পে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষার্থীসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে নয়জন রোহিঙ্গা। যেখানে ক্যাম্প-৯ এর আই/৪ ব্লকে ২ জন, আই /৯ ব্লকে ১জন, ক্যাম্প-১০ এর এফ/১০ ব্লকে ৪ জন, ক্যাম্প-৮ বি/৮২ ব্লকে এক শিশু, ক্যাম্প-১ এর এফ/৫ ব্লকে এক নারী এবং ক্যাম্প-১৪ এর পার্শ্ববর্তী স্থানীয় এক শিক্ষার্থী।

পাহাড় ধ্বসে নিহতরা হলেন, ১০ নম্বর ক্যাম্পে নিহতরা হলেন, ব্লক ১০ এর আবুল কালামের ছেলে আবু মেহের (২৫), লাল মিয়ার ছেলে আবুল কালাম (৫৭), মতিউর রহমানের মেয়ে সলিমা খাতুন (৪২), শরিফ হোসেনের মেয়ে জয়নব বিবি (১৯), ৯ নম্বর ক্যাম্পে নিহতরা হলেন, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট এলাকার আলী জহুরের ছেলে মো. হোসেন আহমেদ (৫০), ওই ক্যাম্পের আই ৪ ব্লকের আলী জোহারের মেয়ে আনোয়ারা বেগম (১৮) ও আই ৯ ব্লকের মো. জামালের ছেলে মো. সালমান (৩)। ৮ নম্বর ক্যাম্পে নিহত হন, বি-৮২ ব্লকের মো. হারেজের ছেলে মো. হারেজ (৪)। ১৪ নম্বর ক্যাম্পে নিহত হন উখিয়ার থাইংখালী এলাকার শাহ আলমের ছেলে আব্দুল করিম (১২)। আবদুল করিম থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেণির ছাত্র। ১ নম্বর ক্যাম্পে নিহত হন, এফ/৫ ব্লকের সুলতান আহমদের মেয়ে পুতনী বেগম (৩৪)।

জানা যায়, ২০১৭ সালে আগস্ট মাসের শেষ দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যচার, নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। বাস্তুচ্যুত হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের উখিয়া এবং টেকনাফ পাহাড়ের পাদদেশ থেকে শুরু করে পাহাড় কেটে থরে থরে ঝুপড়ি ঘর করে দেয়া হয়। ফলে বর্ষা আসলেই পাহাড়ে ঝুঁকিতে বসবাস করা রোহিঙ্গারা পাহাড় ধসের আতংকে থাকেন। বুধবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। টানা বর্ষণ হলে বাঁশ ও পলিথিনে তৈরি ঝুপড়ি অনেক ঘর বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

৯ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দু ছত্তার বলেন, টানা বৃষ্টি হলে রোহিঙ্গা শিবিরে দুর্ভোগ বাড়ে। গ্রীষ্মকালে রোদে টেম্পার নষ্ট হওয়া ত্রিপলের নষ্ট হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে। শত শত পরিবার এ দুর্ভোগে মোকাবিলা করে।

৮ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রহমত উল্লাহ বলেন, গেল বছরও আমরা দূর্ভোগে পড়েছিলাম। এবার তো বর্ষার শুরুতেই দশ জনের করুন মৃত্যু হয়েছে। এখন আমরা আতংকে পড়েছি। এরচেয়ে বড় দূর্ঘটনা হতে বলে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। কিন্তু আমরা কোথায় যাবো। আমাদের তো যাওয়ার কোন স্থান নেই।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন ও টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আদনান চৌধুরী বলেন, যেকোন ধরণের দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছেন তারা।

তবে এ দূর্ঘটনার জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে আসাকে দায়ি করেছেন কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ছোট জায়গায় বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে হয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে। শুরু থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থাগুলো সহযোগিতা করে আসলেও এখন আন্তর্জাতিকভাবে সাহায্য কমেছে। ফলে রোহিঙ্গাদের ঘরগুলো সংস্কার করা যায়নি। যারফলে হঠাৎ ভারি বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে এ দূর্ঘটনা ঘটেছে। অথচ এঘরগুলো আমরা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকা করেছিলাম কয়েক বছর আগে।

তিনি বলেন, দূর্ঘটনার পর বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক পরিবারকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। অন্যদেরও সরিয়ে নেয়া হবে। যেহেতু ঝুঁকিতে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের তালিকা আমাদের হাতে রয়েছে সেহেতু আমরা দ্রুত তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে পারবো। কিন্তু আন্তর্জাতিক সাহায্য ছাড়া এটি আসলে কোনভাবে ওভারকাম করা সম্ভব হবেনা।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM