বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৫৫ অপরাহ্ন

পেকুয়ায় বানৌজা শেখ হাসিনা সাবমেরিন ঘাঁটির উদ্বোধন

পেকুয়ায় বানৌজা শেখ হাসিনা সাবমেরিন ঘাঁটির উদ্বোধন

অনলাইন বিজ্ঞাপন

ফাইল ছবি।

 

 

কক্সবাজারে বানৌজা শেখ হাসিনা সাবমেরিন ঘাঁটির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (২০ মার্চ) গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এটির উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান। এর মধ্যদিয়ে সামরিক সক্ষমতায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ। আর গুরুত্বের দিক দিয়ে এগিয়েছে কক্সবাজার উপকূল।

সাবমেরিন ঘাঁটির উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও সক্ষম বাহিনী হিসেবে গঠনে বর্তমান সরকার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সমুদ্রের অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় নৌবাহিনীর আধুনিকায়নের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বঙ্গবন্ধু আধুনিক ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর স্বপ্ন দেখেছিলেন। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি আধুনিক শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তুলতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ বিশেষায়িত ঘাঁটি সংযোজিত হয়েছে।

দেশের জলসীমা সুরক্ষায় নৌবাহিনীর সাবমেরিনগুলোর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এ ঘাঁটির গুরুত্ব অত্যধিক। দেশের সার্বভৌমত্ব, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা রক্ষা ও চলমান অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালনের জন্য নৌবাহিনীর সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম ও কর্তব্যনিষ্ঠার জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

বানৌজা শেখ হাসিনা সাবমেরিন ঘাঁটির উদ্বোধন উপলক্ষে পেকুয়া উপকূলের সাবমেরিন ঘাঁটি এলাকা সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। দেশের ইতিহাসে প্রথম শেখ হাসিনা সাবমেরিন ঘাঁটিতে এরই মধ্যে বেশকিছু অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও টেলিকনফারেন্সে যুক্ত হওয়া প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিক্রমে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল ঘাঁটির অধিনায়ক কমোডর মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের হাতে কমিশনিং ফরমান তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিক নামফলক উন্মোচন করেন। এর মধ্য দিয়ে ঘাঁটিতে নৌবাহিনীর অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হলো।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে রূপান্তরে সাবমেরিন সংযোজন ছিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সংবেদনশীল ও কৌশলগত রণতরী হিসেবে সাবমেরিনের সর্বোত্তম ব্যবহার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে একটি বিশেষায়িত ও স্থায়ী ঘাঁটির গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৭ সালের ১২ মার্চ ‘বানৌজা শেখ হাসিনা’ নির্মাণে ঘাঁটির নামফলক উন্মোচিত হয়।

২০১৭ সালে সাবমেরিন যুগে প্রবেশের পর কর্ণফুলী নদীর ঈশা খাঁ নৌঘাঁটিতে বানৌজা ‘নবযাত্রা’ ও ‘জয়যাত্রা’ নামে সাবমেরিন দুটি রাখা হতো। তখনই সাবমেরিনের স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের ঘোষণা দেন সরকারপ্রধান। বানৌজা শেখ হাসিনা ঘাঁটিতে সাবমেরিন নিরাপদে রাখতে বেসিন ও এন্ট্রি চ্যানেল, সাবমেরিন ফ্লিট হেডকোয়ার্টারস, যুদ্ধ জাহাজের বার্থিং ফ্যাসিলিটিজ এবং সাবমেরিন সংক্রান্ত সব ধরনের বেস সাপোর্ট ফ্যাসিলিটিজ আছে।

সাবমেরিনের অপারেশনাল কার্যক্রম, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপদ বার্থিংয়ের জন্য বিশেষায়িত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ ঘাঁটি খুবই জরুরি। এ পরিপ্রেক্ষিতে সাবমেরিনের নিরাপদ বার্থিং সুবিধার জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কক্সবাজারের পেকুয়ায় প্রায় ৭০০ একর জায়গা নিয়ে নির্মিত হয়েছে আধুনিক সব সুবিধা সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ সাবমেরিন ঘাঁটি বানৌজা শেখ হাসিনা। সাবমেরিন দুটির প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৭৬ মিটার ও প্রস্থ সাড়ে সাত মিটার। টর্পেডো ও মাইনে সুসজ্জিত সাবমেরিনগুলো শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও ডুবো জাহাজে আক্রমণ চালাতে সক্ষম। পূর্ণ ধারণক্ষমতা নিয়ে এগুলোর গতিবেগ ঘণ্টায় ১৭ নটিক্যাল মাইল।

বানৌজা শেখ হাসিনা সাবমেরিন ঘাঁটির উদ্বোধন উপলক্ষে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা নৌকমান্ডো, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক, নৌসদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন পেকুয়ায় অনুষ্ঠান আয়োজকরা।

সূত্র-জাগোনিউজ


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM