বৃহস্পতিবার, ২৫ Jul ২০২৪, ০৯:০১ অপরাহ্ন

গরু ও কার্পেট ব্যবসার আড়ালে করতো ইয়াবা ব্যবসা

গরু ও কার্পেট ব্যবসার আড়ালে করতো ইয়াবা ব্যবসা

অনলাইন বিজ্ঞাপন

ছবি-ইয়াবাসহ আটক আব্দুল আমিন, আব্দুল্লাহসহ চারজন।

ওয়াহিদুর রহমান রুবেল।।

কক্সবাজারের উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেংছড়ি পাটুয়ারটেক মেরিন ড্রাইভ সড়কে গাড়ি তল্লাশি চালিয়ে সাত লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এসময় গাড়িতে থাকা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আব্দুল আমিনও তার ভাগ্নে আব্দুল্লাহসহ চারজনকে আটক করা হয়। জব্দ করা হয়েছে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত বিলাস বহুল পাজেরো স্পোর্ট কার।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, টেকনাফ পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া এলাকার বাসিন্দা হাজী মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল আমিন (৪০), গোদারবিল এলাকার আবু সৈয়দের ছেলে ও আটক আব্দুল আমিনের ভাগ্নে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (৩৫), একই এলাকার মৃত মোহাম্মদ কাশেমের ছেলে নুরুল আবসার (২৮) এবং ডেইল পাড়া এলাকার মৃত দীল মোহাম্মদের ছেলে জাফর আলম (২৬)।

দুপুরে র‍্যাব-১৫ এর সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৫ এর সিও লে; কর্ণেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব জানতে পারে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে মাদক সম্রাট আব্দুল আমিন তার সিন্ডিকেট সদস্যদের নিয়ে বিলাস বহুল গাড়িতে করে মাদকের একটি চালান কক্সবাজার শহরের দিকে পাচার করছে।এমন তথ্যের ভিত্তিতে রাত দুইটার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাটুয়ারটেক মেরিন ড্রাইভ সড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে মাদক উদ্ধারের বিশেষ তল্লাশী অভিযান শুরু করে। এক পর্যায়ে টেকনাফ থেকে আসা একটি কালো রং এর বিলাস বহুল প্রাইভেটকারকে থামার সংকেত দিলে তারা দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে তল্লাশী করে গাড়ির পিছনে বিশেষ অবস্থা রাখা ৭ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় গাড়িতে থাকা মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইয়াবা সম্রাট আব্দুল আমিন ও তার ভাগ্নে আব্দুল্লাহকে দুই সহযোগিসহ গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতারকৃত আব্দুল আমিন এবং মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সম্পর্কে মামা ভাগ্নে। আর নুরুল আবছার সম্পর্কে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ’র ভগ্নিপতি। আব্দুল আমিন ও আব্দুল্লাহর পারিবারিকভাবে মুদির ব্যবসা এবং গরুর হাটের ইজারাদারি ব্যবসা করতো। একই সাথে মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে গরু চোরাচালন করতো। এ সময় অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন তারা। মামা ভাগ্নে সিন্ডিকেট গড়ে তোলে শুরু করে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা। ইয়াবা ব্যবসা আড়ার করতে গরু ও মুদির ব্যবসার পাশাপাশি পলিথিন ও কার্পেট ব্যবসা শুরু করেন।

গ্রেফতারকৃত আবদুল্লাহ সিন্ডিকেটে আরও যাদের নাম এসেছে তারা হলেন, আব্দুর রহিমের ছেলে তজিল আহমেদ, মো: হোছন এর ছেলে মোঃ কাদের, মৃত জাহেদ হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ ফারুক (২৭), কলা মিয়ার ছেলে সৈয়দ কাশেম, তার ভাই মোঃ কাশেম এবং মনিরুজ্জামানের ছেলে আব্দুর রহিমসহ ডজনের অধিক সদস্য। আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে ১০টির অধিক মাদক মামলা রয়েছে। দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম দৈনিক কালবেলার মাল্টিমিডিয়ায় আব্দুল আমিন, আব্দুল্লাহ ও আব্দুল কাদেরকে নিয়ে সংবাদ প্রচার করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এ সিন্ডিকেটের প্রধান বার্মাইয়া সিরাজ ইয়াবার বিশাল বিশাল চালান সমুদ্রপথে ট্রলারযোগে আব্দুল আমিনের নিকট পৌঁছতো। পরে এ সব ইয়াবা নিজের হেফাজতে মজুদ করার পর সময় বুঝে মাদক ব্যবসায়ী, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিতো আব্দুল আমিন এবং আব্দুল্লাহ সিন্ডিকেট।উদ্ধারকৃত ইয়াবার চালানটি তাদের এজেন্টদের কাছে পৌঁছে দিতে কক্সবাজারে আনা হচ্ছিল। গ্রেফতারকৃত আব্দুল আমিন ও কাদেরের বিরুদ্ধে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মাদকসহ ১১টির অধিক মামলা রয়েছে।

র‌্যাবের সিও বলেন, কতিপয় সংঘদ্ধ চক্র টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে  সমুদ্রপথে মাছ ধরার ট্রলার দিয়ে অভিনব পন্থায় ইয়াবা এনে তা সুযোগ মতো দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করছে। মাদক বিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত ৩ কোটি ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৪৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারি পরিচালক (ল এন্ড মিডিয়া) মোঃ আবু সালাম চৌধুরী।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM