বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪২ অপরাহ্ন

সাংবাদিকের হাত-পা কেটে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি

সাংবাদিকের হাত-পা কেটে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি

অনলাইন বিজ্ঞাপন

ছবি-কালবেলার মহেশখালী প্রতিনিধি রকিয়ত উল্লাহ।

 

সংবাদ প্রকাশের জের ধরে দৈনিক কালবেলা ও কক্সবাজারের স্থানীয় একটি পত্রিকার মহেশখালী প্রতিনিধি রকিয়ত উল্লাহকে মুঠোফোনে হুমকির পর ডেকে নিয়ে মারধর ও হাত-পা কেটে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছে মশিউর রহমান (৩৯) নামের এক ব্যক্তি। নিজেকে মেজর পরিচয় দিলেও তিনি মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে ‘সুমিতমো’ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি অফিসারের দায়ীত্বে রয়েছেন বলে জানা যায়।

গত রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাংবাদিক রকিয়ত উল্লাহর উপর এমন নিন্দনীয় ঘটনা ঘটানো হয়।

রকিয়ত উল্লাহ জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আমার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে ০১৭১৭-০৭৪৪১৭ থেকে ফোন করে নিজেকে সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি একের পর এক হুমকি ও গালিগালাজ করতে থাকেন। পরবর্তীতে বিষয়টি ভুল বুঝাবুঝি দাবি করে স্থানীয় নুর হোসেন সোহেল নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে তা অবসান করার কথা বলে আমাকে তাদের কর্মচারীদের কোয়াটারে নিয়ে যায়। কিছু বুঝে উঠার আগে সেখানে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। এক পর্যায়ে এলোপাতাড়ী মারধর শুরু করে। কয়েক ঘন্টা আটকে রেখে হাত-পা কেটে সাগরে ভাসিয়া দেওয়ার হুমকি দেন। এসময় তিনি নিজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে তার সখ্যতা রয়েছে বলে দাবি করে পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়ার উপর্যুপরি হুমকি দেন।

এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন সাংবাদিক রকিয়ত।

এরআগে ১৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় দৈনিক দৈনন্দিন পত্রিকায় ‘চুক্তির মেয়াদ শেষ, জমিতে নির্মিত অবকাঠামো লুটপাট করতে মরিয়া রানা সিন্ডিকেট’ শিরোনাম একটি সংবাদ প্রকাশ হয়।

জমির মালিকের সাথে চুক্তি নবায়ন না করে আইএইচআই নামে একটি কোম্পানি তাদের নির্মিত অবকাঠামোসহ নানা জিনিসপত্র টেকলিন কোম্পানিকে হস্তান্তর করে দেয়। কিন্তু টেকলিং কোম্পানির সেফটি অফিসার রানা ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে এরই মধ্যে অবকাঠামো গুলো ভেঙে ফেলে মালামাল লুটপাট করতে তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংবাদে তুলে ধরা হয়। সংবাদে প্রকাশিত তথ্যের সাথে কথিত মেজর মশিউর রহমান নামের ওই ব্যক্তির কোন সম্পর্ক নেই।

মহেশখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ ইউনুস বলেন, সংবাদ প্রকাশে কোন অসংগতি থাকলে অভিযুক্তরা দেশের প্রচলিত আইনে ব্যাবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তা না করে সংবাদকর্মীকে হেনস্থা বা আটকিয়ে রাখার কোন সুযোগ নেই। এটা সম্পূর্ণ আইন বিরোধী। সুমিতোমো কোম্পানির একজন সিকিউরিটি অফিসার কর্তৃক সাংবাদিকে হুমকি ও আটকিয়ে রাখার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তাকে অপসারণের দাবী জানান তিনি। অন্যথায় কঠোর আন্দোলের হুশিয়ার দেন এ সাংবাদিক নেতা।

অভিযযোগের বিষয়ে জানতে সুমিতোমো কোম্পানীর সিকিউরিটি অফিসার মশিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প সুমিতোমো’র কোম্পানীর ইঞ্জিনিয়ার কাজী মহসিন বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে আমি জানিনা। আপনাদের কাছ থেকে শুনলাম। কোন সিকিউরিটি অফিসার আইনগত ব্যাবস্থা না নিয়ে ব্যাক্তিগত কাউকে হেনস্থা বা লাঞ্চিত করার সুযোগ নেই। ঘটনার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, সুমতোমো কোম্পানীর সিকিউরিটি অফিসার মশিউরের সাথে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কোন সম্পর্ক নেই। কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পেন অধীনে অনেক কোম্পানী সাপ্লাই বা বিভিন্ন কাজ করে। হয়তো তাদের কোন কর্মচারী হতে পারে সে। তার দায়ভার আমরা নিবো না। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

মহেশখালী থানার অফিসার (ওসি) ইনচার্জ সুকান্ত চক্রবর্তী বলেন, সাংবাদিককে হুমকি ও লাঞ্চিত করার ঘটনায় একটি সাধারন ডায়েরী পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM