বাংলাদেশ, , বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২

রামুতে সরকারি স্থাপনা নির্মাণে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগ

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-০৯-২১ ১৭:৪৭:১০  

নিজস্ব প্রতিবেদক
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রামুতে সরকারি স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ভূমি অধিগ্রহণ না করে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন ভবন নির্মাণের অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন হাইকোর্টে আইনের আশ্রয় নিলে আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের ওই আদেশ অমান্য করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের।
এনিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন গত ২০১৪ সালে আদালত অবমাননার অভিযোগে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ গোলাম রব্বানী, গণপূর্ত বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী (পাবলিক ওয়ার্ক ডিপার্টমেন্ট) মোঃ কবির আহমেদ ভূঁইয়া, গণপূর্ত বিভাগ কক্সবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তসলিম উদ্দিন জমাদার, কক্সবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক মোঃ রুহুল আমিন, সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাফর আলম ও রামুর ইউএনও মোঃ মাসুদ হোসেন এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন।
এরপরও ওখানে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন সোমবার দুপুরে কক্সবাজারের অভিজাত এক হোটেলের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
যদিও গণপূর্ত বিভাগ কক্সবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তসলিম উদ্দিন জমাদারের সাথে কথা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বড়–য়ার সাথে আলাপ করতে বলেন।
কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বড়–য়া আদালত অবমাননার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জানান, নতুন কর্মস্থলে তিনি যোগদান করেছেন মাত্র ২ মাস হয়। তাই ভূমি অধিগ্রহন ও মামলার ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তবে রামু ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন ভবন নির্মাণ কাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
সোমবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রামু উপজেলার উত্তর মেরুংলোয়া এলাকার মৃত গোলাম শরীফের পুত্র আক্তার কামাল বলেন, রামুর উত্তর মিঠাছড়িতে ভূমি অধিগ্রহণ না করে নির্মাণ কাজ চলছে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন ভবনের। উত্তরাধিকার সূত্রে উত্তর মিঠাছড়ি মৌজার বিএস ১৬১ নং খতিয়ানের ৩৭ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ভোগদখলে থাকাবস্থায় বিগত ১৯৯৫ সালে ভূলক্রমে সরকারি খাস খতিয়ানভূক্ত করা হয়। পরে জমির মালিকরা বাদী হয়ে বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালত (রামু) তে দেওয়ানী মামলা ৫৪/১৯৯৫ দায়ের করি। ওই মামলায় আদালত ১৯৯৭ সালের ২৯ মে চুড়ান্ত রায়ে খতিয়ান সংশোধন পূর্বক বাদী পক্ষের নামে নামজারীর নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে জমির মালিকরা খতিয়ান সংশোধনের জন্য রামুর ভূমি কার্যালয়ে আবেদন জানানোর পর বার বার তাগাদা দেয়া সত্বেও আদালতের রায় অমান্য করে তা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখে। এনিয়ে জমির মালিকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বিগত ২০১০ সালের ২ নভেম্বর রামুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে তৎকালীন জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিদের্শও প্রদান করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত আক্তার কামাল বলেন, এর মধ্যে ওই জমি রামু ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করলে বিগত ২০১৩ সালে পৃথক খতিয়ান সৃজন ও নিষেধাজ্ঞার আদেশ চেয়ে হাইকোর্টে রিট মামলা (১১৭০৬/২০১৩) দায়ের করি। পরবর্তীতে আদালত ওই বছরের ১৯ নভেম্বর শুনানীতে ৪ সপ্তাহের রুল ইস্যু এবং ভূমি সংক্রান্তে ৬ মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ প্রদান করেন। এরপর আদালত ২০১৪ সালের ১১ মে উক্ত স্থিতাবস্থার আদেশ পরবর্তী ৬ মাসের জন্য এবং ওই বছবের ১২ নভেম্বর ১ বছরের জন্য আদেশের মেয়াদ বর্ধিত করেন।
অভিযোগ করে আক্তার কামাল বলেন,  হাইকোর্টের আদেশের কার্যকারিতা বিদ্যামান থাকাবস্থায় বিগত ২০১৪ সালের ২ মে ওই জমিতে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন ভবন নির্মাণের জন্য কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগ কর্তৃক জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত টেন্ডার আহবান বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। এমতাবস্থায় ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন ভবন নির্মাণে সীমানা নির্ধারণসহ অন্যান্য কার্যাদি শুরু করলে আদালতের প্রদত্ত আদেশ ভঙ্গ হওয়ার কারণে বিবাদীদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে অবমাননা মামলা (৩২৩/২০১৪) দায়ের করি। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ১১ নভেম্বর শুনানীতে আদালত উক্ত মামলা বিচারার্থে গ্রহণ করেন এবং বিবাদীদের প্রতি কেন আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করা হবে না জানতে চেয়ে ২ সপ্তাহের রুল জারী করেন। এরপরও বিবাদীগণ মামলা বিচারাধীন থাকাবস্থায় আদালতের আদেশ সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করে জোরপূর্বক বিরোধীয় ভূমিতে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেন। এনিয়ে বাদী পক্ষ হাইকোর্টে অবমাননা মামলার (৩২৩/২০১৪) আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানালে বিবাদীগণ আদালতে ভূল তথ্য উপস্থাপন করে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পথ বন্ধ রাখেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিক বলেন, আদালতের শরণাপন্ন হয়ে আশা করেছিলাম বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থাপনা নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে এবং আমরা জমি ফিরে পাবো। কিন্তু ভবন নির্মাণকাজ এখন শেষ পর্যায়ে হওয়ায় আমরা জমি হারানোর পাশাপাশি আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা করছি।
এব্যাপারে মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিষ্টার জ্যোতির্ময় বড়–য়ার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে জানান, আদালত অবমাননার মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টের মহামান্য বিচারপতি মোঃ আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি জাফর আহমেদে এর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে চুড়ান্ত শুনানীর জন্য অপেক্ষামান রয়েছে।
ভূমি অধিগ্রহণ করার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের কথা উল্লেখ করে ব্যারিষ্টার জ্যোতির্ময় জানান, সরকার ইচ্ছে করলেই ভূমি অধিগ্রহণ করতে পারে না। মালিকানা বা স্বত্ত্ব যারই হোক না কেন তর্কিত ভূমির বিরোধ মিমাংসা করেই অধিগ্রহণ কার্যাদি সম্পন্ন করতে হয়। যেহেতু, উল্লেখিত ভূমি সরকারী কোন আদেশ দ্বারা অধিগ্রহণ করা হয়নি; তাই অধিগ্রহন ব্যতিত সরকার ব্যক্তি মালিকানাধীন কোন ভূমি জোরপূর্বক সরকারী কাজে ব্যবহার করতে পারেন না।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা