শনিবার, ১৫ Jun ২০২৪, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে অনিদ্রায়

রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে অনিদ্রায়

অনলাইন বিজ্ঞাপন

প্রতিকী ছবি।

 

ভাত ঘুম, রাত ঘুম, ঘন ঘুম, আলগা ঘুম, সময়ে এবং অসময়ের ঘুম। কতই না বাহারি নামের ঘুম। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য মানুষের পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন। রাতে ঠিকমতো ঘুম না হলে পরদিন সকাল থেকেই কর্মকাণ্ডে এর প্রভাব পড়ে। বিশ্বে ৭৮ থেকে ৭৯ ধরনের ঘুমজনিত সমস্যা রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বে পূর্ণ বয়স্ক দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ সঠিকভাবে ঘুমায় না। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিদ্রা ফাউন্ডেশনের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের ৬০ শতাংশই সপ্তাহে দুই রাত বা তার বেশি সময় ঘুমজনিত সমস্যায় ভোগেন। শতকরা ৪০ জনের বেশি লোক মাসে অন্তত দুদিন অতি দিবা নিদ্রালুতায় আক্রান্ত হয়ে কর্মক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ঘুম নিয়ে বাংলাদেশে তেমন কোনো গবেষণা হয়নি। তাই আমাদের দেশের কতসংখ্যক মানুষ অনিদ্রায় ভোগেন এবং তার কারণ কী, সে সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।

বিশ্বের প্রায় ৫০ লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত ১৫৩টি গবেষণা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কম ঘুমের কারণে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, বাচ্চারা স্মৃতি হারায় এবং তাদের মেধা কমে যায়। কম ঘুমের কারণে স্নায়ুর সমস্যা, স্থূলতা, আলঝেইমারের আশঙ্কাও বাড়ে।

জার্নাল সায়েন্সে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, অনিদ্রার সঙ্গে দ্রুত মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু অন্যান্য অসুখ যেমনÑডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশতা এবং ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতার সঙ্গে ইনসমনিয়ার যোগসূত্র রয়েছে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই সমস্যাকে মহামারি ঘোষণা করেছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ টানা ১৭ থেকে ১৯ ঘণ্টা জেগে থাকলে মস্তিষ্কে যে ধরনের প্রভাব পড়ে; অতিরিক্ত মদপানের ফলেও একই ধরনের প্রভাব পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতি বৃদ্ধি পেতে থাকে। কোনো ব্যক্তি যদি টানা ১১ দিন না ঘুমিয়ে থাকেন, তাহলে তার স্বাভাবিক আচরণ ও দৈনন্দিন কাজকর্মে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ে; যা তাকে শর্ট টাইম মেমোরি লস থেকে শুরু করে হেলুসিনেশন, এমনকি মস্তিষ্ক বিকৃতির দিকেও নিয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আজ শুক্রবার উদযাপিত হবে বিশ্ব ঘুম দিবস।

২০০৮ সালে প্রথমবার দিবসটি উদযাপন করে ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব স্লিপ মেডিসিনের ‘ওয়ার্ল্ড স্লিপ ডে’ কমিটি। ঘুমের অভাবে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির বিষয়ে মানুষকে জানানোই ছিল এই কমিটির মূল উদ্দেশ্য। এরপর থেকে প্রতি বছর মার্চের তৃতীয় শুক্রবার বিশ্ব ঘুম দিবস উদযাপিত হয়। বিশ্ব ঘুম দিবস মূলত ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব স্লিপ মেডিসিনের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ইভেন্ট। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য—‘সবার জন্য ঘুমের সমতা’।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, কম ঘুমের কারণে ক্যানসারের আশঙ্কা বাড়ে। সবার স্লিপ হাইজিন মেনে চলা উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেলাটোনিন হরমোন আমাদের ঘুমাতে সাহায্য করে। বিকেলের রোদে এই মেলাটোনিন হরমোন পাওয়া যায়। ঘুম ছাড়া বিছানায় সময় কাটানোর দরকার নেই। প্রয়োজনে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গোসল করে নিন। ঘুমানোর আগে চা-কফি বাদ দিন।

‘অ্যাসোসিয়েশন অব সার্জনস ফর স্লিপ অ্যাপনিয়া’ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের নাক, কান ও গলা সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু কালবেলাকে বলেন, সুস্থ থাকতে নিয়মিত ৮ ঘণ্টা ঘুমের বিকল্প নেই। তবে বলা যায়, এখন ঘুমের মহামারি চলছে। কারণ, বেশিরভাগ মানুষেরই রাতের খাবার খাওয়া ও ঘুমাতে যাবার সময় মেনে চলার অভ্যাস নেই।

‘অ্যাসোসিয়েশন অব সার্জনস ফর স্লিপ অ্যাপনিয়া’ বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম খোরশেদ মজুমদার কালবেলাকে বলেন, সঠিক মাত্রায় নিয়মিত ঘুম হলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায়। আবার নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত বা অনিদ্রা হলে তা একজন মানুষকে গুরুতর শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ফেলে দিতে পারে।

সূত্র-কালবেলা।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM