বুধবার, ২৪ Jul ২০২৪, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন

পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ স্পষ্ট

পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ স্পষ্ট

অনলাইন বিজ্ঞাপন

 আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স
শর্তসাপেক্ষে বিএনপি পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও শনিবার মেয়র প্রার্থী মনোনয়নের প্রত্যয়নপত্র প্রদানের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাঠিয়েছে। পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে বিএনপি যে সব শর্ত জুড়ে দিয়েছিল তা বাস্তবায়ন না হলেও দলটির অংশগ্রহণ এখন স্পষ্ট। এখন শুধু মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া বাকি। আগামী ৩ ডিসেম্বর মধ্যে মনোয়নপত্র জমা দিতে হবে।বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহানকে প্রত্যয়নপত্র প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছেন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দলীয় প্রধান স্বাক্ষরিত পত্রটি নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব সামসুল আলমের কাছে জমা দিয়েছে বিএনপি।

শুক্রবার দলটি নয়াপন্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেললে পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে বেশ কিছু শর্ত দেয়। নির্বাচন ১৫ দিন পেছানোসহ গণগ্রেফতার বন্ধ ও বিধিমালা সংশোধন করে নতুন ৫০ লাখ ভোটারের ভোটদানের সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

তবে বিএনপির দাবির বিষয়ে কিছুই করার নেই বলে ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়। নির্বাচন পেছানো সম্ভব নয় বলে জানান ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম। তিনি শুক্রবার দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘নির্বাচন পেছানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।’

এদিকে শনিবার দুপুর ১২টায় আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এসে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল বেগম খালেদা জিয়া স্বাক্ষরিত চিঠিটি জমা দেন।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন— বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন ও সহ-দফতর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম টিপুসহ ৫ জন।

এ সময় ইমরান সালেহ প্রিন্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিধিমালা অনুসারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে পৌরসভা মেয়র পদে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যয়নের জন্য মো. শাহজাহানকে চেয়ারপারসন ক্ষমতা প্রদান করেছেন। তারই একটি নমুনা স্বাক্ষর-সংবলিত সত্যায়িতপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছি। কমিশন প্রতিটা পৌরসভার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এ নমুমাপত্র পাঠাবেন।’

ইসি বিএনপির দাবি না মানলেও নির্বাচনে যাবে কিনা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ভোটে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আগেও স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়েছে। তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশন আন্তরিক হলে নির্বাচন পেছানো সম্ভব।’

এদিকে মেয়র পদে একক প্রার্থী মনোনয়ন দিতে শনিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নমুনা স্বাক্ষর-সম্বলিত চিঠি দিয়েছে নিবন্ধিত ১০টি দল। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও জাপার দলীয় প্রধান এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান মনোনয়ন প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুছ আহমদ, এনপিপির চেয়ারম্যান শওকত হোসেন নিলু, বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মহাসচিব সাইফুল হককে প্রত্যয়নকারী হিসেবে ক্ষমতা প্রদান করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠি শনিবার নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়ে উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাওছার সাংবাদিকদের বলেন, ‘দলীয় প্রধানই (শেখ হাসিনা) প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দেবেন। সে সংক্রান্ত পত্র ইসিতে জমা দেওয়া হয়েছে।’

মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রধানের স্বাক্ষরে প্রত্যয়নপত্র পেলে প্রার্থী, নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের উজ্জীবিত হবে বলে মনে করেন তিনি।

এই প্রথম দলীয় ব্যানারে মেয়র পদে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে কাউন্সির পদে আগের মতোই নির্দলীয় থাকবে।

গত ২৪ নভেম্বর পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই দলগুলোকে একক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে চিঠি দেয় ইসি।

ইসির সহকারী সচিব মো. রাজিব আহসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘দলের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক/সমপদাধিকারী/ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রত্যয়নে দলকে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে।’ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসিকে জানাতে বলা হয়। তবে দলীয় প্রধান, সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, নিজে মনোয়নপত্র দিলে সে ক্ষেত্রে ইসিকে জানানোর বাধ্যবাধকতা নেই।

দ্য রিপোর্ট


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM