বুধবার, ২৪ Jul ২০২৪, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন

গাঁজা চাষ করছে পাকিস্তান

গাঁজা চাষ করছে পাকিস্তান

অনলাইন বিজ্ঞাপন

ছবি সংগ্রহীত।

 

নানা সংকটে জর্জরিত পাকিস্তান। দেশটি অর্থনৈতিক উত্তরণে পথ খুঁজছে। এজন্য গাঁজা চাষে ঝুঁকছে তারা। এমনকি গাঁজা বাণিজ্যের জন্য ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করছে পাকিস্তান। বুধবার (০৮ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান প্রায় চার বছর আগে শিল্পখাতে গাজা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে বিকাশমান বাজারের সুযোগ নিতে চাচ্ছে দেশটি। এজন্য গেল ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্সিয়াল আদেশের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো গাঁজা নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। ২০২০ সালে দেশটিতে গাজা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হলেও অভ্যন্তরীণ জটিলতায় নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ গঠনের পদক্ষেপ থেমে ছিল।

বিশেষ বিনিয়োগ সুবিধা কর্তৃপক্ষের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, আমরা এ উদ্যোগ নিয়ে খুব তৎপর। সবকিছু খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

তিনি বলেন, নতুন জোট সরকার নীতি, উৎপাদনকারী ও বিক্রেতাদের লাইসেন্স প্রদান ও চাষের অঞ্চল নির্দিষ্ট করতে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে। দেশটিতে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অর্থনীতি উত্তরণে সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে এ বিভাগ।

ভারতের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, পাকিস্তান বৈশ্বিক গাঁজার বাজারে প্রবেশ ও উৎপাদনের অনুকূল পরিবেশ সদ্বব্যবহারে আগ্রহী। ২০২২ সালে গাঁজার বৈশ্বিক গাজার বাজার ছিল ২৭ দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার। ২০২৭ সালে এ বাজার বেড়ে ৮২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)এবং অন্যান্য বিদেশি ঋণ সহায়তা পেতে রফতানি আয় ও কর বাড়ানোর উদ্বোগ নিচ্ছে।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে গাজার উন্মুক্ত চাষ ও বিক্রি হয়ে থাকে। ঔষধি এ গাছটি উত্তর ও পশ্চিম পাকিস্তানে চাষের পরিবেশ রয়েছে। ১৯৭০ এর দশকে স্থানীয় গাজার দোকানগুলো বেশ জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু ১৯৮০ এর দশকে সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউল জক গাজার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন।

নতুন করে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ গঠনের ফলে চিকিৎসায় গাজার ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে। এছাড়া এ গাছ রশি, কাপড়, কাগজ এবং নির্মাণ সামগ্রীতেও ব্যবহার করা হয়।

দেশটিতে গাজার অপব্যবহার রধে কছোর শাস্তির বিধান করা হয়েছে। এ আইন লঙ্ঘন করলে কোম্পানিকে ২০ কোটি রুপি এবং ব্যক্তিকে এক কোটি রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধার রাখা হয়েছে।

২০২২ সালে এশীয় অঞ্চলের প্রথম দেশ হিসেবে থাইল্যান্ডে গাঁজাকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে দেশটিতে গাজার অপব্যবহার বেড়েছে। তবে পাকিস্তানের এক চিকিৎসকের মতে, পেসক্রিপশনের মাধ্যমে গাজা থেকে ওষুধ বিক্রির ব্যবস্থা করা হলে এটির অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব। তিনি বলেন, পেসক্রিপশনের মাধ্যমে বিক্রিকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষের উচিত এটি নিশ্চিত করা

সূত্র-কালবেলা।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM