শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ০৮:১৯ অপরাহ্ন

পেকুয়ায় জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাবে মাটির উন্নয় হ্রাস

পেকুয়ায় জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাবে মাটির উন্নয় হ্রাস

অনলাইন বিজ্ঞাপন

এস.এম.ছগির আহমদ আজগরী পেকুয়া

কক্সবাজারের পেকুয়ায় জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাব আর দফায় দফায় বন্যায় আশংকাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে মাটির উচ্চতা। ফলে, উপজেলার নিচু এলাকা ছাড়াও পাহাড়ি লোকালয়ের উল্লেখযোগ্য পরিমান জায়গা জমিতে আবাদ ক্ষমতা ছাড়াও ভূমির ভারসাম্য হারানোর আশংকা দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভুমির ভারসাম্য বাড়াতে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা জোরদারের আহব্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

জানা যায়, বিশ^ জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাবের পাশাপাশি চলতি বছরের বর্ষা মৌসূমের কয়েক দফা বন্যার শিকার হয় পেকুয়া। এসময় উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদের পাড়া-মহল্লায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার পাশাপাশি পানির তোড়ে ভেসে যায় বিস্তির্ণ লোকালয়ের জায়গা জমির মাটি। এছাড়া, বিস্তির্ণ জনপদের দীর্ঘদিনের বিদ্যমান পুকুর, ডোবা, জলাশয় ও খানা খন্দকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি বালি মাটিতে হয়ে যায় একাকার। সে সময়ের কয়েক দফা বন্যার জলাবদ্ধতা ও করাল ¯্রােতের ভয়াল থাবায় প্রায় ৩ থেকে ৫ফুট পর্যন্ত নিচু এলাকার ভূমি মাটির আস্তরণ ধেবে যায়। যার কারণে চলতি আমন মৌসূমের ধান ও অন্যান্য চাষাবাদে দেখা দেয় নানা চিকিৎসাহীন সমস্যায়। অন্যদিকে, বৈশি^ক জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাবের পাশাপাশি পরিবেশগত অবক্ষয় আর অতি বৃষ্টি অনাবৃষ্টি ও সংরক্ষন ব্যবস্থাপনায় নানা অসংগতির জের ধরে উপজেলার ৩পাহাড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকার ছোট বড় বেশকিছু ঠিলায় দেখা দিয়েছে ছোট বড় ধ্বস। সংরক্ষন বা রক্ষনাবেক্ষনে চরম অব্যবস্থাপনার শিকারের লক্ষবস্তুতে পরিণত হওয়ায় সংরক্ষিত ছাড়াও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় অর্ধশতাধিক পাহাড়ি ঠিলায় দেখা দিয়েছে ধ্বস আর দূর্ঘটনার বিপদ।

এসবের কারনে উপজেলার ৩পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত শত শত বাস্তু ভিটাহীন ভুমিহীন পরিবারের লোকজনের মাঝেও বিরাজ করছে চরম ঝুঁকিপূন জিবন যাত্রায় বসবাসের বাস্তবতা। ফলে, পরিবেশগত অবক্ষয়ের শিকার এসব পাহাড়ি ঠিলাগুলো একদিকে যেমন পরিণত হয়েছে অনাবাদী পাহাড়ে। আর অন্যদিকে সেখানটায় বসবারত লোকজনের নিরাপদ জিবন যাত্রা নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেকেই নিজ উদ্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনাবাদে উপযোগী পাহাড়ি ঠিলা থেকে নেমে আসা ও বিধ্বস্ত হওয়া পাহাড়ি বালি আর মাটি অপসারনের মাধ্যমে তাদের বসতিকে করছে বসবাস উপযোগী। এসব বিষয় নিয়ে নানা জনের নানা অবস্থান আর মন্তব্য বাদ প্রতিবাদের ঘটনা বাড়ায়ও ধ্বসে পড়া ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঠিলা এলাকায় বসবাসকারীরাও শিকার হচ্ছেন চরম অপবাদ হয়রানীর শিকার। যা নিয়েও বিরাজ করছে চাঁপা ক্ষোভ ও ভিন্ন মত। তবে, সচেতন মহলের মন্তব্য, বৈশি^ক জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাব আর অতিবৃষ্টি অনাবৃষ্টি ও অন্যান্য কারণে উপজেলার নিচু এলাকার জায়গা জমির সরে যাওয়া বা হারানো মাটির স্তরের ভারসাম্য পূনরূদ্ধার যেমন জরুরী তেমনি জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাব পরিবেশগত অবক্ষয় আর অতিবৃষ্টি অনাবৃষ্টি এবং নানা কারনে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনাবাদে পরিণত পাহাড়ি ঠিলার নেমে আসা আর ধ্বসে পড়া মাটি বালি দ্রুত অপসারনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা নিচু এলাকা থেকে সড়ে পড়া বা ধ্বেবে যাওয়া জায়গা জমিতে ভরাট কাজ সম্পন্ন করে এলাকার ভুমির ভারসাম্য জোরদার অপরিহার্য্য হয়ে পড়েছে।

এদিকে পাহাড়ি এলাকা আর ঠিলায় বসবাসরত শত পরিবারের লোকজন তাদের পরিবেশগত অবক্ষয় ও অনাবাদী পাহাড়ি ঠিলায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস নিয়ে যে সব মন্তব্য ও তথ্য চিত্র এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, স্থান সংকুলান অভাবে তা এ প্রতিবেদনে তুলে ধরা সম্ভব না হলেও আগামীতে সচিত্র বা ধারাবাহিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরার আশা রেখেই সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট সকলের জ্ঞাতার্থে তুলে ধরা হলো। এ প্রসঙ্গে জানতে, পেকুয়ার ইউএনও মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাব আর দফায় দফায় বন্যার কারণে উপজেলার নিচু এলাকার মাটির স্তর হ্্রাস আর বেশকিছু ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঠিলা বিদ্যমানের সত্যতা নিশ্চিত করলেও এর বেশি কিছু মন্তব্যে অপারগতা জানান।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM