শনিবার, ১৩ Jul ২০২৪, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন

বায়ার্নকে কাঁদিয়ে ফাইনালে মাদ্রিদ

বায়ার্নকে কাঁদিয়ে ফাইনালে মাদ্রিদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

সমতাসূচক গোলের পর হোসেলুর উল্লাস। ছবি: সংগৃহীত

‘বার্নাব্যুতে ৯০ মিনিট অনেক লম্বা সময়’ স্প্যানিশ ও রিয়াল মাদ্রিদ কিংবদন্তি জুয়ানিতোর এই কথাটি রিয়াল সমর্থকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। তার এই কথার প্রায় ৪০ বছর পার হতে চললেও কথাটি এখনো ঠিক যে কতটা সত্য তা হয়তো ভুলতে বসেছিল জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ।

বার্নাব্যুতে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে ৮৭ মিনিট পর্যন্ত ১-০ তে এগিয়ে থেকে ব্যাভারিয়ানরা হয়তো ভেবে বসেছিল যে কাজ হয়ে গেছে। তবে তাদের ধারণা যে কতটা ভুল ছিল তা বোঝালো রিয়াল মাদ্রিদের স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড হোসেলু। বদলি হিসেবে নেমে তার জোড়া গোলে বায়ার্নকে কাঁদিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করলো আসরের সবচেয়ে রিয়াল মাদ্রিদ।

বুধবার (৮ মে) রিয়ালের হোম গ্রাউন্ড সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে হোসেলুর জোড়া গোলে ২-১ গোলে জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ গোলে জয়ে পহেলা জুন ইংল্যান্ডের ওয়েম্বলিতে নিজেদের ১৫তম চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের আশায় তারা বুরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মুখোমুখি হবে।

আজকের ম্যাচে ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় স্বাগতিক রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথমার্ধে লস ব্লাঙ্কোসরা অন্তত ২ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যেতে পারেনি শুধু বায়ার্ন গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যারের কারণে।

ম্যাচের ১৩ মিনিটে গোলের সবচেয়ে বড় সুযোগ পায় মাদ্রিদ। দানি কারভাহালের পাস থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বল পাঠিয়ে দেন দূরের পোস্ট দিয়ে। বারে লেগে বল আবার ডি-বক্সে ফেরত আসে। ফিরতি শটে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা চালান রদ্রিগো, তবে সেটা দুর্দান্ত ভাবে ঠেকিয়ে দেন নয়্যার।

২৮ মিনিটে অবশ্য এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল বায়ার্ন। তবে হ্যারি কেইনের দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে নেয়া ভলি ঝাপিয়ে পড়ে ফেরান রিয়াল গোলকিপার আন্দ্রি লুনিন।

বিরতির আগে ৪০ মিনিটে আরও একবার বায়ার্নের ত্রাণকর্তা হয়ে ধরা দেন নয়্যার। ভিনিসিয়ুসের শট ফিরিয়ে বায়ার্নকে পিছিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় সফরকারীরা। দুই জায়ান্টের লড়াইও সমানে সমানে হতে থাকে। আরও কয়েকবার দূর্গ হয়ে মাদ্রিদের আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন নয়্যার। নয়্যারের বীরত্বের ফলও পায় তারা ম্যাচের ৬৮ মিনিটে। দূর থেকে উড়ে আসা বলে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টনি রুডিগারকে কাটিয়ে দূরের পোস্ট বরাবর শট নেন বদলি নামা আলফনসো ডেভিস। ঝাপিয়ে পড়েও সেই বলের নাগাল পাননি লুনিন।

৭৩ মিনিটে গোল করে বসে রিয়াল মাদ্রিদ! তবে রিয়াল অধিনায়ক নাচোর ফাউল করার কারণে ভিএআর রিভিউ দেখে গোল বাতিল করে দেন রেফারি।

মরিয়া আনচেলত্তি তখন মাঠে নামান হোসেলুকে। ৮১ মিনিটে নামলেও রিয়ালের ইতিহাসের অংশ হতে তার অপেক্ষা করতে হয়েছে ৮৮ মিনিট পর্যন্ত।

পুরো ম্যাচ জুড়ে দুর্দান্ত খেলা নয়্যার ভিনির নেয়া শট ধরে ফেলেও পরক্ষণে বল ছুটে যায় তার হাত থেকে। কাছেই থাকা হোসেলু কোনো ভুল করেননি, রিয়াল ফেরে সমতায়। ৩ মিনিট পর আবারও একই জায়গা থেকে গোল করেন হোসেলু। তবে বাধ সাধে তার অবস্থান। পরে ভিএআর রিভিউ দেখে রেফারি নিশ্চিত হন, অফসাইড হয়নি, সেটি গোলই।

আর এতেই আরও অসংখ্য বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের রাজারা কামব্যাকের গল্প লিখল। এখন অপেক্ষা জুনের ১ তারিখ ওয়েম্বলির ফাইনালের।

সূত্র-কালবেলা।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM