মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১২:২২ পূর্বাহ্ন

মামলা দেয়ায় সাজ্জাদকে গাড়ি চাপায় হত্যা করা হয়

মামলা দেয়ায় সাজ্জাদকে গাড়ি চাপায় হত্যা করা হয়

অনলাইন বিজ্ঞাপন

ছবি- বনকর্মকর্তা সাজ্জাদুজ্জামান হত্যা মামলায় আটক কামাল ও হেলাল।

 

 

ওয়াহিদুর রহমান রুবেল।।

উখিয়ায় মাটিভর্তি ডাম্পার চাপায় মর্মান্তিক ভাবে বন বিট কর্মকর্তা সাজ্জাদুজ্জামান হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী কামালসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৫। সোমবার (১৫ এপ্রিল) রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড হতে কামালকে এবং উখিয়ার কোটবাজার হতে হত্যাকান্ডের সহযোগী হেলালকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার পর হতে তারা আত্মগোপনে চলে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১৫’র মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সালাম চৌধুরী।

গ্রেফতারকৃত মো. কামাল উদ্দিন (৩৯) উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের হরিণমারা এলাকার শাহ আলমের এবং হেলাল উদ্দিন (২৭) একই ইউনিয়নের তুতুরবিল এলাকার নূর আলম মাইজ্জার ছেলে।

মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাব-১৫’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের জানান, উখিয়ার রাজাপালং ইউপিস্থ হরিণমারা এলাকায় স্থানীয় হেলাল, গফুর ও বাবুলের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে আসছে। এ চক্রের অধীনে প্রায় ১০/১২ টি ডাম্পার ও কয়েকটি মাটিকাটা ড্রেজার রয়েছে। প্রতি ডাম্পার মাটি ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিভিন্নজনের কাছে জমি ভরাটের জন্য বিক্রি করেন। চক্রের মূল হোতারা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা রেখে বাকি টাকা ডাম্পারের মালিকদের গাড়ি ভাড়া ও শ্রমিক খরচ বাবদ পরিশোধ করে দেয়।

তিনি আরো জানান, নিহত বন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হরিণমারা বন অঞ্চলের দায়িত্বপূর্ণ বিট কর্মকর্তা হওয়ায় গত নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত একাধিক অভিযান চালিয়ে পাঁচটি মাটিকাটার ড্রেজারসহ কয়েকটি ডাম্পার জব্দ করে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে বন আইনে কয়েকটি মামলাও দায়ের করেছেন। ফলে অপরাধীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে শায়েস্তা করতে পরিকল্পনা করেন।

গত ৩১ মার্চ রাত অনুমান ২টার দিকে পাহাড় কাটার সংবাদ পেয়ে বন কর্মকর্তা সাজ্জাদ তার আরেক সদস্য মো. আলীকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। স্থানীয় ফরিদ আহম্মদের দোকানের সামনে পৌঁছালে মাটি ভর্তি ডাম্পারের ড্রাইভার বাপ্পির পাশে বসে থাকা কামাল বন কর্মকর্তাকে গাড়ি চাপা দেওয়ার জন্য বাপ্পীকে নির্দেশ দেন। ঘাতক বাপ্পি গাড়ি না থামিয়ে মোটরসাইকেল আরোহী সাজ্জাদ ও তার সহযোগীকে গাড়ি চাপা দেয়। ফলে ড্রাম্পারের চাপায় মাথায় গুরতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই সাজ্জাদ মৃত্যুবরণ করেন এবং সহযোগী মোহাম্মদ আলী আহত হন।

র‌্যাব-১৫’র অধিনায়ক সাজ্জাদ বলেন, এ মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় কক্সবাজার দক্ষিন বনবিভাগের উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী শফিউল আলম বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৫ জনকে আসামী করে উখিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় র‌্যাব-১৫ মামলার ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কামাল ও হেলালকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত কামাল ও হেলাল হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে বলে উল্লেখ করেন র‌্যাব-১৫’র অধিনায়ক। তাদের উখিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM