বাংলাদেশ, , রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২

যে শাস্তি হতে পারে আত্মস্বীকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ীর কাল ২৩ নভেম্বর আদেশ

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০২২-১১-২২ ০০:২০:৪৮  

 

 

২৩ নভেম্বর রায় হতে যাচ্ছে আলোচিত ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দায়ের করা পৃথক দুই মামলার। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে মামলার সমস্ত কার্যক্রম। সর্বশেষ ১৪ নভেম্বর পলাতক ৮৩ কারবারির বিরুদ্ধে গ্রফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ফলে আলোচনায় চলে এসেছে রায়ে কি সাজা হতে পারে আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারির।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলার এজাহারে ইয়াবা ও উদ্ধার ঘটনায় বডি রিকভারি নেই। সেহেতু বড় কোন শাস্তির হবে না তাদের। তবে যেহেতু তারা নিজেদেরকে ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছেন সেহেতু তারা মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত। স্বীকার করে নেয়ার যে শাস্তি রয়েছে হয়তো সেটিই হতে পারে।

জেলা ও দায়া জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম বলেন, ৩০ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টেকনাফ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএমএস দোহার সাক্ষ্যের মধ্য দিয়ে ১০২ জন আত্মস্বীকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য নেওয়া শেষ হয়। পরে দুই আসামীর আবেদনের প্রেক্ষিতে সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করে যুক্তিতর্ক শেষে ২৩ নভেম্বর রায়ের জন্য দিন রাখা হয়েছে। একইসাথে পলাতক ৮৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেন। সাক্ষী এবং এজাহার আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের শাস্তি হতে পারে।

সূত্র মতে, ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রæয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে সাড়ে ৩ লাখ ইয়াবা, ৩০টি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও ৭০ রাউন্ড গুলিসহ আত্মসমর্পণ করেন ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী। টেকনাফ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) শরীফ ইবনে আলম বাদী হয়ে মাদক ও অস্ত্র আইনে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক ২টি মামলা করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে পরিদর্শক এবিএমএস দোহাকে নিয়োগ দেয়া হয়। একই বছর ৭ আগস্ট মোহাম্মদ রাসেল নামে এক আসামি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক তামান্না ফারাহর আদালতে ১০১ আসামির বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরবর্তী সময়ে মামলাটি বিচারের জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।

এজাহারে যা বলা আছে-

ইয়াবার অনুপ্রবেশ রোধ এবং মরণব্যাধি ইয়াবার হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার লক্ষ্যে সরকার ২০১৮ সালের ১৭’মে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে। ফলে কক্সবাজারে শুরু হয় ইয়াবা বিরোধী অভিযান। টেকনাফে আটক করা হয় কয়েক হাজার ইয়াবা কারবারী আর উদ্ধার করা হয় লাখ লাখ পিস ইয়াবা। অব্যাহত অভিযানের ফলে ইয়াবার গডফাদার, পৃষ্ঠপোষক ও ব্যবসায়ীরা কোনঠাসা হয়ে পড়ে। এরইমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে এবং অন্ত-কোন্দলে জড়িয়ে গুলাগুলিতে ৩৭ জন মাদককারবারী নিহত হয়েছেন। নিয়মিত অভিযান ও হতাহতের ঘটনায় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আতংকিত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ইয়াবার সিন্ডিকেটের সদস্যরা অপরাধ জগৎ থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে মনস্থির করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রæয়ারি (টেকনাফ মডেল থানার সাধারণ ডায়েরি নং-৬১৭/১৯ মূলে) টেকনাফ থানা পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন্স এন্ড কমিউনিটি পুলিশিং) শরীফ ইবনে আলমের নেতৃত্বে সাবরাং ইউনিয়নের মহেষখালীয়া পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে লোকজন পালানোর উদ্দেশ্যে এদিকসেদিক ছুটাছুটি করতে শুরু করলে পুলিশ নিজেদের পরিচয় দিয়ে তাদেরকে ছুটাছুটি না করে আত্ম-সমর্পন করার আহবান জানান। পুলিশের আহবানে সাড়া দিয়ে তারা আত্ম-সমর্পনের ভঙ্গিতে দাড়িয়ে গেলে চারদিক থেকে তাদে ঘিরে ফেলে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে সাড়ে তিন লাখ পিস ইয়াবা ও ৩০ টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবা ও অস্ত্রের নিজেদের বলে স্বীকার করলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় আসামীরা অপরাধ জগৎ থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। ১৬ ফেব্রæয়ারি সকাল ১০ টার দিকে গ্রেফতারকৃত আসামিদের টেকনাফ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে সরকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপিসহ উর্ধ্বতন কর্মকতাদের সামনে হাজির করে আত্মসমর্পণ করা হয়।

এ ঘটনায় ১০২ জন আসামীদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র আইনের ধারায় তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক শরিফ ইবনে আলম বাদী হয়ে পৃথক মামলা দায়ের করেন।

মামলা নিয়ে যা বললেন আইনজীবীরাঃ

কক্সবাজার জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবী সাজ্জাদুল করিম বলেন, এজাহারে অস্ত্র ও ইয়াবাগুলো বডি রিকভারি না থাকলেও আসামীরা আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারী। সেহেতু মাদক আইনের ধারায় তাদের সর্বনিম্ন ৮ থেকে ১০ বছর সাজা হতে পারে। এছাড়া সাক্ষী যদি ভাল মতো সাক্ষ্য দেয় তাহলে যাবজ্জীবন কিংবা ফাঁসির আদেশও হতে পারে।

আর অস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রেও বডি রিকভারি না হলে মামলা থেকে খালাস পেতেও পারে।

তিনি বলেন, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে আগাচ্ছে। সে হিসেবে আলোচিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত সেটি বলা যায়


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা