বৃহস্পতিবার, ২৫ Jul ২০২৪, ০৯:২৯ অপরাহ্ন

ইতিহাস গড়া লবণ উৎপাদনে নায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা

ইতিহাস গড়া লবণ উৎপাদনে নায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা

অনলাইন বিজ্ঞাপন

ফাইল ছবি।

বিশেষ প্রতিবেদক:

তীব্র দাবদাহে মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই কক্সবাজারে রেকর্ড পরিমাণ ২৩ লাখ ৩১ হাজার টন লবণ উৎপাদন করেছে প্রান্তিক চাষিরা। আশানুরুপ উৎপাদন হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে লবণ উৎপাদনে গত ৬৪ বছরের ইতিহাসকে পেছনে ফেলেছে। ফলে বাইরে থেকে আমদানির প্রয়োজন হবে না। রেকর্ড উৎপাদনে নায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা। রেকর্ড উৎপাদনের কথা স্বীকার করে বাংলাদেশ লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেছেন, উৎপাদন বেশি থাকায় দাম একটু কমেছে।

আর চাষিরা বলছেন, লবণের ন্যায্যমূল্য পেলে ভবিষ্যতে চাষে আগ্রহী হবে তারা। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) কক্সবাজার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার টেকনাফ, কক্সবাজার সদর, পেকুয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও, চকরিয়া, কুতুবদিয়া ও চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ৬৮ হাজার ৩০০ একর জমিতে লবণ চাষ হচ্ছে।

বিসিক সূত্র বলছেন এবারে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ লাখ ২৮ হাজার টন। এরইমধ্যে উৎপাদন হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ ২৩ লাখ ৩১ হাজার টন। যা অতীতের সব ইতিহাসকে পেছনে ফেলেছে। অথচ গত বছর ৬৬৪২৪ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছিল ২২ লাখ ৩৩ টন। চলতি লবণ মৌসুমে লবণ চাষির সংখ্যা ৪০ হাজার ৭০০ জন, যা গত বছর ছিল ৩৯ হাজার ৪০০ জন। ফলে গেল বছরের তুলনায় এ বছর লবণ চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ১ হাজার ৩০০৬ জন।

অনুকূল আবহাওয়া ও লবণের ন্যায্যমূল থাকায় এবারে লবণ চাষ বেশি হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। চাষিদের নিরাপত্তা, লবণ আমদানি বন্ধ এবং ন্যায্যমূল্য পেলে ভবিষ্যতে আরও বেশি লবণ চাষ হতে পারে বলেও জানান তারা।

মহেশখালী কালারমার ছড়ার উত্তর নলবিলার লবণচাষি আব্দু রহিম বলেন, একদিকে যেমন বৃষ্টি নেই তেমনি অন্যদিকে তীব্র রোদের ফলে লবণ উৎপাদন বেশি হয়েছে। এতে আমরা অনেক খুশি।

বড় মহেশখালীর বড় দিয়ার লবণ চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, জমির ইজরা, পলিথিন ও শ্রমিকের মূল্য চড়া হলেও লবণ উৎপাদন বেশি হওয়ায় লোকসানের হাত থেকে বাঁচা যাবে। মৌসুমের শুরুতে লবণের দাম ভালো থাকলেও উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম নিম্নগামী বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ লবণ চাষি পরিষদের আহ্বায়ক সাজেদুল করিম জানান, এ বছর চাষিরা রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন করেছে। তাই এর আমদানিরও প্রয়োজন পড়বে না। আশা করছি চাষিরাও ন্যায্যমূল্য পাবে।

ভালো দামের আশায় অনেক কৃষক মাঠেই লবন মজুত করছেন। কিন্তু বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দামের কিছুটা হেরফের হতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিসিক লবণ উন্নয়ন প্রকল্পের মাঠ পরিদর্শক মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ৬৪ বছরের মধ্যে এবার রেকর্ড উৎপাদন যেমন হয়েছে, ঠিক তেমনি দৈনিক গড়ে উৎপাদনও হচ্ছে রেকর্ড পরিমাণ। আগে যেখানে দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ ৩৬ হাজার টন লবণ হয়েছে, সেখানে এ রেকর্ড ছাড়িয়ে দৈনিক গড়ে ৩৯ হাজার টন উৎপাদন হচ্ছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) কক্সবাজার লবণ শিল্পের উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, চলতি সৌমুমে আমাদের লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ছিল ২৫ লাখ ২৮ হাজার টন। গেল কয়েকদিন আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকুলে থাকায় মাঠ ছেড়েছে কৃষকরা। কিন্তু এরই মধ্যে উৎপাদন হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ ২৩ লাখ ৩১ হাজার টন। যা অতীতের সব ইতিহাসকে টপকে গেছে। আবহাওয়া ঠিকঠাক থাকলে কিংবা বৃষ্টিপাত না হলে মৌসুমের শেষ সময় পর্যন্ত আরও প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টন উৎপাদন হতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।

তিনি বলেন, গত মৌসুমে লবণের দাম ভাল থাকায় চাষিরা এ মৌসুমে আরও বেশি জমিতে চাষাবাদ করেছে। গত বছর ৬৬ হাজার ৪২৪ একর জমিতে উৎপাদন হয়েছিল ২২ লাখ ৩৩ টন। কিন্তু চলতি মৌসুমে চাষের জমি বৃদ্ধি পেয়ে ৬৮ হাজার ৩০০ একর হয়েছে। রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন হওয়ায় লবন আমদানি নিয়ে সরকার ভাবছেনা। আমদানির ব্যপারে সরকারের কোন পরিকল্পনাও নেই বলে জানান তিনি।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM