বুধবার, ১৭ Jul ২০২৪, ০৭:২২ অপরাহ্ন

কক্সবাজার জেলায় সাক্ষরতার হার ৭১ দশমিক ৪৫

কক্সবাজার জেলায় সাক্ষরতার হার ৭১ দশমিক ৪৫

অনলাইন বিজ্ঞাপন

প্রতিকী ছবি।

 

শাহ নিয়াজ

কক্সবাজার জেলার জনসংখ্যা অনুপাতে মোট সাক্ষরতার হার ৭১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। দেশের সাক্ষরতার গড় হার ৭৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। কক্সবাজারে সাক্ষরতার হার দেশের গড় হারের তুলনায় ৩ দশমিক ২১ শতাংশ কম। চট্টগ্রাম বিভাগে মোট সাক্ষরতার হার ৭৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগের তুলনায় কক্সবাজার জেলায় সাক্ষরতার হার কম ৫ দশমিক ০৮ শতাংশ।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাধ্যমে বাস্তবায়িত প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্যগুলো তুলে ধরা হয়। ২০২২ সালের ২৭ জুলাই বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) এই জরিপের প্রাথমিক প্রতিবেদনের ফল প্রকাশ করা হয়। এরআগে জনশুমারি ও গৃহগণনার আনুষ্ঠানিক পর্ব শুরু হয় ১৫ জুন। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২১ জুন। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তা শেষ হতে সময় নেয় ২৮ জুন পর্যন্ত।

প্রতিবেদনে সাক্ষরতার হারের হিসাবে বলা হয়, কক্সবাজার জেলায় নারী-পুরুষ মিলে মোট সাক্ষরতার হার ৭১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। নারী-পুরুষ লিঙ্গভিত্তিক বিবেচনায় পুরুষের সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৩৭ শতাংশ, নারী শিক্ষার হার ৭০ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং তৃতীয় লিঙ্গের সাক্ষরতার হার ৫২ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

এতে বলা হয়, কক্সবাজার জেলায় মোট জনসংখ্যা এখন ২৮ লাখ ২৩ হাজার ২৬৫ জন। যেখানে ১৪ লাখ ৩২ হাজার ৮৬৪ জন পুরুষ, ১৩ লাখ ৮৮ হাজার ৮৬ জন নারী ও ১৭৩ জন তৃতীয় লিঙ্গ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ২০২২ সালের শুমারিতে বেশকিছু খানা ও জনসংখ্যার আংশিক তথ্য পাওয়া গেছে তাই মোট জনসংখ্যা ও লিঙ্গভিত্তিক জনসংখ্যার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। কক্সবাজার জেলায় ওই পার্থক্যটা হলো ২ হাজার ১৮২ জন।

কক্সবাজার জেলায় শহরের তুলনায় পল্লীতে বেশী জনসংখ্যা বেশী বসবাস করে। পল্লীতে বসবাস করে মোট ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৩৯০ জন। তারমধ্যে ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬৭ জন পুরুষ, ৭ লাখ ৯১ হাজার ৪৫৬ জন নারী ও ৬৭ জন তৃতীয় লিঙ্গ। শহরে বসবাস করে মোট ১২ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৩ জন। তারমধ্যে ৬ লাখ ৩২ হাজার ৯৯৭ জন পুরুষ, ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৬৩০ জন নারী ও ১০৬ জন তৃতীয় লিঙ্গ।

ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যায় কক্সবাজার জেলায় শতকরা ৯৪ দশমিক ৫২ শতাংশ হচ্ছে মুসলিম। এছাড়া দ্বিতীয় অবস্থানে হিন্দু আছে ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ, এরপরে যথাক্রমে বৌদ্ধ ১ দশমিক ৫০ শতাংশ, খ্রিষ্টান ০ দশমিক ০৭ শতাংশ ও অন্যান্য ০ দশমিক ০৯ শতাংশ।

জেলা ও লিঙ্গভিত্তিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনসংখ্যায় দেখা যায়, কক্সবাজার জেলায় মোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে ১৪ হাজার ৮৬১ জন। তারমধ্যে পুরুষ ৭ হাজার ৬৩৯ জন এবং নারী ৭ হাজার ২২২ জন। শতকরা হার হচ্ছে ০ দশমিক ৯০ শতাংশ।

বসবাসের ধরন অনুযায়ী খানার সংখ্যা ও জনসংখ্যা হচ্ছে, কক্সবাজার জেলায় মোট খানার সংখ্যা ৫ লাখ ৮৭ হাজার ১২৭ টি। তারমধ্যে বস্তি খানার সংখ্যা ৩ হাজার ১৮৫টি। যেখানে বাস করে ১৩ হাজার ২০৮ জন। ২৫৯টি ভাসমান খানায় বাস করে ২৬৪ জন। বস্তি ও ভাসমান খানা ব্যতিত অন্যান্য ৫ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৩টি খানায় বাস করে ২৮ লাখ ৯ হাজার ৭৯৩ জন। শতকরায় খানার আকার হচ্ছে ৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। যা ২০১১ সালে ছিল ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। এছাড়া ২০১১ সালে জেলায় জনসংখ্যা ছিল ২২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯০ জন। খানা ছিল ৪ লাখ ১৫ হাজার ৯৫৪টি। ২০২২ সালে জনসংখ্যার ঘনত্ব ১ হাজার ১৩৩ জন। যা ২০১১ সালে ছিল ৯১৯ জন করে।

প্রতিবেদনে জেলাভিত্তিক বাসগৃহে দেখা যায়, কক্সবাজার জেলায় মোট বাসগৃহ হচ্ছে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ২৭৫ জন। যারমধ্যে পল্লীতে রয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৪৯২টি এবং শহরে রয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৭৮৩টি।

কক্সবাজার জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক আতিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ২০২২ সালের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাধ্যমে বাস্তবায়িত প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনা। দেশে এই নিয়ে ৬ষ্ঠবার এই শুমারী করা হয়েছে। এর আগে ১৯৭৪ সালে প্রথমবার, ১৯৮১ সালে দ্বিতীয়বার, ১৯৯১ সালে তৃতীয়বার, ২০০১ সালে চতুর্থবার এবং ২০১১ সালে ৫ম বার এই শুমারী হয়।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM