শনিবার, ১৩ Jul ২০২৪, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন

ঈদের শতকোটি টাকার ব্যবসা

ঈদের শতকোটি টাকার ব্যবসা

অনলাইন বিজ্ঞাপন

ছবি-কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের উপড়ে পড়া ভীড়।

 

ওয়াহিদুর রহমান রুবেল।।

ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখ মিলে পাঁচ দিনের টানা ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামে কক্সবাজারে। ছুটির সময় প্রায় পাঁচ শতাধিক হোটেল মোটেল এবং গেস্ট হাউসগুলো শতভাগ বুকিং থাকায় শতকোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বরাবরের মতো হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ছিল পর্য টকদের। হোটেল মালিক পক্ষের দাবি পাঁচ দিনের ছুটি থাকলেও হোটেলগুলোতে শতভাগ বুকিং ছিল মাত্র দুই দিন। আর পর্যটকদের নিরাপত্তায় সর্বদা সচেষ্ট ছিল ট্যুরিস্ট পুলিশ।

হোটেল মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির দেয়া তথ্য মতে, পাঁচ শতাধিক হোটেল- মোটেল, গেস্ট হাউস ছাড়াও রেস্তোঁরা, ওয়াটার বাইক, বিচ বাইক, কিটকট, শামুক ঝিনুক, শুটকি, বার্মিজ পণ্য বিক্রিসহ কয়েক লাখ মানুষ সরাসরি পর্যটন শিল্প ব্যবসার সাথে জড়িত। পর্যটক আসলে তাদের আয়ের পথ সুগম হয়। তবে বুকিং এর বাইরে ওয়ার্কিং পর্যটকের সংখ্যা বেশি।

পর্যটন উদ্যোক্তা আবদুর রহমান বলেন, পর্যটকদের সেবায় হোটেল-মার্কেটের ব্যবসায়ী ও হকারেরা কয়েকদিন ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে। এ ধারাবাহিকতা থাকলেও হয়তো আরও বেশি আয় করা সম্ভব হতো।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের সময়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত দুটি স্পেশাল ট্রেন চালু করায় কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। তবে তারা কক্সবাজার এসেই হোটেল দেখে বুকিং দিচ্ছে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, কক্সবাজারে পাছ শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস মিলে ২৫ হাজারের মতো কক্ষ রয়েছে। সে হিসেবে একদিনে হোটেল কক্ষের ভাড়া থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকার উপরে। এছাড়া রেস্তোঁরা, ওয়াটার বাইক, কিটকট, শামুক-ঝিনুক, শুটকি এবং বার্মিজ পণ্য বিক্রি হয়েছে ২০-২৫ কোটি টাকার মতো। এ হিসেবে ঈদের পাঁচ দিনের ছুটিতে শতকোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে সুপুরিকল্পিতভাবে সাজানো গেলে বছর জুড়ে পর্যটকের আগম থাকতো। এতে রাজস্ব আয় হতো উল্লেখযোগ্য।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান লাভলু বলেন, একটা সময় পর্যটকরা বুকিং দিয়ে কক্সবাজারে আসতো। এখন ট্রেন চালু হওয়ায় এসেই হেটেলের রুম দেখে বুকিং দিচ্ছে। এবারে ঈদের একদিন পরে কক্সবাজারে আসে পর্যটক। ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত শতভাগ কক্ষ বুকিং ছিলো। কিন্তু কাল (১৫ এপ্রিল) থেকে আবারো ৫০ ভাগে নেমে আসবে। দুই দিন হলেও ব্যবসাটা ভাল হয়েছে। আমি মনে করি এবারের ছুটিতে পর্যটন শিল্প ব্যবসায় সকলক্ষেত্রে প্রায় শত কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে।

কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম ডালিম বলেন, যেমন আয় তেমন ব্যয়। দুই দিনের ব্যবসা দিয়ে তো আর বছর পার করা সম্ভব না। তারপরও যা আয় হয়েছে তা দিয়ে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেয়া যাবে।

ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) সভাপতি তোফায়েল আহমেদ বলেন, সেন্টমার্টিন যাওয়ার সুযোগ পেলে আরও বেশি পর্যটক আসতো কক্সবাজারে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আপেল মাহমুদ বলেন, ঈদের ছুটিতে ব্যাপক পর্যটক সমাগমের কথা মাথায় রেখে সব ধরণের প্রস্তুতি ছিল আমাদের। সৈকতে পর্যটকদের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করেছি আমরা। বিপদাপন্ন কোন পর্যটক একটি বাটন টিপেই সেবা নিশ্চিত করতে পারবেন। বলতে পারেন পর্যটকের নিরাপত্তা ও সেবায় সার্বক্ষনিক টহল রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. ইয়ামিন হোসেন জানান, এখনো পর্যটকদের কাছ থেকে কোন অভিযোগ আমরা পায়নি। তারপরও হোটেলে-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় অতিরিক্ত টাকা আদায় কিংবা অন্যান্য ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধ এবং পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমন নিশ্চিত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমান আদালত মাঠে রয়েছে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM