বাংলাদেশ, , শনিবার, ১ অক্টোবর ২০২২

সৈকতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হবে কি..?

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০২২-০৯-১৯ ২০:৩৩:০১  

ছবি-কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের অবৈধ স্থাপনা।

 

ওয়াহিদ রুবেলঃ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত উন্মুক্ত রাখতে যেকোন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ এবং নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে করতে ২০১১ সালে হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন হয়নি গত ১১ বছরে। নির্ধারণ করা হয়নি সমুদ্র সৈকত সীমানও। এ অবস্থায় উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে আগামী ১৯ অক্টোবর জেলা প্রশাসককে স্বশরীরে আদালতে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সাথে পুলিশ সুপারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুলও জারি করা হয়েছে। গেল ২৫ আগস্ট ১৪২ নাম্বার কনপেম্পট মামলায় এ আদেশ দেন হাইকোর্ট। এ অবস্থায় উচ্ছেদ নিয়ে আর প্রতিবন্ধকতা থাকলো না।

তবে, উচ্ছেদ নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা সঞ্চয় প্রকাশ করলেও মঙ্গলবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১১ সালের ৯ জানুয়ারি পরিবেশবাদী সংগঠন “হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচ আরপিবি) কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুন্দর্য রক্ষার্থে একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন। হাইকোর্ট বিভাগরে রিট পিটিশন নং ৬২৬/২০১১। ১০ জানুয়ারি কক্সবাজার সৈকত এলাকার সৌন্দর্য ও প্রাকৃতকি পরিবেশ বিনষ্টকারী সকল অননুমোদিত স্থাপনা ২৪ জানুয়ারির মধ্যে অপসারন করে আদালতকে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেন বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী এবং বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয় গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ। একই সাথে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ ১০জনকে এ রায় বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে দখল উচ্ছেদ করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে আদালতে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়। কিন্তু গত ১১ বছরেও উচ্চ আদালতের এ রায় কার্যকর করা হয়নি। উল্টো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে স্থাপনা নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টোকেন দেয়া হয়। এসব টোকেন নিয়ে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট, কলাতলী, লাবনি পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থানে ঝুঁপড়ি দোকান নির্মাণ করা হয়। এতে একদিকে যেমন সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে, তেমনি পরিবেশ ও প্রতিবেশের উপর প্রভাব পড়েছে বেশি।

তথ্য মতে, হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ৬২৬/২০১১ এর আদেশ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ এনে সম্প্রতি হাইকোর্টে কনটেম্পট মামলা (১৪২/২০২২) দায়ের করেন। উক্ত মামলার শুনানি শেষে জেলা প্রশাসককে সৈকতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়ার কারো ব্যাখ্যা করতে স্ব শরীরে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে। একই সাথে পুলিশ সুপারসহ চারজনের বিরদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করা হয়।

এদিকে অবৈধ দখলদারদের করা অন্য রিট মমালার স্থিতাবস্থাও প্রত্যাহার করে নেন হাইকোর্ট। ফলে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে চলতি বছরের ২৫ জুন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ম্যজিস্ট্রেট, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেতায়েন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয় জেলা প্রশাসন। এ সিদ্ধান্ত মতে কাল মঙ্গলবার সৈকতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের আদশে বাস্তবায়ন না করার কোন সুযোগ নেই। গত ২৮ আগস্ট এ সংক্রান্ত একটি সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত মতে ২০ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হব। একই সাথে যাদের উচ্ছেদ করা হবে এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্যও চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ আদেশের ফলে ১৯ অক্টোবরের পূর্বেই ৬২৬ রিট মামলার আদেশ বাস্তবায়নে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে তামিল প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে হলফনামা আকারে দাখিল করতে হবে।

তবে, উচ্চ আদালতের রায় আদৌ বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশ আন্দোলনের নেতারা।

কক্সবাজার পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ তো দুরের কথা উল্টো জেলা প্রশাসনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ করে দিয়েছে। তাদের (জেলা প্রশাসন) দেয়া টোকেন বাণিজ্যের কারণে প্রতিযোগিতা দিয়ে সৈকতে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এটি অনেকটা আদালত অবমাননার সামিল। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন আদৌ উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করবে কিনা সন্দেহে আছি আমরা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশিদ বলেন, উচ্ছেদ নিয়ে উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা থাকায় এতদিন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি উচ্চ আদালতের আদেশের পর উচ্ছেদ নিয়ে আর প্রতিবন্ধকতা নেই। তাই সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে মঙ্গলবার থেকে সৈকতের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। দখলদাররা যদি নিজেরা স্থাপনা সরিয়ে নিতে চাই সে ক্ষেত্রে তাদের সুযোগ দেয়া হবে।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা