শনিবার, ১৩ Jul ২০২৪, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন

সীমান্তে বেড়েছে গরু চোরাচালান; বৈধতা দিচ্ছে ইজারাদার !

সীমান্তে বেড়েছে গরু চোরাচালান; বৈধতা দিচ্ছে ইজারাদার !

অনলাইন বিজ্ঞাপন

ছবি-ঘুমধুম টিভি টাওয়ার এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা গরু বাজার।

ওয়াহিদুর রহমান রুবেল।।

কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ি ও ঘুমধুম এবং রামুর বাইশারী সীমান্ত দিয়ে বেড়েছে গরু চোরাচালান। চোরাই পথে আসা এসব গরু বৈধতা দিচ্ছে বাজার ইজারাদার ও বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা অবৈধ গরু বাজার। এ অবস্থায় একদিকে যেমন অপরাধ বাড়ছে, তেমনি সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। চোরাকারবারীদের পাশাপাশি পাচারে জড়িয়ে পড়ছে রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধিরা। আর পাহাড়ে অবস্থান করা ডাকাত দলের পাহারায় এসব গরু পৌঁছনো্ হয়ে গন্তব্যে। সম্প্রতি গরু চোরাচালান দ্বন্দ্বে জড়িয়ে চলতি বছরে পিতা পুত্রসহ অন্তত পাঁচ জন হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। গরু চোরাচানের সাথে বেড়েছে মাদক পাচারও। সর্বশেষ ২ জুন গর্জনিয়া বড়বিল এলাকায় বিজিবির সাথে গোলাগুলিতে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জুন নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির হাবিলদার মো.হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো দেড়- দুইশ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ বলছে অপরাধ দমনে কাজ করছে তারা।

অনুসন্ধানে গরু চোরাচালানে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছে রামু গর্জনিয়া বাজার সমিতির সভাপতি এরশাদ উল্লাহ, কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন সোহেল সিকদার, শাহজাহান সিরাজ শাকিল ওরফে শাকিল মেম্বার, আনোয়ার হোসেন রাসেল, ফরিদুল আলম, ডাকাত সর্দার শাহীন, কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য জসিম উদ্দিন, ১নং ওয়ার্ডের সদস্য নজরুল মেম্বার, ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য জসিম উদ্দিন, রামু জোয়ারিয়ানালার আব্দু শুক্কুর, ইমাদ সিকদার, শাকিল আদনান, তারেক উদ্দিন মিশুক, নাইক্ষ্যংছড়ি রূপনগর এলাকার বাসিন্দা ও যুবদল নেতা আনোয়ার ইসলাম রাশেল, ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক নেতা জহিরুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াছিন আরফাত রিশাদ, মাদকের বিভিন্ন মামলার আসামি জহির উদ্দিন, ফাক্রিকাটা এলাকার নুরু, দক্ষিণ দোছড়ীর আব্দুর রহিম, হাজী পাড়ার নুরুল আলম ও একই গ্রামের আবু তালেব, মো. আলী ওরফে মাতালি, নজরুল ইসলাম (তার বিরুদ্ধে মাদক মামলাও রয়েছে)। পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করেন কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি তিতারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন এবং বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম। গর্জনিয়া বাজারে এসব সোর্সদের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করেন জামায়াত নেতা বেলাল সিকদার। আর পুলিশের হয়ে টাকা উত্তোলন করেন সোহেল নামে এক যুবক।

তথ্য বলছে, মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে আসা গরু রামুর গর্জনিয়া বাজার, ঈদগাঁও বাজার, রামু বাজার, ঘুমধুম তুমব্রু বাজার, উখিয়ার মরিচ্যা বাজারসহ জেলার অভ্যন্তরে অন্যান্য বাজারে তোলা হচ্ছে। আর ইজারাদার মোটা অংকের টাকা নিয়ে বৈধ কাগজপত্র দিচ্ছে।

গরু পাচার বিষয়ে জানতে, মো. এরশাদ উল্লাহ, সোহেল সিকদার, দেলোয়ার হোসেন, বেলাল সিকদারকে ফোন করা হলে তাদের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা।

ঈদগাঁও বাজার ইজারাদার এবং ঘুমধুম টিভি টাওয়ার এলাকা অবৈধভাবে বসা গরু বিক্রির হাট বসানো নুরুল বশরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও উত্তর পাওয়া যায়নি।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাকারিয়াকে একাধিকবার ফোন করা হলেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি কোন উত্তর দেননি।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের দেওয়ান বলেন, আমরা চোরাচালান প্রতিরোধে প্রতিদিন মাঠে তৎপর রয়েছি। কোন অপরাধী ছাড় পাবে না।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM