শনিবার, ১৩ Jul ২০২৪, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন

মিয়ানমার বিজিপি‘র গুলিতে কাঠুরিয়া নিহত

মিয়ানমার বিজিপি‘র গুলিতে কাঠুরিয়া নিহত

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে এক কাঠুরিয়াকে গুলি করে হত্যা করেছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। এসময় পালিয়ে রক্ষা পেয়েছে আরও দুই কাঠুরিয়া। নিহত জয়নাল আবেদীন নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের আশারতলী গ্রামের মোহাম্মদ হোছেনের ছেলে। সোমবার ১৪ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ৪৬-৪৭নং পিলারের মধ্যস্থানে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষিবাহিনী কর্তৃক সীমান্ত এলাকায় আবারও এমন বেপরোয়া আচরণের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসা একই গ্রামের খলিল আহমদের ছেলে আমান উল্লাহ ও আলী আহমদের ছেলে নুরুল আমিন গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন, তারা সোমবার সকালে প্রতিদিনের ন্যায় সীমান্ত এলাকায় লাকড়ি সংগ্রহ করতে যায়। কিন্তু সকাল ১১টার দিকে আকষ্মিক মিয়ানমার বাহিনী বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করে অহেতুকভাবে তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এসময় তারা নানা চেষ্টার পর পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও জয়নাল আবেদীন ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। পরে, জয়নাল আবেদীনের মৃতদেহটি নিয়ে যায় মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
ঘটনার বিষয়ে রামু ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লে.কর্ণেল শফিউল আলম পারভেজ বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে এ ধরণের খবর পেয়ে সোমবার বিকালে বিজিবির একটি টহল দল ঘটনাস্থলে তল্লাসী চালিয়েছিল। কিন্তু এ সময় কোন মৃতদেহ পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি জোন কমান্ডার লে.কর্ণেল হাসান মোরশেদ পিএসসি জি প্লাস বলেন, মিয়ানমার বাহিনীর গুলিতে বাংলাদেশী এক কাঠুরিয়া গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে শুনেছি। প্রতিপক্ষের অধিনায়ককে বিষয়টি মুঠোফোনে জানানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে চিঠিও পাঠানো হবে। তবে, সীমান্ত পরিস্থিতি বরাবরের মত শান্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গেল বছরের ২৮ মে সকালে নাইক্ষ্যংছড়ির পাইনছড়ি সীমান্তে বিজিবি টহল দলের উপর বিনা-উষ্কানিতে গুলি বর্ষণ করেছিল মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এতে গুলিবদ্ধি হয়ে মারা যান ৩১ বিজিবির নায়েক মিজানুর রহমান। মৃত্যুর পর তার অস্ত্রসহ মৃতদেহ নিয়ে যায় মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীরা। এ নিয়ে সীমান্তে শুরু হয় চরম উত্তেজনা। বিজিবি এবং বিজিপির মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে।
ঘটনার তিন দিন পর ৩১ মে বিকেল ৫টায় বিজিবির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃতদেহটি হস্তান্তর করা হয়। ২ জুন হেলিকপ্টারযোগে মিজানুরের মৃতদেহ গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বারে নেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM