বাংলাদেশ, , শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২

স্বাস্থ্যগত কারণে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে হতে পারে না

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-০৯-২০ ০৯:৫১:১৯  

আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স:

e7bbed97aebb029dc47ea92d11fa2bd2-300স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম বলেছেন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে এমন কোনো শর্ত থাকবে না যা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর বিয়েকে উৎসাহিত করবে। স্বাস্থ্যগত কারণে ১৮-এর নিচে মেয়েদের বিয়ে হতে পারে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গতকাল শনিবার প্রথম আলো আয়োজিত ‘বাল্যবিবাহ রোধে দ্রুত আইন পাস ও বাস্তবায়ন চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ গোলটেবিল বৈঠকে সহযোগিতা করেছে বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন ও চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন, বাংলাদেশ। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম।

এ দেশে ১৯২৯ সাল থেকে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন আছে। তবু বিশ্বে বাল্যবিবাহপ্রবণ দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ বছরের নিচে ও ২০৪১ সাল নাগাদ ১৮ বছরের নিচে বিয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের একটি খসড়া মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদন করে। প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় বিয়ের বয়স ১৮ বছর থাকছে; তবে ‘যুক্তিসংগত কারণে’ ১৮ বছরের পরিবর্তে ১৬ বছরে বিয়ে দেওয়া যেতে পারে এমন একটি অংশ জুড়ে দেওয়া হয়েছে-পত্রপত্রিকায় এমন সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। গতকাল এ নিয়েও আলোচনা হয়।

বিয়ের বয়স নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আইনে কোনো তবে-টবে থাকবে না। একটা সুযোগ দেওয়া হলে ওই ধরনের লোকেরা সুযোগ নেবে। স্বাস্থ্যগত কারণে ১৮-এর নিচে বিয়ে হতে পারে না।’ তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ নয়, একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে। বাল্যবিবাহের পক্ষে গণভোট হলে ১০ শতাংশ ভোটও পড়বে না বলে মন্ত্রী মন্তব্য করেন।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়াটি দৃশ্যত নারী ও শিশুবান্ধব বলে মন্তব্য করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। আইনে যদি ১৬ বছরের নিচে শর্তসাপেক্ষে বিয়ের সুযোগ রাখা হয় তবে আবার ১৯২৯ সালে ফিরে যাওয়া হবে বলে তিনি দাবি করেন। এ ছাড়া আইনে আপসের যে সুযোগ রাখা হয়েছে সেটিরও অপব্যবহার হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কারও শৈশব হরণ করার ক্ষমতা কে কাকে কবে দিয়েছে’ তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ হয়েছেন। তাঁর এ অর্জনে আমাদের গৌরব বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা চাই, তিনি চ্যাম্পিয়ন অব পিপল, চ্যাম্পিয়ন অব উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন হন।’

তবে বাল্যবিবাহ রোধে আইন একটি মাধ্যম, একমাত্র মাধ্যম নয় বলে মনে করেন অনুমিত হিসাব-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল মতিন খসরু। তিনি বলেন, ‘বাল্যবিবাহ রোধে ধর্মীয় নেতাদের গুরুত্ব অনেক। শীতকালে বাংলাদেশের বহু গ্রামে ওয়াজ হয়। বাল্যবিবাহ বন্ধে তাঁদের কাজে লাগানো প্রয়োজন।’

আইনটি কোথায় কী অবস্থায় আছে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মতামত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অন্যদিকে আইন কমিশনের মুখ্য গবেষণা কর্মকর্তা ফউজুল আজিম বলেন, আইন তৈরির প্রক্রিয়ায় কমিশনকে যুক্ত করা হয়নি। তাই কমিশন জানে না আইনে আসলে কী থাকছে। জরিমানা বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৯২৯ সালে যখন আইনটি হয়, তখনো বাল্যবিবাহ হতো এবং জরিমানাকে বিয়ের খরচ হিসেবে ধরা হতো। এর চেয়ে যে অভিভাবক অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে দিচ্ছেন তাঁর জন্য শুধু জেল জরিমানা নয়, অন্য ধরনের শাস্তির বিধানও রাখা যেতে পারে। যেমন তাঁকে এক মাস পাড়ার রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার মতো শাস্তি দেওয়া যেতে পারে।’ সমাজে এ ধরনের শাস্তির প্রভাব বেশি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাংসদ নূরজাহান বেগম মুক্তা বলেন, আইনের চেয়েও জনসচেতনতা বেশি জরুরি। তিনি বলেন, একটি জরিপ বলছে, ৭৬ দশমিক ২২ শতাংশ অভিভাবক জানেন বিয়ের বয়স ১৮। জেনেশুনে-বুঝে অভিভাবকেরা অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছেন।

গোলটেবিল বৈঠকে ওয়ার্ল্ড ভিশনের অ্যাডভোকেসি পরিচালক চন্দন জেড গোমেজ বলেন, সরকারের চেষ্টায় বাল্যবিবাহের হার আগের চেয়ে কমেছে। কিন্তু যে হারে বাল্যবিবাহ হচ্ছে তাতে ২০৩০ সাল নাগাদ বাল্যবিবাহের শিকার শিশুর সংখ্যা দাঁড়াবে ১ কোটি ৫৪ লাখ। তাঁরা চান দ্রুত আইনটি পাস হোক।

ওয়ার্ল্ড ভিশনের অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার সাবিরা নূপুর বলেন, মাঠপর্যায়ে সরকারের সংস্থাগুলোকে আইনটির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে।

বৈঠকে তিনজন শিশু প্রতিনিধি অংশ নেয়। এদের একজন কেরানীগঞ্জের আল আমিন বলে, তার প্রতিবেশী এক কিশোরী বধূকে প্রতিদিন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পেটায়। কিছুই করতে না পারার কষ্টে ভোগে সে। তবে এ পর্যন্ত দুটি বাল্যবিবাহ সে ঠেকাতে পেরেছে বলে জানায়।

শিশু প্রতিনিধি তানিয়া আক্তার বলে, বেশির ভাগ সময় ইভ টিজিংয়ের মতো সমস্যা থেকে মেয়েদের বাঁচাতে অভিভাবকেরা বিয়ে দিচ্ছেন। ইভ টিজিংয়ের শিকার হলে পরিবার মেয়েদের ঘাড়েই দোষ চাপানো হচ্ছে।

অন্যদিকে মো. নিজাম হোসেন বলে, শিশু হয়ে শিশুদের বিয়ে ঠেকাতে গেলে তারা সব সময় প্রশাসনের সহযোগিতা পায় না। থানা থেকে বলা হয় অভিভাবকদের নিয়ে আসতে। এটি বাল্যবিবাহ রোধে তাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ বলে জানায় সে।
উৎস: প্রথম আলো


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা