বৃহস্পতিবার, ২৫ Jul ২০২৪, ১০:১২ অপরাহ্ন

পেকুয়ায় ছাত্রী শারমিনের আত্মহত্যা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ও কিছু প্রশ্ন

পেকুয়ায় ছাত্রী শারমিনের আত্মহত্যা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ও কিছু প্রশ্ন

অনলাইন বিজ্ঞাপন

পেকুয়া প্রতিনিধি
টইটং পন্ডিত পাড়া এলাকার সৌদি প্রবাসী দিদারুল ইসলাম। ২ স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। ১ম স্ত্রী মরতুজা বেগমের ৪ মেয়ে ১ ছেলে। ২য় স্ত্রী শাহিন সোলতানাকে বিয়ে করে ২০১৩ সালের দিকে। তারও রয়েছে ১ ছেলে। আর আত্মহত্যাকারী শারমিন রীমা জেনি (১৫) ১ম স্ত্রীর ৩য় কন্যা। সে থাকত ২য় স্ত্রীর সাথে। নেয় আর্থিক অনটন নেয় পারিবারিক সমস্যা। লেখাপড়াও চলছিল ঠিকমত। তাহলে সে আত্মহত্যা করলো কেন। নাকি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। এ প্রশ্নটি এখন পুরো পেকুয়ায় আলোচিত ।

এ প্রশ্নটি নিয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রবাসী দিদারুল ইসলাম দীর্ঘ ১যুগ ধরে সৌদিতে অবস্থান করছেন। এরই মাঝে ২/৩ বার বাড়িতে ছুটি কাটতে আসলে ২০১৩ সালের দিকে চট্রগ্রামস্থ লোহাগাড়া থানার শাহিন সোলতানা নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন। বিষয়টি ১ম স্ত্রী অবগত হওয়ার পর স্বামীর সাথে বেশ মৌনমালিন্য হয়। এক পর্যায়ে ৫ সন্তানের ভবিষ্যত কথা চিন্তা করে ২য় স্ত্রীকে মেনে নেয়। এরপর দিদারুল ইসলাম ২য় স্ত্রীকে টইটং পন্ডিত পাড়া এলাকায় নিয়ে এসে ১তলা বিশিষ্ট একটি ফাকা ভবন নির্মাণ করে ১ম স্ত্রীর ৩য় কন্যা শারমিনকে তার সাথে রেখে চলে যায়। অদ্যবধি সে সৌদি আরবেই অবস্থান করছেন।

এদিকে তার ২য় স্ত্রী শাহিন সোলতানা স্বামীর অবর্তমানে জড়িয়ে পড়ে পরকিয়ায়। একই এলাকার আলী আহমদের পুত্র মো: ইউসুপ প্রতি ভোর রাতে আসা যাওয়া করতো ওই বাড়িতে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়রা তাদের পরিবারকে অবগত করে। কিন্তু তারপরও মো: ইউসুপের আসা যাওয়া অব্যহত থাকে শাহিন সোলতানার বাসভবনে। আর ওই বিষয়টি কখনো মেনে নিতে পারেনি আত্মহত্যার স্বীকার মেধাবী ছাত্রী শারমিন রীমা জেনি। তিনিও তাকে তাদের বাড়িতে না আসার জন্য বারণ করে। আসলে তার পিতাকে বলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। আর তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মো: ইউসুপ। এদিকে তার আত্মহত্যার ৩দিন আগে গত ২৬ নভেম্বর শারমিন রীমা জেনি তার টিউশনি শেষ করে সন্ধ্র্যার সময় বাড়ি ফেরার পথে টইটংস্থ সীমান্তব্রীজের পার্শ্বে তার পথ গতিরোধ করে এ বিষয়ে তাকে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি প্রদর্শন করে। তখন দুজনে কথাকাটির এক পর্যায়ে শারমিনকে হামলার চেষ্টা করলে সে দৌড়ে বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তখন থেকে আরো বেশি তার সৎ মায়ের সাথে মৌনমালিণ্য শুরু হয়। এরপর ২৯ নভেম্বর দিবাগত রাতে সে গলায় ফাস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। পুলিশ লাশ উদ্ধারের সময় তার নিজ মা ও বোনেরা বিষয়টি পুলিশকে অবগত করার চেষ্টা করলেও সৎ মায়ের লোকের কারণে বলতে পারেনি বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা শারমিনের আত্মহত্যার ওই রাতে ১০টার সময় মো: ইউসুপকে ওই বাড়ির আশেপাশে দেখেছেন বলে জানিয়েছে। তাদের ধারণা এ আত্মহত্যার সাথে তার সৎ মায়ের পরকিয়ার সম্পূর্ক থাকতে পারে। কোন কারণ ছাড়াতো সে আর আত্মহত্যা করেনি। এলাকাবাসীর দাবী সৎ মা শাহিন সোলতানা ও পরকিয়া প্রেমিক মো: ইউসুপকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আত্মহত্যার আসল রহস্য বের হয়ে আসলে। আর মেয়েটিও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবেনা।
কেন মেধাবী ছাত্রী শারমিন আত্মহত্যা করেছে জানতে চাইলে তার সৎ মা শাহিন সোলতানা কোন উত্তর না দিয়ে উল্টো প্রশ্ন করেন এতো রাতে কেউ আত্মহত্যা করলে আমি কি করতে পারি। আর তার সাথে স্থানীয় একজনের পরকিয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন এগুলো এলাকাবাসীর মুখের কথা।
তার এক বোনের সাথে কথা বলতে চাইলে পরিবারের সবাই থাকায় তিনি ভাল মন্দ কোন ধরণের উত্তর দেননি এবং তার মা মরতুজা বেগমও বিষয়টি পরে জানাবে বলে জানায়।
লাশ উদ্ধারকারী পেকুয়া থানার এসআই ওমর ফারুককে বিষয়টি অবগত করলে তিনি জানান, এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে খোঁজ খবর নেওয়া হবে। আর মেয়ের মা যদি আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাই তাহলে পুলিশের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM