বুধবার, ১৭ Jul ২০২৪, ০৭:৪০ অপরাহ্ন

রোহিঙ্গা ক্যাম্প গ্রেনেড; আতংকে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা

রোহিঙ্গা ক্যাম্প গ্রেনেড; আতংকে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা

অনলাইন বিজ্ঞাপন

ছবি-দুর্বৃত্তের ছোঁড়া গুলিতে আহত মোহাম্মদ নবী ও গ্রেনেড সাদৃশ্য বস্তু।

 

 

।।ওয়াহিদ রুবেল।।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে-৮ইস্ট, ব্লক বি/৩৯এর মোহাম্মদ নবী নামে এক রোহিঙ্গার বাসত ঘরে শক্তিশালী গ্রেনেড সাদৃশ্য বস্তুর সন্ধান পেয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্প জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ৮ এপিবিএন এর সদস্যরা বসত ঘরটি ঘিরে ফেলেন।

শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে গ্রেনেডের সন্ধান পায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। পরে সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দলকে ডাকা হয়েছে বলে এপিবিএন এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এরআগে একদল দুর্বৃত্তের ছোঁড়া গুলিতে আহত হয়েছেন বসত ঘরের মালিক মোহাম্মদ নবী। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

আহত মোহাম্মদ নবী ক্যাম্প-৮ এর বি/৩৯ ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ কাশিমের ছেলে।

গ্রেনেড পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ৮ এপিবিএন এর সিও অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আমির জাফর বলেন, আপাতত আমরা বসত ঘরটি ঘিরে রেখেছি। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সাথে কথা বলে সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ বিস্ফোরক দলকে ডাকা হয়েছে।

তবে এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি এপিবিএন’র দায়িত্বশীল এ কর্মকর্তা।

রোহিঙ্গাদের একটি সূত্র জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে আন্তর্জাতিক বেশ কিছু চক্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

৮ এপিবিএন এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন ভূঁয়া বলেন, গ্রেনেড কিভাবে, কোথা থেকে আসলো তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আহত মোহাম্মদ নবী আমাদের হেফাজতে রয়েছে। সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞেসবাদ করার পর ও অনুসন্ধান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

এদিকে, হঠাৎ করে ক্যাম্পে গ্রেনেড পাওয়ার কথা ছড়ি পড়লে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয়দের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রোহিঙ্গা নেতাদের তথ্যমতে, ক্যাম্পের ভেতর ও বাইরে অর্ধশতাধিক ছোট-বড় সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে উঠেছে। ক্যাম্পে অধিক পরিচিত সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে রয়েছে মাস্টার মুন্না গ্রুপ, আলোচিত নবী হোসেন গ্রুপ, মৌলবি ইউসুফ গ্রুপ, রকি বাহিনী, শুক্কুর বাহিনী, আব্দুল হাকিম বাহিনী, সাদ্দাম গ্রুপ, জাকির বাহিনী, পুতিয়া গ্রুপ, সালমান শাহ গ্রুপ, গিয়াস বাহিনী, মৌলবি আনাস গ্রুপ, কেফায়েত, জাবু গ্রুপ, আবু শমা গ্রুপ, লেড়াইয়া গ্রুপ, খালেদ গ্রুপ, শাহ আজম গ্রুপ, ইব্রাহিম গ্রুপ, খলিল গ্রুপ প্রভৃতি। সন্ধ্যা হলেই ক্যাম্পে সক্রিয় হয়ে উঠে এসব সন্ত্রাসী গ্রুপ। ক্যাম্পে নিজেদের আধিপত্য জানান দিতে ফাঁকা গুলি করে। অনেক সময় বিনা উস্কানিতে প্রতিপক্ষকে খুন করেন সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের ভারি অস্ত্রের ভয়ে অনেকেই প্রতিবাদ করার সাহস পান না। এছাড়া ক্যাম্পের অভ্যন্তরে গড়ে উঠা সন্ত্রাসীদের কয়েকটা গ্রুপকে মিয়ানমার সরকার গোপনে মদদ দিচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন রোহিঙ্গারা।

তাদের তথ্য মতে, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে আসা বেশিরভাগ অস্ত্রই মিয়ানমার থেকে সংগ্রহ করা হয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদেরকে নবী হোসন বাহিনীর সদস্য দাবি করে কয়েকটি গ্রুপ অপরাধ জগত ছেড়ে ভাল পথে আসার কথা জানিয়ে প্রচার করছেন। ভিডিওতে থাকা যুবকদের সবার হাতে অস্ত্র রয়েছে।

তারা নবী হোসন বাহিনীর অপরাধের চিত্র তুলে ধরে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্যের জন্য মাঝি খুনের কথাও বলছেন। অনেকে আবার ভিডিওতে থাকা লোকজনকে আরসার সদস্য বলে দাবি করেছেন।

রোহিঙ্গা নেতারা দাবি করেছেন, বিশ্বের কাছে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী হিসাবে তুলে ধরা, আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্ত করা এবং বাংলাদেশ সরকারকে চাপে ফেলতে নতুন করে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো না হলে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা উখিয়া-টেকনাফে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উখিয়ার কুতুপালং এলাকার বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন জানান, রোহিঙ্গা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। গোলাগুলি, হত্যাকান্ডের পর এবার গ্রেনেড পাওয়ার বিষয়টি আমাদের মাঝে আতংক সৃষ্টি করেছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় এর মাশুল দিতে হবে।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমরা বারবার বলে আসছি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বাড়াতে হবে। একই সাথে রোহিঙ্গারা যাতে ক্যাম্প থেকে বের হতে বা পারে সে ব্যাপারে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা যতটুকু জানি তাতে ক্যাম্পে ভারি অস্ত্র মজুদ থাকতে পারে। আর সময় নষ্ট না করে সেনাবাহিনীর কাছে ক্যাম্পের দায়িত্ব দিতে হবে। আর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

গ্রেনেড উদ্ধারের বিষয়ে স্থানীয়দের আতংকিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এপিবিএন এর পক্ষ থেকে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে গ্রেনেড সাদৃশ্য একটি বস্তু পাওয়ার বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন। একই সাথে গুলিবিদ্ধ একজনকে হাসপাতালে পাঠানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ সব বিষয়ে আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি।

তিনি বলেন, এসব কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় কক্সবাজার জেলা পুলিশের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM