বাংলাদেশ, , শনিবার, ১ অক্টোবর ২০২২

ফাইনালে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০২২-০৯-০৮ ১৩:৩৭:৫৮  

ফাইল ছবি।

 

প্রকাশ্যে দুই পক্ষই লড়ল, কিন্তু অলক্ষ্যে তৃতীয় পক্ষও আশা-নিরাশায় দুলতে থাকল। মাঠে খেলল পাকিস্তান-আফগানিস্তান, অন্যদিকে শারজার অদূরে পাম জুমেইরার হোটেলে একই সঙ্গে স্বপ্ন জাগল এবং ডুবল ভারতের।

পাকিস্তান জিতলেই যেখানে এশিয়া কাপ থেকে ভারতের বিদায়, সেখানে হারার আগে হারল না আফগানিস্তানও। পুঁজি যদিও ছিল খুবই অল্প, তবু একেকজন হাল না ছাড়া নাবিক হয়ে উঠলেন দুই আফগান পেসার ফজল হক ফারুকি ও ফরিদ আহমেদ।

 

তাঁরা টপাটপ উইকেট নেন আর সঙ্গে সঙ্গে এশিয়া কাপে টিকে থাকার স্বপ্ন জেগে উঠতে থাকে ভারতের। আবার শাদাব খান আর আসিফ আলীদের ছক্কায় তা ডুবতেও থাকে ক্ষণে ক্ষণেই।
এভাবেই রোহিত শর্মাদের স্বপ্ন জাগরণ আর অবগাহনের মধ্যে হাতবদল হতে হতে ম্যাচ ছুঁয়ে যায় চরম নাটকীয় এক সমাপ্তির সীমানা। মাত্র ১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৬ বলে ১১ রানের সমীকরণ অবশ্য পাকিস্তানের জন্য একটু কঠিনই ছিল। কারণ উইকেটে যে স্বীকৃত কোনো ব্যাটারই ছিলেন না তখন। ৯ উইকেট হারিয়ে বসে থাকা বাবর আজমের দলও নিশ্চয়ই বোলার নাসিম শাহের ব্যাটে জয়ের আশায় ভরসা পাচ্ছিল না।

কিন্তু ব্যাট হাতে সত্যি সত্যিই ভরসা হয়ে উঠলেন ডানহাতি এই ফাস্ট বোলার। শেষ ওভার শুরুর আগে ২২ বলে ৩৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে হারের চৌকাঠে গিয়ে দাঁড়ানো পাকিস্তানকে নাসিম সেখান থেকে ফেরালেনই না শুধু, আফগান বাঁহাতি পেসার ফারুকিকে প্রথম দুই বলেই লংঅফ দিয়ে মারা দুই ছক্কায় সব হিসাব-নিকাশেরও অবসান ঘটালেন। ৪ বল বাকি থাকতে ১ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয়ে তাই ১১ সেপ্টেম্বরের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার সঙ্গী হলো পাকিস্তান।

তাতে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের হাতে শোভা পাওয়া আফগান পতাকাগুলো নেমে গেল হুট করেই। উড়ল শুধু পাকিস্তানের পতাকাই। সাকলায়েন মুশতাক হেড কোচ হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান দলের অনুশীলনের সময় মাঠে জাতীয় পতাকা পোঁতাই থাকে। এই ম্যাচের আগে গা গরমের সময়ও থাকল। আফগানিস্তানের সাফল্যের সঙ্গে নিজেদের ভাগ্য জড়িয়ে থাকায় এই ম্যাচে ভারতের পতাকাও অলক্ষ্যে উড়ছিল শেষ ওভার শুরুর আগ পর্যন্ত। কিন্তু বোলার নাসিমের জোড়া ছক্কায় সেটি নেমে গেল যেমন, তেমনি সুপার ফোর থেকে হাত ধরাধরি করে বিদায় নিল ভারত-আফগানিস্তানও।

আফগান ব্যাটিংয়ে বারুদ থাকলেও শারজায় গতকাল সেভাবে জ্বলল না। ইব্রাহীম জাদরান (৩৭ বলে ৩৫) ও হজরতউল্লাহ জাজাই (১৭ বলে ২১) ছাড়া আর কেউই পারলেন না ২০ পার হতে। তাতে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের ভূমিকাও কম নয়। তবে রান তাড়ায় স্বপ্নের ডেলিভারিতে শুরুতেই ভিন্ন বার্তা দেন ফারুকি। ডানহাতি ব্যাটারের জন্য ভেতরে বল ঢোকালেন এই বাঁহাতি, আর তাতে পাকিস্তান ইনিংসের প্রথম বলেই লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে বিদায় হলেন বাবর (০)। রান তেমন করতে না পারলেও নাজিব উল্লাহ জাদরান (১১ বলে ১০ রান) কাজের কাজ ঠিকই করলেন সরাসরি থ্রোতে ফখর জামানকে (৫) রান আউট করে।

ম্যাচের দিনই আইসিসির টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে বাবরকে টপকে সেরা ব্যাটারের জায়গা নেওয়া মোহাম্মদ রিজওয়ান (২৬ বলে ২০) তখনো থাকায় পাকিস্তানের অত দুশ্চিন্তার কিছু ছিল না। রশীদ খান এসে তাঁকে এলবিডাব্লিউ করার পরও নয়। কারণ এর পরই ইফতিখার আহমেদ (৩৩ বলে ৩০) ও শাদাব খানের (২৬ বলে ৩ ছক্কা ও ১ চারে) ব্যাটে পাকিস্তান ইনিংসের সর্বোচ্চ ৪২ রানের পার্টনারশিপ।

ম্যাচ পাকিস্তানের দিকেই ঝুঁকে তখন। কিন্তু হঠাৎ করে ছন্দঃপতন। ফরিদ ফেরান ইফতিখারকে। রশীদের বলে নিজের তৃতীয় ছক্কা হাঁকানোর পরের বলেই থার্ডম্যানে ক্যাচ হন এর আগে লেগস্পিনে ২৭ রানে ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়া শাদাবও। এরপর জোড়ায় জোড়ায় শিকার ধরার শুরু ফারুকি (৩/৩১) ও ফরিদের (৩/৩১)। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে ফারুকির অফকাটারে এলবিডাব্লিউ সুপার ফোরে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের জয়ের নায়ক মোহাম্মদ নেওয়াজ। শেষ বলে বোল্ড খুশদিল শাহও। পরের ওভারেই ফরিদের শিকার হারিস রউফ এবং নেমেই দুই ছক্কা হাঁকানো আসিফ আলীও। নবম ব্যাটার হিসেবে আসিফের বিদায়ে দুই দলের উত্তেজনাও এমন চরমে পৌঁছে যে ফরিদের সঙ্গে তাঁর লেগেও যায়। পেছন থেকে কিছু একটা বলতেই ফরিদের দিকে ব্যাট উঁচিয়ে তেড়ে যান আসিফও।

এরপর সেই শেষ ওভার। এবং এশিয়া কাপ থেকে ভারতের পতাকা নামিয়ে দেওয়া সেই দুই ছক্কা নাসিমের! হেলমেট ছুড়ে, লাফিয়ে উল্লাস করতে থাকা পাক ক্রিকেটারদের ভিড়ের পাশে দেখা গেল ওয়াসিম আকরামও হাই ফাইভ করছেন নাসিমের সঙ্গে। ধারাভাষ্যকারের পেশাদারি ভুলে এই কিংবদন্তির উল্লাসই জানান দিচ্ছিল যে এই ম্যাচের উত্তেজনা কতটা তুঙ্গে পৌঁছেছিল।

সূত্র-কালেরকণ্ঠ


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা