বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:০৪ অপরাহ্ন

শরণার্থী হিসেবে নয়, জন্মভূমিতে নববর্ষ পালন করতে চাই রোহিঙ্গাদের 'গো হোম ক্যাম্পেইন-২০২৩

শরণার্থী হিসেবে নয়, জন্মভূমিতে নববর্ষ পালন করতে চাই রোহিঙ্গাদের 'গো হোম ক্যাম্পেইন-২০২৩

অনলাইন বিজ্ঞাপন

ছবি-সংগ্রহীত।

 

।।ওয়াহিদ রুবেল।।

শনিবার সকাল মাড়িয়ে সবে দুপুর হয়েছে। উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী ও লম্বাশিয়াসহ আশপাশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা লম্বাশিয়া ক্যাম্প খেলার মাঠে জড়ো হতে থাকে। তাদের সাথে যোগ দেন নারী ও শিশুরা। হাতে তাদের প্লেকার্ড। প্লেকার্ডে লেখা ‘এনাফ ইজ এনাফ, লেটস গো হোম’, ‘ডিগনিফাই গো হোম’ এবং ‘রিস্টোর সিটিজেনশিপ’।

রোহিঙ্গা নেতারা জানিয়েছেন, ইংরেজী নতুন বছরকে সামনে রেখে নিজ দেশে ফেরার দাবি নিয়ে ‘গো হোম ক্যাম্পেইন-২০২৩’ স্লোগানে উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সমাবেশ করেন তারা। দীর্ঘ সময়েও প্রত্যাবাসন না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করে রোহিঙ্গা নেতারা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বোঝা হয়ে আর থাকতে চাই না। বাংলাদেশের মাটিতে শরাণার্থী হয়ে বসবাস করার মধ্য কোন আনন্দ নেই। আমরা তখনই আনন্দ উদযাপন করবো যখন নিজ দেশে ফিরতে পারবো। এখন আমাদের এটাই প্রাণের দাবি’।

এ সময়, রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় ও প্রত্যাবাসনের দাবিতে বক্তব্য দেন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ জোবায়ের।

 

ছবি-প্লেকার্ড হাতে রোহিঙ্গা নারীরা।

 

তিনি বলেন, আমাদের রোহিঙ্গা জাতির জীবন থেকে আরো একটি বছর চলে গেল। কিন্তু আমরা নিজ ভূমিতে ফিরতে পারলাম না। সবার মতো আমরাও নতুন বছরে আন্দ করতে চাই, কিন্তু আমরা পারছি না। শরণার্থী হিসেবে নয়, সামনের দিনগুলো জন্মভূমি মিয়ানমারে উদযাপন করতে চাই আমরা। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আমাদের অনুরোধ, রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিন।

তিনি বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে শুধু চোখের পানি ফেলছি, বিশ্বনেতারা এসে আমাদের চোখের পানি দেখে যায়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরার কোনও বার্তা নিয়ে আসেন না। ২০২৩ সালে আমরা দেশে ফিরতে চাই। এটাই আমাদের প্রাণের দাবি। আমাদের নিজ দেশে ফেরার সুযোগ করে দিন।

১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক সৈয়দ হারুন উর রশিদ বলেন, নতুন বছরের শুরুর আগের দিন মিয়ানমারে ফেরার দাবি জানিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছেন রোহিঙ্গারা।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় এগারো লাখ রোহিঙ্গা। উখিয়া-টেকনাফে প্রায় ৩২ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাসবাস করছেন বাস্তুচ্যুত এসব রোহিঙ্গারা।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM