বাংলাদেশ, , শনিবার, ১ অক্টোবর ২০২২

গঠনতন্ত্র মেনে চললে সংকট কেটে যাবে

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০২২-০৯-১৮ ০১:৫২:০০  

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত গড়া শিক্ষা, শান্তি আর প্রগতির পাঠশালা। বৃটিশ শাসনের অবসানের অল্প সময়ের ব্যবধানে ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি আদর্শিক এ প্রতিষ্ঠানের জন্ম দেন বঙ্গবন্ধু। সম্মোহনী নেতৃত্বের অধিকারী টগবগে যুবক শেখ মুজিব হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন মুসলিম লীগের হাতে বাঙ্গালীর ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়। এ জাতির ভাগ্যের চাকা রক্তাচুষা শোষকের হাত বদল হয়েছে মাত্র। বৃটিশরা ব্যবসার নামে এদেশে এসে ক্ষমতা দখল করে প্রায় দুইশত বছর শোষণ করেছে। পরবর্তীতে পাকিস্তানীরা এসেছে ধর্মের নামে। তাই প্রতিষ্টার পর থেকে এই ছাত্রলীগকে মোকাবেলা করতে হয়েছে রাষ্ট্রের ছায়ায় বড় হওয়া সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে। বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে গিয়ে ছাত্রলীগ তৈরি করে নিয়েছে নিজস্ব কক্ষ পথ। আজ বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সেই ছোট গাছটি বিশাল মহীরুপে পরিণত হয়েছে। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া, সুন্দরবন থেকে বান্দরবান পর্যন্ত লাখ লাখ মেধাবী শিক্ষার্থীর পদচারনায় মুখরিত আদর্শিক এ প্রতিষ্ঠান। দেশ গঠনে আদর্শ নাগরিক হিসেবে নিজেকে তৈরি করছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। দিয়েছেন জীবনও। স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন ছাত্রলীগ। বলতে গেলে এ জাতির যে কোন দুর্যোগে সম্মুখভাগে নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্রলীগ। দেশ গড়ার ক্লান্তহীন পথ চলায় কখনো ক্লান্ত হয়নি এ সংগঠনের নেতারা। হয়তো চলার পথে কিছু ভুল হয়ে যায় তাদের। এটিই স্বাভাবিকও বটে..। কাজ করতে গিয়ে কিছু ভুল হতেই পারে। কিন্তু ভুল শুধরে নিয়ে আবারো সম্মুখভাগে এগিয়ে চলে ছাত্রলীগ। তাই তো এদেশের ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে ছাত্রলীগের নাম জড়িয়ে রয়েছি। অথচ পান থেকে চুন খসে পড়লেই ছাত্রলীগ নিয়ে কট্টর সমালোচনা শুরু হয়। তবে, ছাত্রলীগ নিয়ে সমালোচনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু তাদের অর্থহীন সমালোচনা ছাত্রলীগের চলার পথ আজ পর্যন্ত রুদ্ধ করতে পারেনি। সমালোচনা করলে কি বসে থাকলে হবে ? সামনে অনেক পথ বাকি। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় তার কন্যা শেখ হাসিনা নিয়েছেন সেটি বাস্তবায়ন করতে ছাত্রলীগকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে কে কি বলছে তা চিন্তা করার কোন সুযোগ নেই। প্রতিপক্ষরা জানে অদম্য ছাত্রলীগকে থামানো না গেলে শেখ হাসিনাকে থামানো যাবে না। পিতা মুজিবের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ নির্মাণ হবেই। তাই সুযোগ পেলেই ছাত্রলীগকে থামানোর অপচেষ্টা চালানো হয়। অনেক সময় ছাত্রলীগ নিয়ে গালগল্প তৈরি করে। তারা জানে না ছাত্রলীগ কখনো তৈরি করা পথে হাঁটেনি, পথ তৈরি করে নেয়।

তবে বর্তমান সময়ে নেতৃত্ব নিয়ে নানা তর্কবিতর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা প্রচার পাচ্ছে তা কখনো কাম্য নয়। গঠনতন্ত্রের ভেতরে সম্মেলন চাইতে পারেন পদ প্রত্যাশিরা। এ চাওয়াটি অপরাধ নয়। বরং তাদের মতামতকে সম্মান দিয়ে গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। কিন্তু গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত সমালোচনা কিংবা সংগঠনকে ছোট করতে পারেন না কেহই। যদি করে থাকেন এটি অত্যন্ত দু:খের বিষয়। তাই এখন থেকে ছাত্রলীগকে নিজের ঘর গোছাতে হবে সতর্কভাবে। গঠনতন্ত্র মেনে চলতে হবে।

সে দিকে নজর দিতে হবে শীর্ষ নেতাদের। কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা উপজেলা পর্যায়ে সঠিক সময়ে সম্মেলন হলে নেতৃত্বের সংকট হবে না। গঠতন্ত্র ধারা মতে সংগঠন পরিচালিত না হলে সংকট কাটবে না। অনেক মেধাবী কর্মী হারিয়ে যাবে। সম্মেলন যদি সঠিক সময় না হয় তাহলে ২৯ বছর বয়সের যে সীমা নির্ধারণ করার প্রয়োজনও নেই। নিজেদের মধ্যকার গ্রুপিং প্রতিপক্ষরা সুযোগ নিবে। ক্ষেত্র বিশেষে ছাত্রলীগের অর্জনগুলো ম্লান হয়ে যাবে।

এই যে ধরুন, চলতি মাসে শুরু হওয়ায় এসএসসি পরিক্ষাদের পাশে দাঁড়িয়েছে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন জেলার ছাত্রলীগ কর্মীরা। অথচ আর কোন সংগঠনকে পরিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে আমরা দেখিনি। এমনকি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত এলাকার শিক্ষার্থীরা যখন আতংকে দিন কাটাচ্ছে তখন তাদের পাশে সাহস হয়ে দাড়িয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মীরা। দেশের প্রথম শ্রেণীর কোন মিডিয়ায় ছাত্রলীগের এসব ভাল কাজগুলো প্রচার করা হয়না। যদিও ছাত্রলীগ প্রশংসার জন্য বসে থাকে না অন্য দশটি সংগঠনের মতো। নিজ দলের সহযোদ্ধাদের এ কাজগুলো নিজেরাই প্রচার করুন। গঠনতন্ত্র মতে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করুন। মনে রাখতে হবে ছাত্রলীগ সাম্প্রদায়িকতার গর্ভে জন্ম নেয়া জামায়াত শিবির বা ক্যান্টলমেন্টে জন্ম নেয়া ছাত্রদলের মতো কোন সংগঠন নয়। তাই সিদ্ধান্ত নিতে হবে গঠতন্ত্র মতে সংগঠন পরিচালিত হবে কিনা.? অতীতে কি হয়েছে সেটি বিবেচ্য নয়। লেখক জয় থেকে সেটি শুরু করতে পারে।

ওয়াহিদ রুবেল, সাবেক সভাপতি কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা