বাংলাদেশ, , শনিবার, ১ অক্টোবর ২০২২

লোভে পড়ে সন্তানকে ডাকাত সর্দার বানিয়েছে পিতা আনসার মেম্বার

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০২২-০৯-১০ ২১:৩৩:৪৪  

ছবি-অস্ত্রসহ আটক জলদস্যু।

 

সাম্পতিক সময়ে বঙ্গোপসাগরে ১৬ টি মাছ ধরার নৌকা ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ জলদস্যুকে আটক করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম। এসময় তাদের কাছ থেকে ১টি বোট, আনুমানিক ৩ হাজার পিস ইলিশ মাছ, মাছ ধরার রড় জাল, ৩টি ওয়ান শুটারগান, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ১৬টি দা ও ছুরি, ১টি বাইনোকুলার, ৪টি টর্চ লাইট, ২টি চার্জ লাইট, ২টি হ্যান্ড মাইক, ৭০ টি মোবাইল, নগদ ৫ হাজার ৭’শ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

৪৮ ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোঃ নুরুল আবছার।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চট্টগ্রামের বাঁশখালীর আনসার মেম্বারের ছেলে ও ডাকাতির ঘটনার মূলহোতা আনোয়ার, কবির আহমেদের ছেলে লিয়াকত মাঝি, আব্দুল কাদেরের ছেলে মনির, মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে ইঞ্জিন চালক আবুল খায়ের, মৃত আব্বাছেরে ছেলে নবী হোসেন, মৃত মুক্তার আহমেদের ছেলে নেজাম উদ্দিন, আব্দুল কাদেরের ছেলে হুমায়ুন, হাজী আবুল হাসানের ছেলে সাহেদ, আবু তাহেরের ছেলে সাদ্দাম, মো: ইব্রাহীমের ছেলে আতিক, জহিরের ছেলে এমরান এবং মৃত ইসলাম মিয়ার ছেলে আমান উল্লাহ।

এদিকে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে ১২ ডাকাত আটকের ঘটনায় র‌্যাব-৭ এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল এম এ ইউসুফ বলেন, গত ২৭ আগষ্ট সাগরে ৯টি মাছ ধরার বোটে ডাকাতি করে একদল ডাকাত। ডাকাতির ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে র‌্যাব-৭। গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে যে, সাগরে বিভিন্ন মাছ ধরার বোটে ডাকাতি করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে লেঃ কর্ণেল এম এ ইউসুফ’র নেতৃত্বে ২টি চৌকষ দল ও র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে গভীর সমুদ্রে গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৮ ঘন্টার রুদ্ধাশ্বাস অভিযান পরিচালনা করে করে দস্যুতার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ১২ জলদস্যুকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতরা জিজ্ঞাসাবাদ জানায়, আনছার মেম্বার ও তার দলের মূল্য উদ্দেশ্য ছিল অল্প পরিশ্রমে অধিক মুনাফা লাভ করা। এর জন্যই নিজের সন্তানকে ডাকাত সর্দার বানিয়ে বোট ডাকাতি করার জন্য সাগরে প্রেরন করে। এছাড়াও আটককৃত আসামীদের স্বীকারোক্তি মতে তারা পূর্বের ৯টি এবং বর্তমানে ৭টিসহ সর্বমোট ১৬টি বোট ডাকাতি করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাদের পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের মিডিয়া শাখার কর্মকর্তা মো: নুরুল আবছার।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা