রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন

‘ঠিকাদার-বনবিভাগ মিলে কোটি টাকা লোপাট’

‘ঠিকাদার-বনবিভাগ মিলে কোটি টাকা লোপাট’

অনলাইন বিজ্ঞাপন

 

 

সরকারি বনজ সম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং বনের উপর সরাসরি নির্ভরতা হ্রাসসহ বনজ সম্পদ উজাড়রোধে কল্পে সরকার সাস্টেনেইবল ফরেস্ট এন্ড লাভলীহুডস প্রজক্ট (সুফল) বা টেকসই বন ও জীবিকা প্রকল্প গ্রহণ করেন। এ প্রকল্পের আওতায় নার্সারি করার জন্য দো-আঁশ মাটি ব্যবহার না করে পাহাড়ী মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। নিম্নমানের বীজ দিয়ে নার্সারি ও চারা রোপনে নিয়োজিত শ্রমিকের মাস্টাররোলে করা হয়েছে ব্যাপক অনিয়ম। বাঁশের খুঁটি ক্রয় না করে ব্যবহার করা হয়েছে বনের গাছের চারা। এভাবেই অনিয়মের মাধ্যমে মিলেমিশে কোটি টাকা লুটপাট করেছে ঠিকাদার ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা। আলোকিত কক্সবাজারের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ পড়ুন প্রতিবেদনের ৯ম পর্ব।

 

ওয়াহিদ রুবেল, কক্সবাজার

ঠিকাদার ও বনবিভাগ মিলে টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের কোটি টাকা লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে। দো-আঁশ মাটির বদলে পাহাড়ী মাটি আর নিম্নমানের বীজ দিয়ে দায়সারাভাবে নার্সারি করে কোটি টাকা লুট করে নিয়েছে ঠিকাদার এবং বনবিভাগ। একই সাথে নামে মাত্র শ্রমিক দিয়ে চারা রোপন করা হলেও মাস্টাররোলে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়। আর বাঁশের খুঁটি ক্রয় না করে ব্যবহার করা হয়েছে বনের গাছের চারা। এভাবেই অনিয়মের মাধ্যমে মিলেমিশে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে ঠিকাদার ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা। ফলে মাঠেই মারা যাচ্ছে সুফল প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্য।

মাস্টাররোলে কিছু অনিয়ম এবং পাহাড়ী মাটি ব্যবহারের বিষয় স্বীকার করলেও নার্সারিতে কোন অনিয়ম হয়নি বলে দাবি বনবিভাগের।

আরো পড়ুন- তালিকা হয়নি উপকারভোগীর; প্রশিক্ষণের কথা জানেনা নার্সারি মালিকরা

জানা যায়, সুফল প্রকল্পের বাগান সৃজন ও নার্সারী উত্তোলনের উপকরণ সরঞ্জামাদি ক্রয়ের জন্য কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৩২ কোটি ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা অর্থ বরাদ্দ দিয়ে পৃথক দরপত্র আহবান করে বনবিভাগ। যেখানে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ বাঁশের খুটির জন্য বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার, দোঁ-আশ মাটি ক্রয়ের জন্য ৬০ লাখ ৭৫ হাজার এবং বীজের জন্য ১৫ লাখ ১০ হাজার টাকার দরপত্র আহবান করা হয়েছিল। কিন্তু নি¤œমানের বীজ ক্রয় থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে চরম অনিয়মের আশ্রয় নেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার নেতৃত্ব দিয়েছেন বনবিভাগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বন বিভাগের অনেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চারা উত্তোলন, চারা রোপন করতে দৈনিক নামে মাত্র কর্মচারি ব্যবহার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে বনের উপকারভোগীদের (ভিলেজার) দিয়ে কাজ সারিয়ে নেয়া হয়। অথচ মাস্টারোলের হাজিরা খাতায় দৈনিক শতাধিক শ্রমিকের নাম রয়েছে। কাগজে কলমে শ্রমিকের উপস্থিতি দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বনবিভাগ। অনিয়মের সেই মাস্টাররোল বনবিভাগে রক্ষিত থাকলেও সংবাদকর্মীদের তথ্য দিতে অপারগতা জানান কর্মকর্তারা।

আরো পড়ুন-‘সুফল’ প্রকল্প: সাইনবোর্ডে সুফল বাগান !

অভিযোগ স্বীকার করেছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সরওয়ার আলম।

তিনি বলেন, শ্রমিকের উপস্থিতি নিয়ে কিছুটা অনিয়ম হয়নি বলা যাবে না। তবে একদিন ২০ হলে আরেক দিন ৪০ জন উপস্থিত হতো। আবার আরেক দিন ১০০ জন উপস্থিত হতো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নার্সারিতে কাজ করা এক শ্রমিক জানিয়েছেন, সুফল প্রকল্পের নার্সরির জন্য দো-আঁশ মাটির পরিবর্তে পাহাড়ি মাটি এবং নি¤œমানের বীজ ব্যবহার করা হয়েছে। আর খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বনের চারা গাছ। যা ভিলেজার দিয়ে বন থেকে সংগ্রহ করা হয়। অথচ কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ বাঁশের খুটির জন্য দরপত্র আহবান করেন। নি¤œমানের বীজ ব্যবহার করায় নার্সারিতে অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়েছে অনেক বীজ। আর রোপন করার পর বাগানে নষ্ট হয়েছে অনেক। এভাবেই ঠিকাদার আর বনবিভাগ মিলে কোটি টাকা লুটপাঠ করে নিজেদের পকেটে সুফল তুলেছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। সরজমিনে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভিন্ন বাগানে চারা মরে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে।

আরো পড়ুন-সুফল প্রকল্পে সুফল নিয়ে সঞ্চয় !

অভিযোগ অস্বীকার করে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয বনকর্মকর্তা সরওয়ার আলম বলেন, আমরা নিয়ম মতো নার্সারি করেছি। কোন অনিয়ম হয়নি। তবে পাহাড়ী মাটি ব্যবহার করার কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, যেসব স্থানে চারা মারা গেছে সেখানে নতুন রোপন করা হবে।

এসব অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে প্রকল্প পরিচালক গোবিন্দ রায়কে একাধিকবার ফোনকে করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করারয় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM