বাংলাদেশ, , রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২

আত্মগোপনে বদির চারভাইসহ আত্মস্বীকৃত ৮৩ ইয়াবা ব্যবসায়ী

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০২২-১১-২২ ০০:৩০:২৮  

ফাইল ছবি।

ওয়াহিদ রুবেল

আত্মস্বীকৃত ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য ও যুক্তি-তর্কের পর আগামি ২৩ নভেম্বর মাদক ও অস্ত্রের দুটি মামলার রায়ের দিন ধার্য্য করেছে আদালত। গেল ১৪ নভেম্বর কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল এ দিন ধার্য্য করেন। একই দিন আদালতে অনুপস্থিত ৮৩ জন আত্মস্বীকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতের আদেশের পর আত্মগোপনে চলে যান শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। যেখানে সাবেক সাংসদ আব্দু রহমান বদির চারভাইসহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যন ও পৌরসভার কাউন্সিলর রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ফরিদুল আলম বলেন, ৩০ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টেকনাফ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএমএস দোহার সাক্ষ্যের মধ্য দিয়ে ১০২ জন আত্মস্বীকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য নেওয়া শেষ হয়। পরে দুই আসামীর আবেদনের প্রেক্ষিতে সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। যুক্তিতর্ক শেষে ২৩ নভেম্বর রায়ের জন্য দিন রাখা হয়েছে। ঐ দিন পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।

এদিকে, আদালতের আদেশের পর সাবেক সাংসদ আব্দু রহমান বদির চার ভাই আব্দুল আমিন, আব্দু শুক্কুর, শফিকুল ইসলাম প্রকাশ শফিক, ফয়সাল রহমান, ভাগিনা সাহেদ রহমান নিপু এবং চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আলম, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মদের ছেলে বর্তমান চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান প্রকাশ জিহাদ ও বড় ভাই আব্দু রহমান, বর্তমান জেলা পরিষদ সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমেদের ছেলে দিদার মিয়া, টেকনাফ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল বশর প্রকাশ কাউন্সিলার নুরশাদ, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের এনামুল হক প্রকাশ এনাম মেম্বারসহ অন্যান্যরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় নাগরিক সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ।

টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বলে, বেশ কিছুদিন ধরে চেয়ারম্যান মহোদয় পরিষদে আসছেন না। আমাকে কিছুই বলেন নি। কোথায় আছে তাও আমি বলতে পারবো না।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো: জাহিদ ইকবাল বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ আমাদের কাছে নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম বলেন, মামলার মেরিট নিয়ে চিন্তা করলে তাদের কঠিন কোন শাস্তি নাও হতে পারে। তবে, তারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বিষয়টি যেহেতু স্বীকার করে নিয়েছে সেহেতু তাদের শাস্তি হবেই। আর শাস্তি নিশ্চিত বুঝতে পেরে হয়তো তারা আত্মগোপনে চলে গেছে।

পুলিশ বলছে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় পলাতক আসামীদের গ্রেফতার করতে পারছে না পুলিশ। তবে আত্মস্বীকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাকিম।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রæয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে সাড়ে ৩ লাখ ইয়াবা, ৩০টি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও ৭০ রাউন্ড গুলিসহ আত্মসমর্পণ করেন ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী। টেকনাফ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) শরীফ ইবনে আলম বাদী হয়ে মাদক ও অস্ত্র আইনে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক ২টি মামলা করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে পরিদর্শক এবিএমএস দোহাকে নিয়োগ দেয়া হয়। ২০১৯ সালের ৭ আগস্ট মোহাম্মদ রাসেল নামে এক আসামি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক তামান্না ফারাহর আদালতে ১০১ আসামির বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরবর্তী সময়ে মামলাটি বিচারের জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। একই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল সব আসামির উপস্থিতিতে শুনানি শেষে মামলার চার্জ গঠন করেন।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা