বাংলাদেশ, , শনিবার, ১ অক্টোবর ২০২২

‘নবজাগরণ’র মাধ্যমে ৩৬ তরুণ-তরুণীকে স্বাবলম্বী করবে র‌্যাব

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০২২-০৯-১৫ ১৫:৪৩:১১  

 

‘নবজাগরণ’ নামে নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে র‌্যাব। এই প্রকল্পের আওতায় অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন ৩৬ তরুণ-তরুণীকে স্বাবলম্বী করে তোলা হচ্ছে। কক্সবাজার থেকে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অপরাধ ঝুঁকিতে থাকা লোকদের চিহ্নিত করে এ প্রকল্পের আওতায় এনে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য উৎসাহিত করবে র‌্যাব।

‘নবজাগরণ’ হলো র‌্যাবের আর্লি ইন্টারভেনশন বা দ্রুত সমাধান প্রকল্প। এ প্রকল্পে যাদের নির্বাচিত করা হয়েছে, তারা এখনো অপরাধে জড়াননি। তবে জড়ানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রকল্পের স্লোগান হলো ‘অপরাধকে না বলুন।’

প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যটননির্ভর পেশা যেমন হোটেল-রেস্টুরেন্টে সার্ভিস বয়, ফটোগ্রাফার, ট্যুরিস্ট গাইড, ড্রাইভিংকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পরিবারের নারী সদস্যদের দেওয়া হবে সেলাই প্রশিক্ষণ।

র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ‘নবজাগরণে’র আওতায় সমাজের পিছিয়েপড়া, শিক্ষা থেকে ঝরেপড়া এবং বেকার ও স্বল্প উপার্জনকারীদের স্বাবলম্বী করার প্রয়াস হাতে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ‘নবদিগন্তের পথে’ নামের প্রকল্প নিয়ে কাজ করেছে র‌্যাব। এর মাধ্যমে ৪২১ অপরাধীকে আত্মসমর্পণ করিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যার মধ্যে ১৬ জন জঙ্গি এবং সুন্দরবন ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৪০৫ জন জলদস্যু ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাব সদরদপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘নবজাগরণে’র ব্যাপ্তি পর্যায়ক্রমে বাড়বে। জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে মাঠপর্যায়ে গ্রাম্য বৈঠক, কমিউনিটি বেজড নানা কর্মসূচি, সভা-সেমিনার এবং মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। র‌্যাবের নতুন এই কার্যক্রমে এরই মধ্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা যুক্ত হয়েছেন।

তিনি বলেন, পরীক্ষামূলক প্রকল্পে আমরা ৩৬ জনকে নির্বাচিত করেছি। প্রশিক্ষণের জন্য চার-পাঁচজন করে ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। যাদের নির্বাচন করা হয়েছে, তারা অপরাধের ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য আইকন হবেন।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, যাদের পাইলট প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে, তাদের বয়স ২০-৩০ বছর। তারা কোনো উৎপাদনশীল কাজে জড়িত নয়। কেউ স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে, কেউ বেকার, কেউ আবার অল্প শিক্ষিত। আবার কেউ ভবঘুরে টাইপের। কেউ ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করলেও মানসম্মতভাবে ছবি তুলতে পারেন না। উপার্জন বহুমুখী করতেই তাদের নবজাগরণের আওতায় আনা হয়েছে।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের উপ-পরিচালক মেজর রইসুল আজম মনি বলেন, র‌্যাবের কর্মপন্থায় যুক্ত হওয়া ‘নবজাগরণ’ সমাজের অপরাধপ্রবণতা কমাতে অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, নবজাগরণের মাধ্যমে যাদের সমাজের মূল ধারায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাদের কিছু প্রশিক্ষণ র‌্যাব কর্মকর্তারা সরাসরি দিয়েছেন। এক্ষেত্রে র‌্যাবের সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা হয়েছে। বাকি প্রশিক্ষণ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দেওয়া হয়।

সূত্র-জাগোনিউজ


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা