বাংলাদেশ, , শনিবার, ১ অক্টোবর ২০২২

অপরাধ দমনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০২২-০৯-১৫ ১৯:৩৮:০০  

তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বাংলাদেশকে সম্ভাবনার রোল মডেল হিসেবে গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী, এমন মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার দুরদর্শি নেতৃত্বেই তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে দেশ উন্নয়নশীলতার তকমা পেয়েছে। আমরা চাই সবাই মিলে সোনার বাংলাদেশ গড়বো। তাই অপরাধ যেন কাউকে ছুঁতে না পারে সেই প্রচেষ্টায় র‍্যাবের ‘নবজাগরণ : অপরাধকে না বলুন’ প্রকল্প।

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কলাতলীর হোটেলে লংবিচের বলরুমে ‘নবজাগরণ : অপরাধকে না বলুন’ শীর্ষক কর্মশালার সমাপনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ২৯ আগস্ট (সোমবার) দুপুরে র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন কর্মশালার উদ্বোধন করেছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের নিয়ে প্রতিবেশী ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মূল্যায়ন- জঙ্গি দমনসহ অনেক দিক হতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল। এ পাওনা র‍্যাবের হাত ধরেই এসেছে। যেখানে অন্যায় সেখানেই উপস্থিত হয়ে র‍্যাব এখন আমজনতার আস্থার প্রতীক।প্রধানমন্ত্রী অপরাধ নিয়ে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন। সেই পথে হেটে সফলতা পেয়েছে র‍্যাব। অপরাধ যেই করুক- আইনের হাত থেকেই বাঁচতে পারবে না, র‍্যাবের সেই ম্যাসেজ তৃণমূলেও পৌঁছে গেছে। আমরা জঙ্গিদের ধরেছি, পুনর্বাসনও করেছি। কক্সবাজার বিশ্ব পর্যটনের তীর্থস্থান। এখানে দেশ-বিদেশ হতে পর্যটকরা আসছেন। কিন্তু এখানে এসে যদি সর্বাত্মক আনন্দ না পায় তাহলে পর্যটন নিয়ে তারা হতাশ হয়। এসব ঘটনা বিশ্ব পর্যটন বিকাশে অন্তরায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আরো বলেন, মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে মৃত্যুর মুখে পড়ে সীমান্তে চলে আসা রোহিঙ্গাকে মানবিক আশ্রয় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর হতে আমরা নানা সমস্যা মোকাবিলা করছি। তবে, আমাদের প্রত্যাশা রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসন হবে।

সমাপনীতে আইজিপি ড. বেনজির আহমেদ বলেন, অপরাধী হিসেবে কেউ জন্ম নেয় না- কোন পরিস্থিতি তাকে অপরাধী করে তোলে। শুধু অপরাধ দমন নয়, নানা কর্মমুখী পরিকল্পনায় অপরাধীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাও অব্যহত রেখেছে র‍্যাব। পরিশুদ্ধতায় অপরাধীকে পুনর্বাসনে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো হয় অনেককে। জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বিশ্বে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। এ প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছে র‍্যাব। এভাবেই সোনার বাংলা বিনির্মাণ সম্ভব।

র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অপরাধে জড়ানোর ঝুঁকিতে থাকা কক্সবাজারের ৩৬ তরুণ-তরুণীকে স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণ দিয়েছে র‌্যাবের নতুন প্রকল্প ‘নবজাগরণ’। কক্সবাজার থেকে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অপরাধ ঝুঁকিতে থাকা লোকদের চিহ্নিত করে এ প্রকল্পের আওতায় এনে স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য উৎসাহিত করবে র‌্যাব।

তার মতে, ‘নবজাগরণ’ হলো র‌্যাবের আর্লি ইন্টারভেনশন বা দ্রুত সমাধান প্রকল্প। এ প্রকল্পে যাদের নির্বাচিত করা হয়েছে, তারা এখনো অপরাধে জড়াননি- তবে জড়ানোর ঝুঁকিতে ছিলেন।

কক্সবাজারের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যটন নির্ভর পেশা, হোটেল-রেস্টুরেন্টে সার্ভিস বয়, ফটোগ্রাফার, ট্যুরিস্ট গাইড, ড্রাইভিং, সার্ফিংকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পরিবারের নারী সদস্যদের দেয়া হয়েছে সেলাই প্রশিক্ষণ। সবাই মিলে কাজ করলে আমরা সফল হবো।

আরো বক্তব্য রাখেন, প্রশিক্ষণ পাওয়া তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, শায়েকা আকতার মুক্তা, জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, সায়মন বিচ হোটেলে এমডি মাহবুবুর রহমান, মেয়র মুজিবুর রহমান, এসপি মাহফুজুল ইসলাম, ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব আকতার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, এমপি জাফর আলম, এমপি আশেক উল্লাহ রফিক, এমপি সাইমুম সরোয়ার কমল, নারী সাংসদ কানিজ ফাতেমা আহমেদ প্রমূখ।

সভায় জানানো হয়, ‘নবজাগরণে’র ব্যাপ্তি পর্যায়ক্রমে বাড়বে। জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে মাঠপর্যায়ে গ্রাম্য বৈঠক, কমিউনিটি বেজড নানা কর্মসূচি, সভা-সেমিনার এবং মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে। র‌্যাবের নতুন এই কার্যক্রমে এরই মধ্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হয়েছে।

আরো জানানো হয়, কক্সবাজারে পরীক্ষামূলক প্রকল্পে ড্রাইভিংয়ে ৫ জন, সেলাই কাজে ১০ জন, টুরিস্ট গাইডে ৫ জন, ফটোগ্রাফার ৫ জন, সার্ভিস বয় ৬ জন, সার্ফিংয়ে ৫ জন মিলিয়ে ৩৬ জনকে নির্বাচিত করে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণ পাওয়াদের মাঝে ১১ জন নারীও রয়েছে। যাদের নির্বাচন করা হয়েছে, তারা অপরাধের ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য আইকন হবেন।

তথ্য মতে, যাদের পাইলট প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে, তাদের বয়স ২০-৩০ বছর। তারা কোনো উৎপাদনশীল কাজে জড়িত ছিলেন না। কেউ স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে, কেউ বেকার, কেউ আবার অল্প শিক্ষিত। আবার কেউ ভবঘুরে টাইপের। কেউ ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করলেও মানসম্মতভাবে ছবি তুলতে পারেন না। উপার্জন বহুমুখী করতেই তাদের নবজাগরণের আওতায় আনা হয়েছে।

র‌্যাব সূত্র জানায়, এর আগে ‘নবদিগন্তের পথে’ নামের প্রকল্প নিয়ে কাজ করেছে র‌্যাব। এর মাধ্যমে ৪২১ অপরাধীকে আত্মসমর্পণ করিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যার মধ্যে ১৬ জন জঙ্গি এবং সুন্দরবন ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৪০৫ জন জলদস্যু ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মজীবী, এনজিও প্রতিনিধি, পেশাজীবি, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ তুলেদেন প্রধান অতিথি।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা