বাংলাদেশ, , শনিবার, ১ অক্টোবর ২০২২

ডিবি পুলিশের সাত সদস্যের ১২ বছরের কারাদণ্ড কক্সবাজারে ব্যবসায়ী অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০২২-০৯-২০ ১৪:৫৮:৫০  

 

বাপপী শর্মা: কক্সবাজারের টেকনাফের এক ব্যবসায়ীকে জোর পূর্বক অপহরণ করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় ডিবি পুলিশের ৭ সদস্যকে পৃথক দুই ধারায় ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে তাদের প্রত্যেককে ৩ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২:৩০ ঘটিকার সময় কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সিনিয়র জেলা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল আসামীদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে সকাল ১১টায় রায় পড়া শুরু করেন বিচারক। পরবর্তীতে বেলা ১২:৩০ টার দিকে রায় ঘোষণা করেন বিচারক।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্র পক্ষের কৌশলী (পিপি) ফরিদুল আলম বলেন, মামলার সাক্ষ্য প্রমাণে আসামীদের বিরুদ্ধ আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এ রায় দেন। আসামীদের প্রত্যেককে দন্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় ৫ বছর, ১ লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছর এবং ৩৮৬ ধারায় ৭ বছর কারাদণ্ড, ২ লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদন্ডের আদেশ দেন। রায়ে উভয় সাজা এক সাথে চলবে বলে উল্লেখ করেন আদালত। ফলে সাজা ৭ বছর বলে গন্য হবে।

ছবি-রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের।

দণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বহিস্কৃত এসআই মনিরুজ্জামান (৩৫), এসআই আবুল কালাম আজাদ (৩৯), এএসআই গোলাম মোস্তফা (৩৬), এএসআই ফিরোজ আহমদ (৩৪), এএসআই আলাউদ্দিন (৩২), কনস্টেবল মোস্তফা আজল (৫২) ও কনস্টেবল মো. আল আমিন (২৬)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর ভোরে অপহৃত ব্যবসায়ীর পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কে একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালিয়ে মুক্তিপণের ১৭ লাখ টাকাসহ ডিবির ৬ সদস্যকে আটক করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। গাড়ির গ্লাস ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার পর জড়িত অন্য ১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ডিবির ৭ জনকে আসামি করে টেকনাফ থানায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন অপহৃত ব্যবসায়ী গফুর আলম।

বাদী পক্ষে নিয়োজিত বিজ্ঞ আইনজীবী এডঃ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার শহরের থানার পেছনের রোড থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা টেকনাফের ব্যবসায়ী আবদুল গফুরকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। এরপর ‘ক্রসফায়ারে’ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তার স্বজনদের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। দেন-দরবারের পর ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হয় ব্যবসায়ীর পরিবার। টাকা পৌঁছে দেওয়া হলে পরদিন ভোররাতে আবদুল গফুরকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রায় ১০ মাসের মাথায় ২০১৮ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ডিবির ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলাটি বিচার ও নিস্পত্তির জন্য কক্সবাজারের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে আসলে আদালত সকল আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এছাড়া মামলায় আসামীদের পক্ষে সাক্ষীদের জেরা, আলামত প্রদর্শন, যুক্তিতর্কসহ বিচারের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

গত ৫ সেপ্টেম্বর মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে জামিনে থাকা ডিবি পুলিশের ৭ সদস্যের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়ে রায়ের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর সময় নির্ধারণ করেন আদালত।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা