সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজার সৈকতে মরা জেলিফিশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে

ডেস্ক নিউজ:
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০২২
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

জোয়ারের পানিতে অসংখ্য মরা জেলিফিশ ভেসে আসছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। সৈকতের একাধিক পয়েন্টে আটকে পড়ে আছে এসব জেলিফিশ। গত সোম থেকে বুধবার পর্যন্ত সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অসংখ্য মরা জেলিফিশ বালুতে আটকে থাকতে দেখা গেছে।

এসব জেলিফিেেশর মধ্যে কিছু আকারে ছোট আবার কিছু অনেক বড়।

দেখতে অনেকটা অক্টোপাসের মতো। তবে এগুলো কী কারণে মারা যাচ্ছে এর সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সাগরে জেলেদের জালে আটকা পড়েই জেলিফিশ মারা যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের দরিয়ানগর পয়েন্ট থেকে হিমছড়ি ও রেজু খালের মোহনা পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ কিলোমিটারের একাধিক পয়েন্টে জোয়ারের পানিতে অসংখ্য মরা জেলিফিশ ভেসে এসে আটকা পড়ছে। মরা এ জেলিফিশগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলে গোটা সৈকতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় জেলেদের কাছে এসব জেলিফিশ সাগরের ‘নুইন্যা’ হিসেবে পরিচিত।

বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা কেন্দ্রের (বোরি) প্রধান সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে এ বিষয়ে বলেন, ‘সাগরে এসব প্রাণীগুলো সামুদ্রিক ভীমরুল হিসেবে পরিচিত। অত্যন্ত বিষাক্ত এসব জেলিফিশ সামুদ্রিক মাছের যম। ব্যাপক হারে মৎস্যসম্পদ ধ্বংস করে এসব জেলিফিশ। ’

তিনি জানান, ‘সাগরে ৫০ প্রকারের জেলিফিশ রয়েছে। তন্মধ্যে এসব ‘বক্স জেলিফিশ’ মাছের জন্য সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর। প্রচুর মাছ খেয়ে ফেলে এসব বক্স জেলিফিশ। বিষাক্ত হওয়ার কারণে জেলিফিশের সঙ্গে স্পর্শ হওয়া মাত্রই যেকোনো মাছ মারা যায়।

তিনি আরো জানান, সামুদ্রিক কাছিমের অন্যতম প্রধান খাদ্য হচ্ছে জেলিফিশ। কাছিমের চেয়ে জেলিফিশের উপদ্রব বেশি হলে সামুদ্রিক মাছের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সাগরে জেলিফিশের মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করতে নমুনা সংগ্রহ করার কথাও জানান তিনি।

সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার জানান, টানা ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকার কারণে মাছের সাথে জেলিফিশের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। এখন জেলেরা সাগরে জাল ফেলে মাছ ধরতে গিয়ে হয়তো জালে আটকা পড়ছে এসব জেলিফিশ। অনেক ভারী হওয়ায় জেলেরা তা সাগরে ফেলে দিচ্ছে। পরে জোয়ারের পানিতে তীরে ভেসে আসছে। এদিকে গভীর সমুদ্রে জেলেদের জালে এসব জেলিফিশ আটকা পড়ে মারা যেতে পারে বলে ধারণা করছে স্থানীয়রাও।

কক্সবাজারের জয়নাল নামের এক জেলে জানান, তিন-চার দিন আগে তাদের জালে বিপুল পরিমাণ জেলিফিশ ধরা পড়েছিল। তারা জাল থেকে সমুদ্রে ফেলে দিয়েছেন এসব।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বদরুজ্জামান বলেন, এখন জেলিফিশ মারা যাওয়ার কোনো মৌসুম নয়। হয়তো জেলিফিশ উপকূলের কাছাকাছি এসে জেলেদের জালে আটকা পড়ছে। পরে জেলেরা মাছগুলো ফেলে দেওয়ায় মরা মাছ সৈকতের বেলাভূমিতে ভেসে আসছে।

সূত্র-কালেরকণ্ঠ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102