শনিবার, ১৫ Jun ২০২৪, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন

রাফায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধের নির্দেশ দিলেন আইসিজে

রাফায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধের নির্দেশ দিলেন আইসিজে

অনলাইন বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ আফ্রিকার আবেদনের প্রেক্ষিতে রায় ঘোষণা করছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের সভাপতি বিচারক নওয়াফ সালাম। ছবি : সংগৃহীত

 

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার রাফায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। একই সঙ্গে ছোট্ট এই উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। আজ শুক্রবার (২৪ মে) দক্ষিণ আফ্রিকার আবেদনের প্রেক্ষিতে নতুন এই নির্দেশনা দিয়েছেন জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতের বিচারকরা। খবর রয়টার্সের।

এ নিয়ে গাজায় প্রাণহানি প্রতিরোধ এবং মানবিক দুর্ভোগ ঠেকাতে চলতি বছর তৃতীয়বারের মতো নির্দেশনা দিলেন ১৫ সদস্যের বিচারক প্যানেল। তবে আইসিজের এই আদেশ মেনে চলার আইনত বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা প্রয়োগ করার জন্য কোনো পুলিশ ফোর্স নেই এই আদালতের।

রায় ঘোষণার সময় আদালতের সভাপতি নওয়াফ সালাম বলেছেন, গত মার্চ মাসে আদালত যে সাময়িক নির্দেশনা দিয়েছেন তা অবরুদ্ধ গাজার পরিস্থিতি পুরোপুরি মোকাবিলা করতে পারেনি। তাই নতুন আদেশ দিতে যেসব শর্ত প্রয়োজন সেগুলো পূরণ হয়েছে।

তিনি বলেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই অবিলম্বে রাফায় সামরিক হামলা বন্ধ করতে হবে। রাফায় ইসরায়েলি হামলার কারণে গাজাবাসীর সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে শারীরিক ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। রাফায় বর্তমান মানবিক পরিস্থিতি বিপর্যয়কর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত সপ্তাহে রাফায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এবং সেনা প্রত্যাহার করতে আইসিজেতে আবেদন করে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির আইনজীবীরা বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে রাফায় ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করতে হবে।

রাফা হলো মিসর সীমান্তে অবস্থিত গাজার সর্বদক্ষিণের শহর। ইসরায়েলি হামলা থেকে বাঁচতে এই শহরে গাজার ২৩ লাখ মানুষের মধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। এত মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করলেও বারবার রাফায় স্থল অভিযানের হুমকি দিয়ে আসছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমন পরিস্থিতিতে রাফায় ইসরায়েলি হামলা ঠেকাতে আরও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আইসিজের দ্বারস্থ হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর আইসিজেতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলা দায়ের করে দক্ষিণ আফ্রিকা। মামলার অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকা বলেছে, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড গণহত্যামূলক। কারণ এসব কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনি জাতি ও গোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে ধ্বংস।

এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই মামলার শুনানিতে গাজায় গণহত্যা কনভেনশনের আওতায় পড়তে পারে এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকতে এবং ইসরায়েলি সৈন্যরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কোনো গণহত্যামূলক কাজ না করে তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েলকে নির্দেশ দেন আদালত।

আইসিজেকে বিশ্ব আদালত নামেও পরিচিত। এটি জাতিসংঘের একটি দেওয়ানি আদালত। সদস্যভুক্ত এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের বিরোধের বিচার করে এই আদালত। তবে এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) থেকে আলাদা। আইসিসি যুদ্ধাপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার করে থাকে। জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইসরায়েল—দুই দেশই দুই আদালতের রায় মেনে চলতে বাধ্য।

সূত্র-কালবেলা।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM