শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন

কারো নামে কসম নয়,আল্লাহ ছাড়া

কারো নামে কসম নয়,আল্লাহ ছাড়া

অনলাইন বিজ্ঞাপন

 

।।আলেমা হাবিবা আক্তার।।

সমাজের বহু মানুষকে মা-বাবা, মসজিদ, মাদরাসা, বিদ্যা-বুদ্ধি, খাবার-পানীয় ইত্যাদির নামে কসম করতে দেখা যায়। ইসলাম আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম করতে নিষেধ করেছে। অন্য কারো নামে কসম করাকে শিরকতুল্য অপরাধ ঘোষণা দিয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে বাহনে আরোহণ করা অবস্থায় তাঁর পিতার নামে কসম করতে দেখলেন। তিনি তাদের ডেকে বললেন: সাবধান! আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। কেউ কসম করতে চাইলে সে যেন আল্লাহর নামে কসম করে, নইলে যেন চুপ থাকে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১০৮)

অধিক কসম করা নিন্দনীয় : ইসলাম অধিক পরিমাণ কসম করা পছন্দ করে না। অধিক পরিমাণ কসম করা থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করেছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা আনুগত্য কোরো না প্রত্যেক এমন ব্যক্তির, যে বেশি কসমকারী, লাঞ্ছিত।’ (সুরা কলম, আয়াত : ১০)

শিরকতুল্য অপরাধ : আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম করা শিরকতুল্য অপরাধ। সাঈদ ইবনে আবু উবায়দা (রহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) এক ব্যক্তিকে এভাবে শপথ করতে শুনলেন—না, এ কাবার শপথ! তখন ইবনে ওমর (রা.) তাঁকে বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে শপথ করে, সে শিরক করল। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৩২৫১)

কসম কেবল আল্লাহর নামে : মুমিন কেবল আল্লাহর নামেই কসম করবে, অন্য কারো নামে কসম করবে না। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের পিতার নামে কসম করবে না, মাতা বা দেব-দেবীর নামেও না। কেবল আল্লাহর নামেই কসম করবে। আর আল্লাহর নামে কসম করার ব্যাপারে তোমাদের সত্যবাদী থাকতে হবে তথা মিথ্যা কসম খাবে না।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৩২৪৮)

প্রয়োজনে কসমের অনুমতি : ইসলাম প্রয়োজনের সময় কসম করার অনুমতি দিয়েছে। বিশেষত ইসলামী আদালতের নির্দেশ পালনার্থে কসম করা যাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কসম করার জন্য তোমাকে যে ব্যক্তি চাপ দেয় বা দাবি জানায় তার উদ্দেশ্যের অনুকূলে তোমাকে কসম করতে হবে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, প্রতিপক্ষের নিয়ত বা উদ্দেশ্যের অনুকূলে করা যাবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৬৫৩)

কসম থেকে সরেও আসতে হয় : ইসলাম প্রয়োজনে কসম করার অনুমতি দিয়েছে। তবে কসমের নামে নিজের ক্ষতি করার অনুমতি দেয়নি। সুতরাং কসম করার পর বিপরীত কিছু কল্যাণকর দেখলে ব্যক্তি কসম থেকে ফিরে আসবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘কোনো ব্যাপারে যদি শপথ করো আর তা ছাড়া অন্য কিছুর ভেতর কল্যাণ দেখতে পাও, তবে নিজ শপথের কাফফারা আদায় করে তা থেকে উত্তমটি গ্রহণ কোরো।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৩৭৯১)

আল্লাহ সবাইকে অনর্থক কসম থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দিন। আমিন।

সূত্র-কালেরকণ্ঠ


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM