বাংলাদেশ, , রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২

রাত ও দিনের আবর্তন আল্লাহর নিদর্শন

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০২২-১১-১১ ১৬:০৬:২০  

 

ডেস্ক;

মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ রাত-দিন ও সূর্য-চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন, সব কিছু নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে। ’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৩৩)

তাফসির : আলোচ্য আয়াতে রাত ও দিনের কথা বর্ণিত হয়েছে। রাত-দিনের পরিবর্তন চক্র আল্লাহর বিস্ময়কর সৃষ্টি। এতে রয়েছে নিয়মানুবর্তিতা শৃঙ্খলার শিক্ষা।

সময়ের হিসাব ও দিবস গণনায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারণ নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতসহ গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত পালনের সময় গণনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে সৃষ্টজগতের এসব নিদর্শনের কথা উল্লেখ করার মূল উদ্দেশ্য হলো, যেন মানুষ সৃষ্টিজগৎ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে এবং মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি অনুগত হয়।
তাই মহান আল্লাহ মানুষকে এসব থেমে উপদেশ গ্রহণ করতে বলেছেন ও পরকালের শাস্তি থেকে মুক্তির জন্য দোয়া শিখিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আকাশমণ্ডল ও ভূপৃষ্ঠ সৃষ্টি, দিবস ও রাতের পরিবর্তনে রয়েছে নিদর্শনাবলি চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য। যারা দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশমণ্ডল ও ভূপৃষ্ঠের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে এবং বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আপনি তা অনর্থক সৃষ্টি করেননি, আপনি পবিত্র, আপনি আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ’ (সুরা আলে-ইমরান, আয়াত : ১৯০)

মহান আল্লাহ জগতের সব কিছু মানুষের উপকারের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আকাশ, পৃথিবী, চাঁদ, সূর্য, বৃষ্টি, মেঘ, বাতাস ও বায়ু প্রবাহসহ নিরবচ্ছিন্ন নীতিতে মানুষ ও প্রাণীজগতের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এসবের মধ্যে অবশ্য চিন্তাশীল ব্যক্তিদের ভাবনার খোরাক রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের পরিবর্তনে, মানুষের কল্যাণে সমুদ্রে চলা নৌযান, আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টির পানি বর্ষণের মাধ্যমে যে মৃত জমিনকে পুনর্জীবিত করেন তাতে এবং তাতে জীব-জন্তুর বিস্তারণে, বায়ুর দিক পরিবর্তন, আকাশ ও ভূপৃষ্ঠের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালায় জ্ঞানী জাতির জন্য নিদর্শন রয়েছে। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৬৪)

আল্লাহর ইচ্ছায় রাত ও দিবসের এ আবর্তন চলছে। এর মধ্যে কোনো একটি স্থায়ী হলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনে বিঘ্নতা তৈরি হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি বলুন, তোমরা কি ভেবেছ, আল্লাহ যদি রাতকে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন, আল্লাহ ছাড়া এমন কোনো ইলাহ আছে যে তোমাদের আলো এনে দিতে পারবে? তবুও কি তোমরা শুনবে না? বলুন, তোমরা কি ভেবেছ যে আল্লাহ যদি দিবসকে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন আল্লাহ ছাড়া এমন কোনো ইলাহ আছে যে তোমাদের জন্য রাত্রি নিয়ে আসবে যাতে তোমরা বিশ্রাম করতে পার, তবু কি তোমরা ভেবে দেখবে না?’ (সুরা কাসাস, আয়াত : ৭১-৭২)

আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির রহস্য নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে আল্লাহর কাছে নতজানু হওয়া মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) রাতের বেলা আমাকে বলতেন, ‘হে আয়েশা, আমাকে ছেড়ে দাও, আমি আমার রবের ইবাদত করব। ’ আমি বলতাম, আল্লাহর শপথ, আমি আপনার নৈকট্য ভালোবাসি এবং আপনাকে যা আনন্দ দেয় তা ভালোবাসি। তিনি উঠে পবিত্র হয়ে নামাজ পড়তেন। এরপর তিনি এত কাঁদতেন যে তার কাপড় ভিজে যেত। তিনি আরো কাঁদতেন যে তার দাড়ি ভিজে যেত। তিনি আরো কাঁদতেন যে নিচের জমি ভিজে যেত।

অতঃপর বিলাল (রা.) এসে তাঁকে নামাজের জন্য ডাকতে এসে দেখেন যে তিনি কান্না করছেন। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেন যে হে আল্লাহর রাসুল (সা.), আপনি কাঁদছেন কেন, অথচ আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সব গুনাহ ক্ষমা করেছেন? তখন তিনি বলতেন, ‘আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হব না। আজ রাতে এই আয়াত (সুরা আলে-ইমরানের ১৯০ নম্বর আয়াত) অবতীর্ণ হয়েছে। ওই ব্যক্তির জন্য ধ্বংস যে তা পড়েছে কিন্তু তা নিয়ে চিন্তা করেনি। ’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস নং : ৬২০)

গ্রন্থনা : মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ

সূত্র-কালেরকণ্ঠ


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা