বৃহস্পতিবার, ২৫ Jul ২০২৪, ১০:০১ অপরাহ্ন

ইরান-ইসরায়েল হামলার উত্তাপ এখন ইউরোপ-আমেরিকায়

ইরান-ইসরায়েল হামলার উত্তাপ এখন ইউরোপ-আমেরিকায়

অনলাইন বিজ্ঞাপন

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছবি : সংগৃহীত

 

গাজা যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে ইরান। মূলত চলতি মাসের শুরুর দিকে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের দূতাবাসে ইসরায়েলি বোমা হামলার জবাবে শনিবার (১৩ এপ্রিল) গভীর রাতে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই পাল্টা হামলা করেছে তেহরান। ইসরায়েল ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। এমনকি দুই চিরশত্রু দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ পর্যন্ত বেঁধে যেতে পারে বলে সতর্ক করছেন তারা।

এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ইরানের হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা বিবৃতিতে দিয়েছেন। তারা যেমন দুই দেশের মাঝে উত্তেজনা প্রশমনের কথা বলেছেন তেমনি ইসরায়েলের প্রতি ইস্পাত-দৃঢ় সমর্থনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছন। ফলে ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলার উত্তাপ মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে এখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনই কয়েকজন বিশ্বনেতার বিবৃতি এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু :

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, বিগত কয়েক বছর ধরে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তহে ইরানের সরাসরি আক্রমণের বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে ইসরায়েল। আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত— সেটা হতে পারে প্রতিরক্ষামূলক বা আক্রমণাত্মক।

তিনি বলেন, আমরা ইসরায়েলের পাশে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ব্রিটেন, ফ্রান্স ও অন্যান্য অনেক দেশের সমর্থনের প্রশংসা করি। আমরা একটি স্পষ্ট নীতি নির্ধারণ করেছি : যারা আমাদের ক্ষতি করবে, আমরা তাদের ক্ষতি করব। আমরা যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করব।

জো বাইডেন :

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের হামলার হালনাগাদ তথ্যের জন্য আমি আমার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সাথে দেখা করেছি। ইরান ও এর প্রক্সিদের হুমকি মোকাবিলা ও ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি ইস্পাত-দৃঢ়।

আন্তোনিও গুতেরেস :

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, আমি ইসরায়েলের ওপর ইরানের বড় ধরনের আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানাই। আমি এই ধরনের শত্রুতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন, আমি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন একটি ধ্বংসাত্মক উত্তেজনার সত্যিকারের বিপদ সম্পর্কে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক ফ্রন্টে বড় সামরিক সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ এড়াতে আমি সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানাই।

ঋষি সুনক :

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনক বলেছেন, আমি ইসরায়েলে ইরানের বেপরোয়া আক্রমণের কড়া ভাষায় নিন্দা জানাই। এই হামলা এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার ঝুঁকি তৈরি করে। ইরান আবারও প্রমাণ করল যে নিজের উঠোনে অশান্তির বীজ রোপনের ইচ্ছা রয়েছে তাদের।

তিনি বলেন, ইসরায়েল এবং জর্ডান ও ইরাকসহ আমাদের সব আঞ্চলিক অংশীদারদের নিরাপত্তা জন্য যুক্তরাজ্য তাদের পাশে দাঁড়ানো অব্যাহত রাখবে। আমাদের মিত্রদের পাশাপাশি আমরা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে এবং উত্তেজনা রোধে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছি। কেউ আর রক্তপাত দেখতে চায় না।

জোসেপ বোরেল :

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান জোসেপ বোরেল বলেছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের অগ্রহণযোগ্য হামলার তীব্র নিন্দা জানায় ইইউ। এটি নজিরবিহীন উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।

তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি মিশন বলেছে, সিরিয়ার দামেস্কে ইরানি কূটনৈতিক প্রাঙ্গণের ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় এই সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলি শাসক গোষ্ঠী যদি আরেকটি ভুল করে তাহলে ইরানের জবাব আরও যথেষ্ট গুরুতর হবে। এটি ইরান ও দুর্বৃত্ত ইসরায়েলি সরকারের মধ্যে সংঘাত। এই সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে থাকতে হবে।

গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার দামেস্কে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেটে হামলা চালিয়ে দেশটির কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করে ইসরায়েল। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে একের পর এক হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকেও দাবি করা হয়, ইসরায়েলে হামলায় ব্যবহারের জন্য শতাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত করেছে ইরান। যে কোনো সময় এ অস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানায় ইসরায়েল।

সূত্র-কালবেলা।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM