বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:০৯ অপরাহ্ন

বন রক্ষায় ব্যর্থ বনবিভাগ

বন রক্ষায় ব্যর্থ বনবিভাগ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

ছবি ইসলামপুর– কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ফকিরাবাজার এলাকায় পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণ করেছেন জনৈক ওবায়দুর রহমান।

।।ওয়াহিদ রুবেল।।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণে দেশের সীমিত বনাঞ্চল রক্ষা ও নতুন বনায়ন সৃষ্টির লক্ষে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন সরকার। কিন্তু কোনভাবেই বন রক্ষা করা যাচ্ছেনা। বরং বন কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতায় কক্সবাজারে দিন দিন বেদখল হচ্ছে বনভূমি। এতে একদিকে যেমন কমছে বনের জমি অন্যদিকে বন্যপ্রাণী হারাচ্ছে তাদের আবাসস্থল আর নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য । একই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাতাসে কার্বনের পরিমাণ। এ অবস্থায় বনরক্ষায় কঠোর হওয়ার আবহবান জানান সংশ্লিষ্টরা।

তবে, বন দখলের বিষয়টি পুরাতন বলে দাবি করেছেন বনবিভাগ।

কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বনবিভাগের দেয়া তথ্য মতে, দুই বনবিভাগের আওতাধীন ৩৫ হাজার একর বনের জমি বেদখল হয়েছে।যেখানে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সংরক্ষিত এবং রক্ষিত মিলে মোট জমি রয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৫৩৪ একর। সেখানে ১২ হাজার একর জমি দখল করেছে ১৯ হাজার দখলদার। আর সরকারি বিভিন্ন বাহিনীকে দেয়া হয়েছে ৩৩০৮.৫৬ একর। সর্বশেষ রোহিঙ্গাদের জন্য ধ্বংস হয়েছে আরো ৬১৬৪ একর। আর উত্তর বনবিভাগের ১৩৭৪৭ একর জমি দখল করেছে প্রভাবশালীরা। তবে, বেদখল হওয়া জমির পরিমাণ আরো বেশি বলে দাবি করছেন অনেকে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিনিয়ত বনভূমি দখল হলেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়না বনবিভাগ। নামে মাত্র মামলা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেন তারা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সভাপতি ফজলুল কাদের বলেন, বন, বনভূমি এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা দিতে বন বিভাগ ক্রমাগত ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। প্রভাবশালীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নিরব ভূমিকা নিয়ে বনভূমি দখলে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন তারা। তবে যেটুকু বনাঞ্চল রয়েছে তা রক্ষায় এখন থেকে কঠোর হওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 

ছবি- রামুর রাজারকুলে বনের জমিতে ঘর নির্মাণের ছবি।

তবে বরাবরের মতোই জনবল সংকট আর আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে বনের জমি দখল মুক্ত করা যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন বনবিভাগ।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সরওয়ার আলম বলেন, বনের জমি দখল অনেক পুরাতন ঘটনা। তারপরও বন রক্ষায় আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করি। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে পর্যপ্ত ব্যবস্থা নেয়া যায় না।

উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, বনের জমি যুগ যুগ ধরে বেদখল হয়ে আসছে। নতুন করে আর যেন বেদখল না হয় সে চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি। যারা বনের জমি দখল করেছেন তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জানতে চাইলে উপ-প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ জাহিদুল কবির বলেন, দখল উচ্ছেদের জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়া হয়। সে মতো জেলা প্রশাসক ব্যবস্থা নেন। আমরা লজিস্টিক সাপোর্ট দিই। কিন্তু জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সাপোর্ট আমরা পাচ্ছি না।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আমিন আল পারভেজ বলেন, বনবিভাগ চিঠি দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করেন। পরবর্তীতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন না। ফলে পরবর্তী আর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় না।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM