বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৭:১৪ অপরাহ্ন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিকল্পিত আগুন; ভিডিও ভাইরাল

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিকল্পিত আগুন; ভিডিও ভাইরাল

অনলাইন বিজ্ঞাপন

ছবি-অগুনে জ্বলছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ইনসেট বসত ঘরে আগুন দিচ্ছে রোহিঙ্গা।

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে ফের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আজ রোববার ফায়ার সার্ভিসের ১০ ইউনিটসহ সেনাবাহিনী ও স্থানীয়রা চেষ্টা চালিয়ে ৩ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

নিয়ন্ত্রণে আসার আগে আগুনের ভয়াবহতায় পুড়েছে দুই সহস্রাধিক রোহিঙ্গা বসতি। এতে গৃহহারা হয়েছে প্রায় পনেরো হাজার রোহিঙ্গা। প্লাস্টিকের বসতি এবং এলপিজি গ্যাসের কারণে আগুনের ভয়াবহতা বেড়েছে। এতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লেগেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা বলতে পারে নি শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।

আগুন লাগার ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে বলে জানান শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা।

তবে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতারা। তারা বলছেন, কয়েক দিন ধরে রোহিঙ্গাদের মাঝে গুঞ্জন ছিল নাশকতার জন্য আগুন ধরানো হতে পারে। এর আগেও একাধিকবার নাশকতার আগুনে পুড়েছিল বালুখালীর একাধিক রোহিঙ্গা ক্যাম্প। বসত ঘরে আগুন লাগার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোহিঙ্গা নেতা বলেন, ‘বেশ কয়েক দিন ধরে মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসা ও আরএসও’র মাঝে গোলাগুলি-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা হতাহত হয়েছেন। এর জেরে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে উচ্ছেদ করতে শিবিরে আগুন দিতে পারে।’

আজ বিকেল পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-১৫ ব্লকের একটি বসতঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত। এতে কমপক্ষে আড়াই হাজার ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এতে গৃহহারা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার রোহিঙ্গা।

১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আব্দুল হাকিম বলেন, ঘরে বসে ছিলাম। লোকজনের চিৎকার শোনে বের হয়ে দেখি ক্যাম্পে আগুন লেগেছে। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে চলে আসি।

১১ নম্বর ক্যাম্পের নুরুল হাকিম কান্না করতে করতে বলেন, আমার সব শেষ। কোনো রকম স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে জীবন রক্ষা করেছি। সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

স্থানীয় যুবক আলমগীর নিশা বলেন, যে স্থানে আগুন লেগেছে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছানো কঠিন। তাই শত চেষ্টার পরও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্লাস্টিক এবং এলপি গ্যাসের কারণে আগুনের এ ভয়াবহতা বেড়েছে। তিনি বলেন, এনজিও সংস্থার পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের এলপিজি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তা শিখিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগেই প্রায় ২ হাজার শেল্টার পুড়ে ছাই হয়ে যায়। যেখানে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ বসবাস করতেন। ঘটনার তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে থাকা কক্সবাজারের এডিএম মো. আবু সুফিয়ান বলেন, ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ১৫ হাজারের মতো মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে। প্রায় ২ হাজারের মতো ঘর পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডটি পরিকল্পিত নাশকতা কি না তা খতিয়ে দেখছি আমরা।

উল্লেখ্য, শরণার্থী কমিশনার কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০২১ সালের ২২ মার্চ উখিয়ার বালুখালী এলাকার তিনটি (ক্যাম্প-৮, ৯ ও ১১) ক্যাম্পে সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। ওই অগ্নিকাণ্ডে ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বসতি পুড়ে ছাই হয়। গৃহহীন হয়েছিল ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা যান ৬ শিশুসহ ১৫ জন রোহিঙ্গা। ওই আগুনের সূত্রপাত কোত্থেকে, এখনো জানা যায়নি।

বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেন ৮ লাখ রোহিঙ্গা


“রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিকল্পিত আগুন; ভিডিও ভাইরাল” এ একটি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM