মঙ্গলবার, ১৮ Jun ২০২৪, ০৬:১৪ অপরাহ্ন

ভাসে চোখে কেয়ামতে—আল্লাহর দরবার

ভাসে চোখে কেয়ামতে—আল্লাহর দরবার

অনলাইন বিজ্ঞাপন

আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স

[হজ্ ইসলামের পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। হজের একটা ঈমান উদ্দীপনা ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে। এর প্রতি লক্ষ্য না রাখলে হজের মহত্ব, তাৎপর্য ও মূল উদ্দেশ্যে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। কুফর ও শিরক পরিবেশিত এক শক্তিশালী পরিবেশে এক মুমিন বান্দাহ খালেস তাওহীদের ঘোষণা করেন। তারপর বাতিল যালেম শক্তির চরম বাধা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ঈমান, তাকওয়া, ইখলাস, লিল্লাহিয়াত, এশক ও মহব্বত, ত্যাগ ও কুরবানী নির্ভেজাল নিরঙ্কুশ আল্লাহর আনুগত্য ও পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণের নজিরবিহীন প্রেরণা ও আমলের দ্বারা ইসলামের পূর্নাঙ্গ ইতিহাস তৈরী করেন এবং তাওহীদ ও এখলাসের এমন এক কেন্দ্র তৈরী করেন যা দুনিয়ার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার থেকে বিশ্ব মানবতা তাওহীদের পয়গাম পেতে থাকবে।

এ ইতিহাসকে নতুন করে স্মরণ করার জন্যে এবং মানুষের মনে আবেগ উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করার জন্যে প্রতি বছর দূরদূরান্ত থেকে তাওহীদের প্রেম পাগল পতঙ্গসমূহ ওই কেন্দ্রে জমায়েত হয়ে ওইসব কিছুই করে যা তাদের নেতা ও পথ প্রদর্শক হযরত ইবরাহীম (আ) করেছিলেন। উঠতে বসতে চলতে ফিরতে সকাল সন্ধ্যায় তাদের এ একই ধ্বনিতে হেরেমের গোটা পরিবেশ গুঞ্জরিত হতে থাকে আয় আল্লাহ! তোমার দরবারে তোমার গোলাম হাজির আছে। প্রশংসা ও স্তুতি একমাত্র তোমারই, দয়া করা তোমারই কাজ, তোমার প্রভুত্ব কর্তৃত্বের কেউ শরীক নেই।এই অনুভূতির উত্তুঙ্গ মেছাল বর্তমান লেখাটি। এখানে সদ্য হজ করে আসা প্রবাসী একদম্পতির তীব্র অনুভূতি ব্যক্ত হয়েছে। সেই অনুভূতিমালা দুই পর্বে পত্রস্থ করা হলো এখানে।বি.]

আমরা হাঁটছি তো হাঁটছি মীনা অভিমূখে। সূর্য সামনের পাহাড়ের উপর থেকে এতক্ষণ উঁকি দিচ্ছিল। এখন সে আর একটু উপরে উঠে এসেছে। সে দেখছে অসংখ্য মানুষের ঢল। চলেছে মীনা অভিমূখে মহান আল্লাহর পরবর্তি নির্দেশ পালনার্থে। রাতে আমরা সবাই কাটিয়েছি নিয়মানুসারে বিশাল মুজদালিফা ময়দানে। যা আরাফা ও মীনার মধ্যখানে অবস্হিত।তার আগে সারাদিন কাটিয়েছি আরাফার ময়দানে। ছোট ছোট তাবুর নীচে যেখানে এক হয়েছে—ভাষা,জাতি,চেহারা,বর্ণ-নির্বিশেষে বিশ্বের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান। যেখানে তারা সারাদিন নামাজ,জিকির,দোয়া ও মহান রাব্বুল আল-আমিনের কাছে সারা জীবনের ভুল, ত্রুটি,গোনাহ-গাথার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও মোনাজাত করে কাটিয়েছেন।এই সেই আরাফাত যেখানে আদম ও হাওয়া দুনিয়ায় আসার পর সূদীর্ঘ তিনশ’ বৎসর কেঁদে-কেটে আল্লাহ পাকের ক্ষমা পেয়েছিলেন। সে কথা অন্যত্র হবে।

বিভিন্ন ভাষা,রং,দেশ,কাল,পাত্র ভেদে সবাই মহান সৃষ্টিকর্তা এক ও অদ্বিতীয় লা-শরীক আল্লাহর পথে তার হুকুম পালনার্থে ধীর পায়ে অগ্রসর হচ্ছে।সবার মুখে একই উচ্চারণ। একই ভাষা, একই কথা—‘লাব্বায়েক,আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক,লাব্বায়েক লা শরীকালাকা লাব্বায়েক,ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মূলক ,লা শরীকা লাকা।[একে তালবিয়া পড়া বলে] ‘হাজির, প্রভু আমি হাজির,তুমি লা শরীক তোমার কোন অংশী নাই,সকল প্রশংশা তোমার,সকল রাজত্ব তোমার,সকল নেয়ামত তোমারই,তুমি এক অদ্বিতীয় লা শরীক আল্লা্হ।’…মক্কা শরীফে পৌঁছার পর প্রথম ওমরাহ পালন করি, এরপর আমরা এহরাম (দুইটি সাদা চাঁদর একটি পরার জন্য একটি গায়ে দেওয়ার জন্য ,যা ঢাকা থেকে পরে গিয়েছিলাম)হুজুরের কথামত খুলে ফেলি ও স্বাভাবিক পোশাক পরিধান করি। আমরা কিছু ঐতিহাসিক স্হান পরিভ্রমণ করি। আমরা মদীনা শরীফ গমন করি। ৯/১০ দিন অবস্হান ও এবাদাত বন্দেগী পালনের পর মূল হজ্জের উদ্দ্যেশে এবার মদিনা শরীফ ছাড়ি এবং নির্দিষ্ট মিকাত-স্হানে পুরুষরা পুন:‘এহরাম’পরি,ও মাত্র দু ফিতা ওয়ালা একটি সাধারণ চপ্পল,একান্ত দীনহীন বেশ অবলম্বন করি।মেয়েদের বাঁধা ধরা নিয়ম নেই,পোশাক,স্যান্ডেল,বোরখা ইচ্ছা মত,পর্দাই প্রধান,তবে সবার মুখমণ্ডল খোলা।ছেলেরা জোরে জোরে ,মেয়েরা নম্রভাবে তালবিয়া পড়বে,‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক…, প্রভু আমি হাজির ,আমি হাজির.হাজির আছি।…’মনে হল এই তো জীবন,এটাই তো জীবনের উদ্দেশ্য,জীবনের পরাকাষ্ঠা এটা ,যিনি জীবন দিয়েছেন ,যিনি মৃত্যু দিবেন ,যার কাছে হিসাব নিকাশ দিতে হবে ,তাঁর কথাই তো শুনব।যিনি অফুরান নেয়ামতে ,জীবন গড়েছেন,পূর্ণ করেছেন।আমার এমন কি কারণ থাকতে পারে যে তাঁর এবাদত করব না।কলেমা, নামাজ,রোজা,হজ,জাকাত,তাঁরই আদেশ।আমি আমার সমস্ত দেহমন বাক্যে আমি তা মানব,চলব প্রিয় নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরিকা অনুসারে।আমার তো আর কোন দিকে তাকাবার দরকার নেই।এটাই-তো জীবনের মূল কথা ও বারতা হওয়া উচিৎ।

আমাদের সাথে গমনকারি একদল কাফেলা তার লোকজনকে ডেকে রাস্তার ধারের ছোট গাছ তলায় আধা রোদ -ছায়ায় বসাল্ বলল,সময় পাঁচ মিনিট। আমরা ফের চলা শুরু করব।দেখাদেখি আমাদের গাইডও আমাদেরকে বসাল।অল্প পানি খেতে হবে, এক ঢোক বা দু ঢোক, বেশী নয়।আবার প্রয়োজনে খেতে হবে এক ঢোক বা দু ঢোক ।চোখে মুখে মাথায় সবাই পানি ছিটাচ্ছে সামান্য একটু নিয়ে।বোতলটি ব্যাক প্যাকে রেখে দিলাম।

মীনা পাহাড় সমৃদ্ধ এলাকা।গমন ক্রমেই ভূমি থেকে১০/১২ ডিগ্রি ইনক্লাইনের দিকে নিচ্ছে,সূর্যের তাপ বেড়ে চলেছে,মানুষ গলদ ঘর্ম হয়ে উঠেছে।কিন্ত সে দিকে তাদের ভ্রুক্ষেপ নেই,তাদের উৎসাহে ভাটা নেই, নেই মুখের জিকিরে কমতি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের স্মরণে তথা তালবিয়া(লাব্বায়েক..)তে তাদের দেহমন জিহবা সিক্ত রাখছে। এত কষ্টেও অন্তরের তুষ্টিতে তারা তুষ্ট,ভরপুর এবং খুশি। হে খোদা, হে আমার মহান প্রভু,হে আমার সৃষ্টিকর্তা,হে আমার প্রতিপালক আল্লাহ, আমি গোনাহগার,পাপি-তাপি বান্দা। কিন্ত তোমার পেয়ারা নবী,পেয়ারা হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উন্মতের মধ্যেই,তাঁরই পবিত্র অছিলাই,তাঁরই পবিত্র পরিচয়ে আমাদেরকে মাফ করো, ক্ষমা করো হে আমাদের প্রভু।

রাস্তা সরু হচ্ছে।সকাল সাড়ে নয়টার সূর্য। খুব বেশী বেলা হয়নি। তবু ছড়াচ্ছে প্রখরতা। কারণ সে যে মরুভূমির সন্তান তা সে জানান দিচ্ছে।ছোট ছোট গাছগুলো যার তলে আমরা বসেছিলাম, তা পিছনে পড়ে গেছে,সামনে পড়ে আছে ন্যাড়া রাস্তা।বৃক্ষহীন রাস্তার এক পাশে ফেন্স দেওয়া,ও পাশে ঢালু বৃক্ষহীন নেড়া পাহাড় । ক্ষীণ বৃষ্টির এদেশে সবুজ পাহাড়ের দৃশ্য আশা করা যায়না। আমাদের কাফেলা চলছে,খুৎ,পিপাসা, ক্লান্তি আমাদের সাথে সাথেই চলেছে।কিন্ত দর্শনীয় যে এই সব ক্লান্তি দেশী বিদেশী কারও মুখে কোনরূপ ক্লান্তির পরশ বুলাচ্ছে না। সমগ্রকষ্ট,পরিশ্রম,তাদের একমাত্র কাম্য খোদা তালার সন্তষ্টি আদায় করা।

আজ মীনায় প্রবেশ করে প্রথম কাজ হবে বড় জামেরা বা বড় শয়তানকে মুজদালেফা থেকে রাতে কুড়ানো ৭০টি কংকরের মধ্যে প্রথম ৭টি কংকর এক এক করে বেলা বারটার মধ্যে (তালবিয়া-‘লাব্বায়েক’ পড়া-বন্ধ করে, )শুধু আল্লাহুআকবার,আল্লাহু আকবর ধ্বনী দিয়ে শয়তানকে মারা।পরদিন নিয়মমাফিক বড়টি সহ মোট তিনটি শয়তানকে পুনরায় ৭x৩=২১ টি পাথর মারা।পরদিন পুনরায় ৭x৩=২১টি পাথর পুনরায় মারা।মোট ৪৯টি পাথর মারা হলো। বাকিগুলো অতিরিক্ত(প্রয়োজনার্থে)কুড়িয়ে রাখা।তারপর ক্রমধারায় কোরবানী করা, মাথামুণ্ডণ করা, এহরাম খুলে সাধারণ পোষাক পরিধান করা ও পুনরায় কাবা শরীফ তওয়াফ করা এবং ঐ রাত্রেই মীনাতে ফেরত এসে রাত্রি যাপন করতে হবে।

জনগণের বিলিকৃত ছোট ছাতা আমার মাথায়,আমার স্ত্রীও পেয়েছেন কিন্ত তিনি তা রেখে এসেছেন। মাথায় বোরকা ও কিছু বাড়তি কাপড় চোপড় জড়িয়ে ও হালকা ভিজিয়ে নিয়েছেন অন্যের দেখাদেখি ও মরুভূমির সূর্য সামলাচ্ছেন।আমার পা চলছে ঘসে ঘসে।স্ত্রী আগে আগে চলছেন ও কব্জি ধরে খানিকদূর টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। রাস্তার পাশে পাওয়া যাচ্ছে শীতল বা স্বাভাবিক পানির ফোয়ারা। তার থেকে হাত পা ভিজিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অল্প পান করে বোতল ভরে ব্যাকপ্যাকে রাখা হচ্ছে।খুৎ, পিপাসা,ছায়াহীন নেড়া রাজপথ।চারিদিকের নেড়া পাহাড় সব। একই দিকে এগিয়ে চলেছে।ইন্দোনেশিয়ার দল আগে চলে যাওয়ায় তিনি বাংগালী মেয়ের তেজী মন নিয়ে এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।মুখে বললেন আমি কারও পিছে থাকতে রাজি নই।আমি বাধা দিলাম। বলা্লাম,ওরা ভিন্ন জাত।ওদের নাওয়া ,খাওয়া,ঘুমানোর সঠিক সময় রয়েছে আমাদের মত এলো মেলো এলাকার লোক না। না খাওয়ার সঠিক সময়,না নাওয়ার সঠিক সময়,বা বিশ্রাম বা ঘুমের সঠিক সময় রয়েছে। আমরা যেদিন সঠিক সময়ে নাওয়া,খাওয়া,বিশ্রামে অভ্যস্হ হব—সেদিন বিদেশীদের সাথে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করব।তাছাড়া একটি সান্ত্বনার বাক্য প্রয়োগ করলাম।কোথাও যেন পড়েছিলাম: উট আস্তে চলে তাই দিন-রাত চলে সে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, কিন্ত দ্রুতগামি তাজী দ্রুতবেগে কোথাও থেমে পড়ে।

সামনে একটি টানেল এল,কিছুটা আশ্রয় কিছুটা ছায়া।সবাই বসল।ক্ষুধা পিপাসাকাতর সবাই।কিন্ত মুখে তার ছাপ নেই। সবাই সহ্য করছে কেউ কিছু বলছে না।টানেলের বাইরে স্হানীয় কালো মেয়েরা টানা সূর্যের নীচে ঠাণ্ডা বোতল পানি ও কলা নিয়ে বসেছে।স্ত্রীকে বসিয়ে ও গুলোর দিকে এগুলাম।ভাংতি নেই,কামিং কামিং বলে মাল নিয়ে চলে এলাম।মেয়েটি একবার তাকাল কিছু বলল না । স্ত্রীর থেকে দ্রুত ভাংতি নিয়ে যেতেই দেখি ভিড় লেগে গেছে।দুই বোতল ঠাণ্ডা পানি, চারটে কলা ,খামসা- পাঁচ,আসরা- দশ, আংগুলে আংগুলে যোগ করে দেখিয়ে ভাব প্রকাশ করল।আমি টাকা দিতেই,মেয়েটি মাল নিয়ে এল,বল্লাম,মাল পেয়েছি,কামিং কামিং বলেছিলামনা সেই টাকা।এ সময় এক বিপত্তি ঘটল আর সে বিপত্তিই আমাদেরকে কাহিল করে তুল্ল, তরুণ বাংগা্লি গাইড তিড়িং পিড়িং করে সর্টকাট রাস্তা খুঁজতে গিয়ে নিজেই হারিয়ে গেল।এদিকে পুলিশের সময় শেষ,টানেল থেকে বেরিয়ে যেতে হবে,অন্যরা আসবে,‘যাও হাজি,আল্লাহর রাস্তায় আবার বের হও,আজকের তোমাদের এই কষ্ট আল্লাহর কাছে লেখা থাকবে ,এর থেকে উৎকৃষ্ট প্রতিদান সেদিন আখেরাতের ময়দানে পাবে,আমাদের জীবন আখেরাত মুখি।আমরা আল্লাহর নির্দেশ পালনে এগিয়ে চলেছি, দুনিয়ার কষ্ট কিছুই না ,আরামেই থাক,কষ্টেই থাক ,দুনিয়ার জীবন একদিন শেষ হবে,আখেরাতের অনন্ত জীবনে কেউ হিসাব দিয়ে উৎরাতে পারবেনা,একমাত্র আল্লাহর অপার রহমত ও প্রিয় নবী (দ:)এর শাফায়াতের আশা ব্যতিরেকে।আল্লাহ তোমাদেরকে মাফ করুন,তোমাদের পিতা মাতাকে মাফ করুন।

আমরা বেরিয়ে এলাম। বিশ্রাম নেওয়ায় সূর্যতাপ বেশী অনুভূত হচ্ছে। গাইড হারিয়ে যাওয়ায় আরও অসহায় হলাম ।তবে সব কাফেলার গন্তব্য একই পথে একই দিকে এই যা।আল্লাহর উপর ভরসা করে এগিয়ে চল্লাম। সামনে যারা ছিল অপেক্ষাকৃত তরুণ—মনে হল যেন পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে।তাছাড়া আজকের সূর্য যেন তাদের তাড়াচ্ছে। তারা একটু দ্রুত পা ফেলে সামনের মোড়ে হারিয়ে গেল।আমরা ধীর গতি সম্পন্ন ‍দুটো পরিবার পিছিয়ে পড়লাম। আমি তো পা ঘেঁসটে ঘেঁসটে চলেছি।কোন সেল্টার খুঁজছি,কোন ছায়া, কোন আশ্রয়। একমাত্র রাস্তার ধারের পানির ঠাণ্ডা ফাউন্টেন থেকে পানি বোতলে নিয়ে একঢোক নিয়ে খাওয়া ও হাতে গায়ে মুখে মুখে ছিটানো। বেশী খাওয়া যাবে না।অনেক রকম অসুবিধা আছে।বাথরূম চাপতে পারে , কন্ঠ সামান্য শুকনো মনে হলে, জান বাঁচাতে হবে,তবু পেট ভরে নয়, বরং,অল্প এক দুই ঢোক পানি খেতে হবে।বেশী করে চোখে মুখে ঘাড়ে হাতে মাথায় সবাই পানি ঢালছে।একটি ইন্দোনেশিয়ান জামাত ধীর পায়ে অগ্রগামি হয়ে গেল।নিজস্ব গাইডকে অনুসরণ করছে তারা, নিজস্ব কসটিউম বোরকার উপর একটি করে লাল ফুল পরস্পরের পরিচিতি আকর্ষণ করছে।এবার আসছে সম্ভবত চীন বা টার্কি,সবাই গলদঘর্ম,আনত দৃষ্টি ,মুখে আমাদের মত আল্লাহর জিকির রয়েছে, আমারও যে ধ্বনী তাদেরও সে ধ্বনী,‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক,… ‘লাব্বায়েক লা শরীকালাকা লাব্বায়েক,ইন্নাল হামদা নিয়ামাতা লাকা ওয়াল মুলক,লা শরীকালাকা…’ সবাই সমস্বর তুলছে,হাজির,আমি হাজির,হে খোদা আমি হাজির ,তুমিই সকল নেয়ামতের আধার।।

তাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ নেই,তারাও আমাদের ভাই বোন,বিশ্ব মুসলিমের অংশ ।আমরা অত্যান্ত ছোট্ট একটি দেশের অধিবাসি।আমেরিকায় সহজে কেউ চিনতে পারে না,শধু হেসে মাথা ঝাঁকায়।কিন্ত আজ মনে হল,আমরা ছোট নই,ক্ষুদ্র নই,তুচ্ছ নই,আমরা বৃহৎ।আমাদের আশে পাশে সব আমাদেরই আপন ভাই বোন ।‘জগৎ আসিয়া হেথা করেছে কোলাকুলি’,ঐযে আবলুস কাঠের মত রং ,লম্বায় চওড়ায় সমান টানা শক্তিশালী দেহ-আফ্রিকার কালো মানুষ।এই যে সুন্দর অবয়ব ও স্নিগ্ধ ব্যবহারের অধিকারি আরব মানুষ,ঐযে মালয় বংশোদ্ভুত ইন্দোনেশিয়া,মালয়েশিয়া,ব্রুনাই,সিংগাপুর,থাইল্যাণ্ডের মানুষ গুলো,এই যে হলুদসাদা একটু নাক চেপটা শক্তিশালী চীনের মানুষগুলো,ঐযে আর এক সুদশর্ন শক্তিশালী টার্কি, ইরানের মানুষগুলো—একি এযে একদম সাহেবমানুষ।কসভো,বসনিয়ার,হারযেগোভিনিয়ার সাহেবের মত রংয়ের মানুষ গুলো। ইয়োরপ,আমেরিকার মানুষ গুলো, এই যে ইন্দো,পাক,বাংলার ভদ্র মানুষগূলো।যারা আজ এই পবিত্র ভূমিতে আল্লাহর অপার রহমতে আসতে সক্ষম হয়েছে,তাদের সার্বিক ও সর্বমোট উদ্দেশ্য একটিই একই আল্লাহ,একই রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উদ্দেশ্য সেই একই কোরান,একই হাদিসের অনুসারণ করে মহান আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি অর্জন করা।পরিসংখ্যন অনুসারে বিশ্ব জগতে শান্তিপূর্ণভাবে ছড়ান ছিটান ১.৬ বিলিয়ন বৃহত্তর মুসলিম জনগোষ্ঠির একটি পরিচিত অংশ বাংলাদেশ।আমার বাংলাদেশ। আমাদের কথাবার্তা,চেহারা,রং আলাদা হতে পারে,কিন্ত ধর্ম এক,অন্তরের ভাষা এক, মুখের বুলি এক,গমন এক,উঠা বসা এক,উদ্দেশ্য এক,আকাংখা এক,এক আল্লাহ রসুলের অনুসারি।এক ও অভিন্ন জাতিসত্তার অধিকারি।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM